মনের অন্দরমহলরিডিং রুম

জায়ানের মৃত্যু ও একদল পিশাচের উল্লাস!

বোমা হামলায় কেঁপে উঠেছে শ্রীলঙ্কা, কলম্বোর বেশ কয়েকটি গীর্জা এবং হোটেলে সিরিজ বোমা হামলায় ইতিমধ্যেই নিহতের সংখ্যা দুইশো ছাড়িয়েছে, সময়ের সাথে সেটা বাড়ছে ধীরে ধীরে। খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের উৎসব ইস্টার সানডে’র দিনে চালানো হয়েছে এই হামলা, লক্ষ্যবস্তু ছিল গীর্জা আর হোটেল। এই হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে বিদেশী নাগরিকও আছেন, আছে বাংলাদেশী এক শিশুও। গোপালগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরী। বেশ কয়েকটি দৈনিক এবং অনলাইন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে এই খবরের ঠিক নিচেই মৃত এই শিশুটাকে নিয়ে অকথ্য নোংরামিতে লিপ্ত হতে দেখা গেল কিছু অমানুষকে!

কলম্বোর গীর্জাগুলোতে এখনও বিস্ফোরণের দাগ টাটকা, যীশুর মূর্তি রঞ্জিত হয়েছে নিহতদের লাল রক্তে। হোটেল আর গীর্জা মিলিয়ে মোট আট জায়গায় হামলা চালিয়েছে উগ্রপন্থী হামলাকারীরা, এরা সবাই মুসলমান বলেই জানানো হয়েছে শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তারক্ষীদের তরফ থেকে।

শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা এবং তার স্বামী মশিউল হক চৌধুরী তাদের সন্তানদের নিয়ে শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিলেন বেড়াতে। ইস্টার সানডে’র দিন সকালে যখন তারা হোটেলের রেস্টুরেন্টে নাস্তা করছিলেন, তখনই হামলা হয় সেখানে। হামলায় নিহত হয় জায়ান, আর জায়ানের বাবা মশিউল হক আহত হন এই হামলায়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জায়ানের মৃতদেহ আগামীকাল দেশে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটা গুরুত্ব পেয়েছে সব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেই। বাংলাদেশী মিডিয়াতে জায়ানের মৃত্যুর খবরটা এসেছে হামলার কিছুক্ষণ পরেই। আর সেসব খবরের ফেসবুক লিঙ্কের নিচে একদল অমানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সদ্যমৃত এই বাচ্চা ছেলেটাকে গালাগালি করতে! জায়ানের ‘অপরাধ’, সে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি, সে আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আর তাই বরাহশাবকের দল মনুষ্যত্ব ভুলে তার মৃত্যুকে ‘সেলিব্রেট’ করতে নেমে পড়েছে!

একজন ব্যক্তি হিসেবে, বা রাজনীতিবিদ হিসেবে হিসেবে শেখ সেলিমকে কারো পছন্দ না হতেই পারে, আওয়ামী লীগকেও কারো ভালো না লাগতে পারে, সেটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাই বলে একটা শিশুর মৃত্যুতে এভাবে উল্লাস করার মানে টা কি? এটা কোন ধরণের পৈশাচিক আচরণ? কেউ কেউ আবার বলেছে, মুসলমান হয়ে তারা কেন গীর্জায় গিয়েছিল? গণ্ডমূর্খের দল এটাও জানার চেষ্টা করছে না যে, জায়ানদের ওপরে হোটেলে হামলা হয়েছিল, গীর্জায় নয়।

তার মানে যারা গীর্জায় হামলায় নিহত হয়েছেন, তারা সমবেদনা পাবার যোগ্য নন? অন্য ধর্মাবলম্বী বলে তাদের জন্যে আমরা সহমর্মিতা জানাবো না? নিউজিল্যান্ডের মসজিদে যখন হামলা হলো, তখন এই মানুষগুলোই নিহতদের শহীদ আখ্যা দিয়েছিল। এখন তাহলে দ্বিচারিতা কেন? নিহতরা মুসলমান নয় বলে? হামলার ঘটনাস্থলে মসজিদের জায়গায় গীর্জা বলে? নাকি হামলাকারীরা মুসলমান বলে?

শিশু জায়ানের মৃত্যু নিয়ে যারা বাজে মন্তব্য করতে পারে, এরা কেউ মানুষ নয়, এরা একেকটা পিশাচ। ফেরেশতার মতো একটা বাচ্চা মারা গেছে অকালে, এমন জঘন্য হামলার নিন্দা না করে একদল লাইফলেস লোকজন যখন ‘যাক, একটা আওয়ামী লীগ কমসে দুনিয়া থেকে’ ভেবে খুশিতে বগল বাজাতে পারে, সেই লোক ওই হামলাকারীদের মতো ঠান্ডা মাথায় মানুষ খুনও করতে পারে। হাতে একটা গুলিভর্তি বন্দুক ধরিয়ে দিলে এদেরও খুনী হয়ে উঠতে এক মূহুর্তের বেশি সময় লাগবে না।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button