অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

যে গ্রহে বছরের চাইতে দিন বড়!

পুরাণ মতে অসুরদের গুরুর নাম শুক্রাচার্য, অসুরগুরু শুক্রাচার্যের ছিলো সঞ্জীবনী মন্ত্র জানা, যার বলে শুক্রাচার্য দেবতা ও অসুরদের মধ্যকার যুদ্ধে নিহত সকল অসুরদের আবার বাঁচিয়ে তুলতো। রাতের আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র ভেনাসের বাংলা নাম শুক্র এসেছে গুরু শুক্রাচার্যের নাম থেকেই! সকালের আকাশে উদিত শুক্রগ্রহকে শুকতারা ও রাতে সন্ধ্যাতারা নামে ডাকা হয়। সূর্য থেকে দূরত্বের দিক থেকে শুক্রের অবস্থান দ্বিতীয়। আচার-আচরণগত সামঞ্জস্যের কারণে শুক্রকে পৃথিবীর বোন নামেও ডাকা হয়। আকার ও অন্যান্য আচরণগত মিল থাকলেও বসবাসের জন্যে এ গ্রহ একেবারেই অনুপযুক্ত, কারণ শুক্রের গড় তাপমাত্রা ৪৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদি আন্দাজ না থাকে শুক্র ঠিক কতটা গরম তবে জেনে রাখুন এখন অব্দি বাংলাদেশের রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৯৭২ সালের ৩০ মে রাজশাহীর ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস!

শুধু তাপমাত্রাই নয় অন্যান্য আরো অনেক কারণেই বেশ অদ্ভুতুড়ে এক গ্রহ শুক্র। লম্বা এ তালিকার কিছুটা নিয়ে হাজির আজকে-

উল্টোপথের যাত্রী- বাকি সব গ্রহের কক্ষপথ উপবৃত্তকার হলেও শুক্রগ্রহের কক্ষপথ গোলাকার। শুক্রের রয়েছে প্রতীপগতি, যার মানে অধিকাংশ গ্রহই পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরলেও শুক্র মহাশয় ঘোরেন পূর্ব থেকে পশ্চিমে! অর্থাৎ সূর্যের বিপরীতে। তাই এ গ্রহে সূর্যোদয় হয় পশ্চিমে আর সূর্যাস্ত পূর্বে।

শ্বাস নিয়েছ তো মরেছ- শুক্রগ্রহের বায়ুমন্ডলের প্রায় পুরোটাই কার্বন-ডাই-অক্সাইড পূর্ন। আর তাই মানুষের পক্ষে অসম্ভব শুক্রে প্রাণ খুলে শ্বাস নেওয়া।

জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড- সৌরজগতের সবচাইতে উত্তপ্ত গ্রহ শুক্র। মূলত পুরু মেঘের কারণে সূর্যালোকের বেশীরভাগই শুক্রের মেঘ ভেদ করতে পারে না। আর তা তখন পরিণত হয় তাপে। এর ফলেই এতটা উত্তপ্ত শুক্রগ্রহ। ওহ হ্যাঁ, খুবই স্বাভাবিক, শুক্রে নেই কোন জলের অস্তিত্ব! থাকবে কি করে, এই তাপমাত্রায় যে অনায়াসে গলে যাবে সীসাও!

চাপের বাপ- আকারে পৃথিবী থেকে সামান্য ছোট হলেও বায়ুমন্ডলের চাপে কিন্ত শুক্র বহু এগিয়ে। পৃথিবীর তুলনায় শুক্রের বায়ুমন্ডলের চাপ প্রায় ৯০ গুন বেশী!

প্রতিবেশী- দূরত্বের দিক থেকে পৃথিবীর সবচাইতে কাছাকাছি গ্রহ শুক্র। দূরত্ব মাত্র ২৬১ মিলিয়ন কিলোমিটার! তবে তা হলেও এখন অব্দি মানবসৃষ্ট কোনো কিছুই শুক্রে ১২৭ মিনিটের বেশী স্থায়ী হতে পারেনি।

আগ্নেয়গিরি- শুক্রের আগ্নেয়গিরির সংখ্যা সৌরজগতের যেকোনো গ্রহের চাইতে বেশী। ছোটবড় মিলিয়ে এ গ্রহে রয়েছে প্রায় ১ লক্ষের মতো আগ্নেয়গিরি, যার বড়টা লম্বায় আবার প্রায় ৫ মাইল।

নিঃসঙ্গ নক্ষত্র- সাদাত হোসাইনের তুমুল জনপ্রিয় উপন্যাস নয়, বলছি শুক্রগ্রহের কথাই! শুক্র বেচারা ভীষণ একা, কারণ এর নেই কোন চাঁদ বা বলয়। অথচ শনি গ্রহের চাঁদের সংখ্যা ৫৩ টি! এমনকি মঙ্গলেরও ফোবোস আর ডেইমোস নামে দুটি চাঁদ রয়েছে। কি কিউট না নাম দুটো!

বছরের চাইতে দিন বড়- শুক্র গ্রহের একদিন তার এক বছরের চাইতেও বড়! পৃথিবীর দিনের হিসেবে শুক্র গ্রহ সূর্য্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে ২২৫ দিন। অথচ আপন কক্ষপথ পরিভ্রমনে লাগে ২৪৩ দিন!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button