সিনেমা হলের গলি

ধর্ম আর ফিল্মি ক্যারিয়ারের মধ্যে ধর্মকেই বেছে নিলেন জায়রা ওয়াসিম

দাঙ্গালে গীতা ফোগাটের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছিলেন। তারপর সিক্রেট সুপারস্টার তাকে এনে দিলো খ্যাতি আর তুমুল জনপ্রিয়তা, অভিনয়ের জন্যে দারুণ প্রশংসিত হয়েছিলেন। ফারহান আখতার এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে ‘স্কাই ইজ পিঙ্ক’ নামের নতুন একটা সিনেমায় অভিনয় করছেন, সেটার গল্পও তাকে কেন্দ্র করেই। সেই কাশ্মিরী কন্যা জাইরা ওয়াসিম হুট করেই জানালেন, বলিউডের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করতে চলেছেন তিনি, এই জায়গাটা, বা এই কাজটাকে একদমই উপভোগ করছেন না তিনি! অভিনয়ের সঙ্গে তার ধর্মীয় বিশ্বাস সাংঘর্ষিক, এমন যুক্তি দেখিয়েই বলিউডকে বিদায় বলতে চলেছেন জায়রা!

ফেসবুকে দেয়া বিশাল এক স্ট্যাটাসে জায়রা যেটা লিখেছেন, সেটার সারমর্ম হচ্ছে, এই ফিল্মি ক্যারিয়ারটা তার ধর্মীয় বিশ্বাসের পথে বাধার সৃষ্টি করছে, আর সেকারণেই ধর্ম আর ক্যারিয়ারের মধ্যে তিনি ধর্মকে বেছে নিয়েছেন।

জায়রা লিখেছেন- “পাঁচ বছর আগে আমি এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যেটা আমার জীবনকে চিরকালের মতো পাল্টে দিয়েছিল। বলিউডে পা রাখাটা আমার জন্য তুমুল জনপ্রিয়তার একটা দরজা খুলে দিয়েছিল। যুব-সমাজের অনেকের কাছেই আমি রোল মডেল হয়ে উঠেছিলাম।”

“কিন্ত এটা স্বীকার করতে আমার দ্বিধা নেই, আমার এই পরিচিতি, অর্থাৎ আমি এখন যে পেশায় আছি তাতে আমি সত্যিকারের পরিতৃপ্ত তা বলতে পারি না। আমার সর্বক্ষণই মনে হচ্ছে, অন্য কেউ একজন হয়ে ওঠার প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমি, যে জায়রা আমি ছিলাম, যে সাধারণ মেয়ে হয়ে আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, সেই স্বত্বাটাকে ক্রমশ হারিয়ে ফেলেছি আমি।”

“এই দুনিয়া আমার জন্য অনেক ভালোবাসা, সমর্থন, পুরস্কার আর প্রশংসা এনে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর পাশাপাশি আমাকে একটা অজ্ঞানতার পথেও ঠেলে দিয়েছে। যার ফলে আমি নীরবে ও অবচেতনভাবে আমার ঈমান (ধর্মবিশ্বাস) থেকে ক্রমশ বিচ্যুত হয়ে পড়ছিলাম।”

জায়রা তার বিশাল ফেসবুক স্ট্যাটাসে পবিত্র কুরআনের বেশ কয়েকটি আয়াত টেনে এনে বলেছেন, কেন তিনি এই ক্যারিয়ারটা বিসর্জন দিতে চলেছেন। জায়রা লিখেছেন, “এই ধরনের পরিবেশে কাজ করতে করতে দেখলাম যে এটা আমার ইমানে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, ধর্মের সাথে আমার সম্পর্কের ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত নিজের সাথে লড়তে হচ্ছিল আমাকে, সেই লড়াই চালিয়ে যাওয়াটা কখনও কখনও দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে, বাইরে থেকে হয়তো সেটা বোঝা যায় না। শুধু একবার নয়, শত শতবার চেষ্টা করেও আমি সেই লড়াইটাতে জিততে পারিনি।”

এর আগেও ডিপ্রেশনে ভোগার কথা জানিয়েছিলেন জায়রা। কাশ্মিরের এক ধর্মপ্রাণ পরিবার থেকে বলিউডের রূপালী জমিনে হঠাৎই উঠে আসা জায়রা বরাবরই ভুগেছেন আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে। মুসলমান আর তারকা- এই দুই পরিচয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে এই কিশোরী।

গত বছর ভীষণ অবসাদগ্রস্ত বোধ করছেন জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন জায়রা। সেই পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, গত চার বছর ধরে দিনে পাঁচ বার করে অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট খেতে হয় তাকে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুম হয় না। এমনকি মানসিক অবসাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কখনও কখনও তাঁর আত্মহত্যার চিন্তাও মাথায় ভর করতো।

মাত্র সতেরো বছর বয়সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি, অনেক তারকা অভিনেতা- অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারেও নেই যে অর্জনটি। আঠারো বছর বয়স এখন জায়রার, কলি থেকে ফুল হয়ে ফোটার এই সময়টাতেই ধর্ম আর ফিল্মি ক্যারিয়ারের মধ্যে ধর্মকে বেছে নিয়ে তার অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই। ‘স্কাই ইজ পিঙ্ক’- এর শুটিং শেষ হয়েছে, আর তাই সিদ্ধান্ত না বদলালে এটাই হয়ে থাকবে ফিল্মি দুনিয়ায় জায়রা ওয়াসিমের শেষ কাজ।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button