ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

দয়া করে সাধারণ মানুষের কান্নাটা শুনুন…

খব‌রে পড়লাম ওয়াসার‌ “শতভাগ বিশুদ্ধ পা‌নি” দি‌য়ে প্র‌তিষ্ঠান‌টির এম‌ডি‌কে শরবত খাওয়াতে এসে‌ছি‌লেন রাজধানীর জুরাইন এলাকার বাসিন্দারা। ক‌য়েক‌দিন আগে ওয়াসার পানি শতভাগ বিশুদ্ধ এবং সুপেয়’ বলে ব্যাপক এমডি যে বক্তব্য দি‌য়ে‌ছেন তার প্রে‌ক্ষি‌তেই এই কর্মসূ‌চি।

জুরাই‌নের বা‌সিন্দারা বল‌ছেন, তা‌দের‌ এলাকার পানি খুবই খারাপ, দুর্গন্ধ ও ড্রেনের পানির মতো। ২০১২ সালে অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হয়নি। এখনো প্রতিদিন ময়লা পানি আসে। ফ‌লে কয়েক বছর ধরে তারা ওয়াসার পানি শুধুমাত্র গোসল, কাপড় ও বাসনকোসন ধোয়ার জন্য ব্যবহার করছেন। আর মসজিদের টিউবওয়েলের পানি কিনে খাচ্ছেন।

জুরাইন বাসীর প্রশ্ন, ওয়াসার এমডি কী মনে করে লাই‌নের‌ পানিকে শতভাগ সুপেয় বললেন তা তাদের বোধগম্য হয়নি। তাই তারা এমডির জন্য ওয়াসার বিভিন্ন কলের পানি নিয়ে এসে‌ছেন। এই পা‌নি দি‌য়ে লেবুর শরবত তৈরি করে এম‌ডি‌কে খাওয়াবেন। তিনি খেয়ে বলবেন, পানি কতটুকু সুপেয়।

ত‌বে ওয়াসার এম‌ডিকে তারা শরবত খাওয়া‌তে পা‌রেন‌নি। আজ বেলা ১১টার দিকে ওয়াসা ভবনে ঢুকতে চাইলে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। বলা হয়, এমডি সাহেব অফিসে নেই, তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

জুরাইন এলাকার বা‌সিন্দা‌দের দোষ দি‌য়ে কী লাভ? ঢাকার অ‌ভিজাত এলাকাগু‌লোর একটা না‌কি নি‌কেত‌ন। এখা‌নে ওয়াসার‌ পান‌ি‌তে যে দুর্গন্ধ খাওয়া তো দূ‌রে থাক, গোসল কর‌তেও কষ্ট হয়। আমি জা‌নি না ঢাকার কোন এলাকার বা‌সিন্দারা ওয়াসার পা‌নি ফু‌টি‌য়ে না খায়। এম‌নকি ওয়াসা নি‌জেই মিনা‌রেল ওয়াটার বের ক‌রেছ। লাই‌নের পা‌নি সুপেয় হ‌লে মিনা‌রেল কেন? ওয়‌াসার এম‌ডি যে বক্তব্য দি‌য়ে‌ছেন সেটা‌কে আমার শতাব্দীর আরেক সপ্তাশ্চার্য ঘটনা ম‌নে হ‌য়ে‌ছে।

জুরাইনবাসী ব‌লেছেন, ওয়াসার এম‌ডি কীভা‌বে ব‌লেন পানি বিশুদ্ধ! আমরা ক্ষুব্ধ। উনার পানি উনাকে খাওয়াতে এসেছি। শতভাগ সুপেয় পানির কথা অসত্য। এই কথার জন্য উনাকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে।

না পদত্যা‌গের সংস্কৃ‌তি বাংলা‌দেশে নেই। ওয়‌াসার এম‌ডি পদত্যাগ কর‌বেন না। আর তি‌নি খ‌ুবই ক্ষমতাশালী। আমার ম‌নে হয়, পদত্যাগ না করুন রোজ য‌দি,ওয়াসার এম‌ডিকে ঢাকার নানা লাইন থে‌কে প‌া‌নি এনে তার সব কর্মকর্তা কর্মচারী‌দের সকাল বি‌কেল এক গ্লাস ক‌রে খাওয়া‌নো যেত! ডায়‌রিয়া আর বাথরু‌মে দৌড়া‌তে দৌড়া‌তে তারা বুঝ‌তেন তা‌দের পা‌নি ক‌তোটা বিশুদ্ধ!

শুধু ওয়াসার এমডি না আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বে যারা আছেন তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সেবা সম্পর্কে জানা উচিত। আমাদের যে মন্ত্রীরা বলেন দেশের স্বাস্থ্য খাত ভালো তাদের সাধারণ পরিচয়ে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া উচিত। যে আমলা বা মন্ত্রী বলেন শিক্ষার মান ভালো তার সন্তানকে কেন সরকারি প্রাইমারিতে পড়ান না সেটা বলা উচিত।

পুলিশের যে বড় কর্তা বলেন তাদের সেবা সন্তোষজনক একদিন সাধারণ হিসেবে কোন থানায় যাওয়া উচিত। চাকুরি বা যে কোন ভেরিফিকেশনে পুলিশ কী করে সেটা জানতে তার উচিত নিজের আত্মীয় স্বজনের সাথে কথা বলা। যে আমলা বলেন প্রশাসন সেবা দিচ্ছে জনসাধারণকে তার একদিন উচিত ভূমিসেবা নিতে যাওয়া। ডাক্তারদের উচিত নিজের রোগ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া। বিচারকের উচিত নিজেই মামলা করা। ট্রাফিক পুলিশ আর বিআরটিএর কর্মকর্তাদের উচিত বাসে চড়া।

আচ্ছা রেল, বিআরটিএ, তিতাস, ওয়াসা, থানা, কোর্টসহ এই দেশের প্রতিটা খাতের এমন দুরাবস্থা কেন আমাকে কেউ বলতে পারেন? সর্বোপরি যারা কথায় কথায় বলেন দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে তাদের কাছে জানতে চাই কেন বিদেশে বাড়ি করছেন? কেন সন্তানদের বিদেশে পড়ান? কেন অসুস্থ হলে বিদেশে ছোটেন? ক্ষমতায় না থাক‌লে কেন আবার আফ‌সোস ক‌রেন? আপনারা যারা ক্ষমতাশালী বা বি‌ভিন্ন দা‌য়ি‌ত্বে আছেন সবাই‌কে বল‌বো, মানুষের কাছে যান। তাদের কান্না শুনুন। মানুষকে বুঝুন।

বল‌তে পা‌রেন স্বাধীনতার আর ক‌তো বছর পেরু‌লে মানুষজন একটু স্ব‌স্তি‌তে বাঁচ‌তে পার‌বে? আর ক‌বে?

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button