রিডিং রুমলেখালেখি

ভার্সিটির বন্ধুত্ব: সাপ সবই সাপ?

ভার্সিটির ফ্রেন্ডরা সাপ ইত্যাদি বলে প্রচুর পোস্ট সামনে আসে। আমার তেমনটা মনে হয় না। ভার্সিটিতে উঠেও যদি কেউ স্কুলের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলে, তার কাছে দুনিয়ার সবাইকে সাপ লাগবে। এটা ভার্সিটির ফ্রেন্ডদের সমস্যা না। তার নিজের সমস্যা।

নিজের পক্ষে বলছি, তাই শতভাগ নিশ্চিত নয়, তবে আমার জানামতে আমি আমার ভার্সিটির ফ্রেন্ড এবং ক্লাসমেটদের জন্য আগ বাড়িয়ে অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছি। যখন যার যে বিষয়ে হেল্প লেগেছে, চেষ্টা করেছি করার। এবং এই চেষ্টাটি করেছি কোনও রকম এক্সপেক্টেশন না রেখে। আমি ওর উপকার করলাম, কালকে ও আমার উপকার করবে, এসব চিন্তা ছিলো না। ভার্সিটির ফ্রেন্ডদের যারা সাপ ভাবেন, তারা সাধারণত এই এক্সপেক্টেশন রাখেন।

এমন উপকার করা বন্ধুদের কেউ কেউ পরে আমার এগেইন্সটে স্ট্যান্ড নেয়নি তা নয়। সেজন্য আমি তাদের ওপর মহাখাপ্পা হয়ে যাইনি, কাউকে সাপও ভাবিনি। তার কাজ করার সময় যদি এক্সপেক্টেশন রেখে কিছু করতাম, তাহলে আমি হতাম মহাগাধা, আর তখন সাপ-টাপ ভাবতে পারতাম।

গোটা পৃথিবীর মধ্যে নিয়ম এটাই, আপনার জন্য কেউ কিছু করবে এই সম্ভাবনা শুন্য। আপনি যদি কারও উপকার করতে যান, মাথায় রেখেই যাবেন যে এই মানুষটা আপনার কোনও উপকার জীবনেও করবে না, ক্ষতি করলেও করতে পারে। এটা মাথায় রেখে তার উপকার করতে পারলে করবেন, নচেৎ নয়।

অর্থাৎ সমস্যা অন্যদের সাপ ভাবা মানুষদের এক্সপেক্টেশনে। এক্সপেক্টেশন শুন্য রাখতে না শিখলে আপনার দোষ। ঐ ফ্রেন্ডের নয়, যাকে সাপ ভাবছেন।

Image Source: Pinterest

ক্লোজ ফ্রেন্ডদের আলাপে আসা যাক। ভার্সিটির প্রথম বছরেই এ নিয়ে এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছিলাম। কারণ সে ফ্রেন্ডশিপ বলতে বুঝতো স্কুলজীবনের ফ্রেন্ডশিপ। বন্ধু হতে হলে যে যার স্বকীয়তা নিয়ে চলতে পারবে না। বন্ধুদের স্রোতে তাল মেলাতে হবে। সার্কেলের সবার যদি কারও সাথে শত্রুতা থাকে, তাকেও তাল মিলিয়ে শত্রুজ্ঞান করতে হবে। দোস্ত বললে অজ্ঞান হয়ে যেতে হবে এবং নিজের পার্সোনাল প্রেফারেন্সের ওপর বন্ধুদের জায়গা দিতে হবে। এই ধাঁচের মানুষগুলো ভার্সিটি থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাপ-টাপ বলে। কাজেই আগেই আলবিদা।

ভার্সিটিতে ঢোকার আগেই, কলেজ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমার ফ্রেন্ডশিপ ধারণায় ম্যাচিউরিটি এসেছিলো। বন্ধু সেই জন, যে তার মতো থাকে, আমি আমার মতো থাকি, আমরা আমাদের সান্নিধ্য উপভোগ করি কেবল। আমার বন্ধু ঘোরতর নাস্তিকও হতে পারে। আমার বন্ধু আমার গার্লফ্রেন্ডকে ফাক করা ছেলের বেস্ট ফ্রেন্ড হতে পারে। তাতে করে আমার সাথে আমার বন্ধুর বন্ধুত্বে আঁচড় পড়বে কেন?

আবার বন্ধুত্বের জন্য ব্যক্তিত্ব যেন কেউ খুঁইয়ে না আসে। একজন বন্ধুর যদি ইচ্ছে করে আজকে সে ঘরে বসে মুভি দেখবে, এবং আমরা সবাই তাকে আড্ডার জন্য ডাকি, তার ইচ্ছে করে মুভিটা দেখতে, তবে সে ‘না’ বলতে পারছে কি না? ভাবছেন মুভি দেখা আর আড্ডা দেওয়ার মত সামান্য বিষয় নিয়ে কেন বলছি? বলছি এ কারণে, তাকে যদি এনাফ স্পেস সেই ফ্রেন্ড সার্কেল না দেয়, তবে সে এই ‘না’ বলার জায়গাটা হারায়। যে সার্কেলে প্রত্যেক সদস্য তাদের পার্সোনাল প্রেফারেন্স নিয়ে খোলাখুলি মত প্রকাশ করতে পারে না, ‘না’ বলতে পারে না, তাদের ফ্রেন্ডশিপটা ফ্রেন্ডশিপই নয়। চুক্তিপত্র মাত্র। অমুক অমুক বিষয় করতে পারবে এবং পারবে না-র চুক্তিপত্র।

Image Source: MensXP.com

‘না’ বলার মত স্বতঃস্ফূর্ত স্পেস না থাকলে সার্কেল ভাঙে, কারণ সার্কেলে থাকার জন্য নিজস্বতা লুকাতে হয়। এই নিজস্বতা খুব ক্ষুদ্র হতে পারে, কেপপ ভালো লাগার মত ছোট্ট কোনও পার্সোনাল প্রেফারেন্স সার্কেল থেকে শেমিংয়ের ভয়ে হাইড করে রাখাও হতে পারে। তবে এই ছোট্ট আর সামান্য জিনিসগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তি একটা বিষয় অবচেতনে অনুভব করেন— পরাধীনতা। Not being him/herself. লুকালুকি করে বন্ধুত্ব হয় না। পরবর্তীতে এমন সার্কেলগুলোর মানুষরা সাপ তত্ত্ব নিয়ে আসেন। দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হচ্ছে, উনারা বন্ধুত্ব করার সৌভাগ্য করে উঠতে পারেননি।

A man shouldn’t be known as the company he keeps. যদি বন্ধুবান্ধবের স্রোতে সার্কেলের ৫ জন বাধ্য হয়ে কমন এক পথ বেছে নেয়, কয় বছর পর সবাই সবাইকে সাপ ভাববে। All men are different from their companions & thus a true friendship borns.

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button