সিনেমা হলের গলি

কে কে মেনন ও তার আন্ডাররেটেড ‘ভদকা ডায়েরিজ’

কে কে মেনন- বলিউডে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর পর আমার অত্যন্ত পছন্দের একজন অভিনেতা। নওয়াজউদ্দিন এবং কে কে মেননের মধ্যে একটা কমন সাদৃশ্য হচ্ছে, দুজনের কাছ থেকেই সবসময় একটু ভিন্ন ঘরানার মুভি পেয়ে থাকি আমরা। হাজারো কমার্শিয়াল মুভির ভিড়ে এই মুভিগুলোর মেকিং, প্লট একটু ডিফারেন্ট টাইপের হয়। নওয়াজউদ্দিন, কে কে মেনন এক্সপেরিমেন্টাল ক্যারেক্টার করতে ভালবাসেন। নব্য পরিচালকেরাও সেজন্য বুঝি বারবার তাদেরকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার সাহসটা পান। “ভদকা ডায়েরিজ” এর ডিরেক্টর কুশল শ্রীবাস্তবের ডেব্যু মুভি এটা পরিচালক হিসেবে। বলা যায়, ডেব্যু মুভি হিসেবে তিনি বেশ ভালোভাবেই পাশ মার্ক্স পেয়ে গেছেন প্রথম মুভিতে। কে কে মেনন এই মুভির লিড এক্টর এবং মেননের ‘রহস্য’, ‘হায়দার’, ‘বেবি’, ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’- যারা দেখেছেন, তারা এই অভিনেতার প্রাণবন্ত অভিনয়ের সাথে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত।

কুশল শ্রীবাস্তব “The Post” কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “যদি আপনি শাটার আইল্যান্ড, ফাইট ক্লাব জনরার মুভিগুলো দেখে থাকেন, সেখানে বড় বড় এক আধটা টুইস্ট মুভি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই পেয়ে যাবেন, যেগুলো মুভির বাকিটা অংশ দেখার সময় আপনার ব্রেনে ভাবনার ঝড় তুলবে। আমি চেষ্টা করেছি, ভদকা ডায়েরিজেও সেম সিগ্নেচারটা রাখার জন্য।” মুভি শুরুর আগে মুভি নিয়ে হালকা পাতলা ঘাঁটাঘাঁটি করার সময় তাই একটু নড়েচড়ে বসি।

একটা ছোট্ট শহর মানালি। সেখানকার একজন নামকরা এসিপি হচ্ছেন অশিনী দিক্ষিত (কে কে মেনন), যার পরিবারে সদস্য বলতে শুধুমাত্র তার স্ত্রী শিখা (মন্দিরা দেবী)। স্ত্রী শিখাকে নিয়ে হলিডে শেষ করার পর শহরে ঢোকার পরপরই শহর জুড়ে ঘটতে থাকে একের পর এক খুন। খুনগুলো তদন্ত করতে গিয়ে অশিনী দিক্ষিত আবিষ্কার করে সবগুলো খুনই দিনশেষে ইঙ্গিত করছে ভদকা ডায়েরিজ নামক একটা হোটেল+ক্লাবের দিকে। মোটামুটি প্রথমে এটা সহজ ক্লু হিসেবে অশিনী ধরে নিলেও তদন্তের গভীরে যতই সে যাওয়ার চেষ্টা করে, ব্যাখ্যাহীন ঘটনার সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। অশিনী দিক্ষিত অনুভব করে প্রতিটা মুহূর্ত, কোথায় যেন কিছু একটা ঠিক নেই, কোথায় যেন কিছু একটা খাপছাড়া অবস্থায় আছে। রহস্যময় এক নারী মুচকি হেসে আড়াল থেকে তাকে দেখে, সে ব্যাপারে অশিনী দিক্ষিত ওয়াকিবহালও নয়। এরই মধ্যে হঠাৎ করে তার ওয়াইফ শিখাকে অপহরণ করা হয়। শিখাকে খোঁজ করার পরই শুরু হয় আসল রহস্য।

বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলা যায়, কোন কিছুই রিয়েল না। কোন কিছুকে রিয়েল বলে আমরা তখনই ধরে নেই যখন আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় সেই অবজেক্টকে আইডেন্টিফাই করে ব্রেনে সিগন্যাল পাঠায়। বাস্তবতা আসলে এরকমই। কিন্তু সেই পঞ্চইন্দ্রিয়ের কোনো একটা ইন্দ্রিয়ের সিগন্যালে যদি গড়মিল থাকে, পরমুহূর্তেই আমাদের বাস্তবতার অভাবনীয় পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়! আমাদের চিন্তা ভাবনার কাঠামোটাই তখন এটা বদলে ফেলে। মুভির বাকিটা অংশ দেখার সময় আপাতদৃষ্টিতে কঠিন কিন্তু সহজ সরল এই ছত্রের মাজেজা দর্শক উপলব্ধি করতে পারবেন। তবে একটা জিনিস সত্যি বলি, মনোযোগ দিয়ে দেখলে প্লটে আপনি কিছু গোঁজামিলও খুঁজে পাবেন। সেগুলো যদি আপনার চোখ এড়িয়ে যায় তাহলে বেটার, আগেই সেগুলো তুলে ধরে মুভির মজাটা কমিয়ে দিতে চাচ্ছি না।

মুভির লিড এক্টর যেহেতু কে কে মেনন, সে হিসেবে শুধু তার ক্যারেক্টার বিশ্লেষন করলেই আই থিংক এনাফ। অন্য যে ক্যারেক্টারগুলো আছে, স্ক্রিন প্রেজেন্স যতক্ষণ ছিল মোটামুটি সপ্রতিভ অভিনয়ই দেখেছি। স্ক্রিন প্রেজেন্স কম থাকায় নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগটাও ছিল তাদের কম। অশিনী দিক্ষিত ক্যারেক্টারে কে কে মেননের অভিনয় ছিল দুর্দান্ত। শুরুর দিকে যদিও তার অভিনয় একটু দুর্বল লেগেছে আমার কাছে, বাট যত সময় গিয়েছে মেনন চরিত্রের তত ভেতরে প্রবেশ করেছেন বলবো। পরিস্থিতি অনুযায়ী টেন্সড বিজিএম, মানালির শুভ্র বরফ আচ্ছাদিত লোকেশন প্লটের মিস্ট্রি ভাব বাড়িয়ে দিয়েছে।

বেশ আন্ডাররেটেড মুভিটা। অন্তত, আইএমডিবিতে ৫.৭ রেটিং এর চেয়ে বেশী ডিজার্ভ করে এটা।

Comments
Tags

Related Articles

Back to top button