ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

আজকের ভিসি, আগামীকালের সিইসি!

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ইতিহাসে এক কিংবদন্তিতুল্য নাম সিইসি নুরুল হুদা। নির্বাচন ব্যবস্থার এক নতুন রসায়ন তিনি দেখিয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এইরকম ‘সুষ্ঠু’ নির্বাচন উপহার দেয়া সত্যিই অসাধারণ ব্যাপার। সারাদেশে আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। বিরোধীপক্ষ শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচারণা চালাতে পেরেছে। কোথাও আচরণবিধি লঙ্গণের ঘটনা ঘটেনি। ঘটবে কি করে! নুরুল হুদার মতো একজন সিইসি থাকতে কোনো অনিয়ম হতে পারে! তিনি নিজে একজন নিয়মের সম্রাট, নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনের কিংবদন্তি অগ্রদূত।

নির্বাচনকে সফল, স্বার্থক করার পরেও কিছু লোক তার গায়ে কালিমা মাখার চেষ্টা করেছে। বলেছে, সিইসি নুরুল হুদা মেরুদণ্ডহীন প্রাণী। এসব আসলে অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়। সিইসির নেতৃত্ব, বলিষ্ঠ ভূমিকায় নির্বাচনের আগের রাত থেকেই নির্বাচনের কেন্দ্রে ছিল নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। কেউ সেখানে ব্যালটবাক্সে জাল ভোট দিয়ে ভর্তি করতে পারেনি। ইসি ছিলেন সজাগ। এই নির্বাচনকে বলা যায় একটি মডেল নির্বাচন। সিইসি নিজেও তৃপ্ত এমন একটি নির্বাচন দিতে পেরে। এই ধরণের শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার পর তিনি বলেছিলেন, “আমি বারবার বলেছি, এ নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এটি সারা বিশ্বের জন্য। নির্বাচন যখন সমাপ্ত হল, তারপর পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে, বিভিন্ন কমিউনিটি থেকে আমাদের এই নির্বাচনের ব্যাপারে কমেন্ট করেছে। তারা তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছে। এই নির্বাচনকে তারা সফল নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছে।”

সিইসি নুরুল হুদা নির্বাচনের ভূমিকার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন আজীবন। কিন্তু, যেদিন তিনি থাকবেন না এই পদে, এরপর কাকে দেয়া হবে এই গুরুদায়িত্ব? নির্বাচন কমিশনার খুঁজতে নতুন করে কোনো রিয়েলিটি শো করার দরকার নেই। কারণ, আমরা ইতিমধ্যেই খুঁজে পেয়েছি একজন যোগ্য মানুষকে, যিনি পরবর্তী সিইসি হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। তিনি আর কেউ নন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান।

ভিসি আখতারুজ্জামান, ইসি নুরুল হুদা

ভিসি আখতারুজ্জামান সেই ভিসি, যিনি মনে করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দশ টাকায় খাবার পাওয়া যায়, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানতে পারলে গিনেজ বুকে নাম উঠবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। গিনেজ বুকে নাম উঠানোর মতো এরচেয়ে বড় ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছেন, ভিসি আখতারুজ্জামান। ২৮ বছর বাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি নির্বাচন আয়োজন করেছেন। এই নির্বাচন এক ইতিহাস। তিনি এতটাই দুর্দান্ত নির্বাচন করেছেন যে, একদম জাতীয় নির্বাচনের সাথে মিল খুঁজে পেয়ে গেছে অনেকে। সিইসি নুরুল হুদার মতো একটি নির্বাচন উপহার দিয়েছেন তিনি। কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। কোনো প্রার্থীর উপর হামলা হয়নি৷ সব হলে আনন্দমুখর পরিবেশ বিরাজমান ছিল। মেয়েদের হলগুলোতে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ছিল না কোনো জাল ভোটের ব্যালট। ছেলেদের হলগুলোতে ছিল না কোনো ফেক লাইন। অনাবাসিক ছাত্র পরিচয় শুনলেই সম্মান করে আগে আগে ভোটের লাইন করে দেওয়া হচ্ছিল। ফলে, ২৮ বছর পর একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটালেন ভিসি আখতারুজ্জামান। হলেন ডাকসুর প্রেসিডেন্ট। তিনি মেয়ের বাবা, তিনিই ছেলের বাবা, তিনি সব ছাত্রের অভিভাবক, তিনি মহান।

এই নির্বাচনের পর তিনি ভীষণ আনন্দিত। খুশিতে ডগমগ করছে তার চেহারা, জ্যোতি জেল্লায় কি সুন্দর স্নিগ্ধতা দেখেছি আমরা আজ। আমরাও খুশি এমন নির্বাচন দেখে। ভিসি বলেন, “শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। তারা গণতন্ত্রের রীতিনীতি অনুসরণ করেই ভোট দিয়েছে। আমি অনেকগুলো কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সেখানে শিক্ষার্থীদেরকে লাইন দিয়ে ভোট দিতে দেখেছি।”

আলবার্ট আইনস্টাইন, আখতারুজ্জামান

তার কথার সাথে খুব মিল আছে সিইসি নুরুল হুদার। নুরুল হুদার জাতির ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, ভিসি আখতারুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সময় এসেছে ভিসিকে আরো বড় দায়িত্বে সুপারিশ করবার। পরবর্তী সিইসি কে হবেন আমরা জানি না, তবে ভিসি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নির্বাচন দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের সেকেন্ড পার্লামেন্টখ্যাত ডাকসু নির্বাচন যেভাবে সুষ্ঠু করেছেন, তিনি জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্ব পেলে সিইসি নুরুল হুদাকেও ছাড়িয়ে যাবেন আমাদের বিশ্বাস!

মাননীয় ভিসি দীর্ঘজীবী হন, আপনার শিক্ষকতা জীবন ধন্য, ধন্য আপনার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস। আপনার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক, আপনি এভাবেই আমাদের গর্বিত করে যান, নিজেও আনন্দিত হন, আমাদেরকেও এভাবে আনন্দিত করে যান। এই নির্বাচনের সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ, আবেগে আমাদের চোখে জল এসে যায়। আমাদের চোখে জল নামানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ! স্যালুট স্যার, স্যালুট!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button