সিনেমা হলের গলি

গেম অফ থ্রোনস- মজার কিছু ফ্যাক্টস!

অপেক্ষার প্রহর ফুরিয়ে এলো বলে! শুরু হয়ে গেছে গেম অফ থ্রোনস সিরিজের সর্বশেষ সিজন। IMDB এর রেটিং অনুসারে সর্বকালের ৪র্থ সেরা সিরিজটির অজানা কিছু মজার ফ্যাক্টস নিয়েই আজকের লেখা!

টাকা আর টাকা- সিজন ৭ এর এক একটি এপিসোডের বাজেট ছিলো ১০ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এই সিজনে শুধু প্রোডাকশনেই খরচ হয়েছে ৭০ মিলিয়ন ডলার। একটা রাফ হিসেব করে দেখা যায় এখন পর্যন্ত এই শো-এর প্রোডাকশনে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় সেটা কত শুনতে চান? ৪ হাজার কোটি টাকা…

নামকরণের সার্থকতা- অন এয়ারের পর থেকেই এই শো এত সাড়া ফেলে যে নতুন মা-বাবারা গেম অফ থ্রোনসের প্রতি এক ধরনের ট্রিবিউট থেকেই এই শো এর ক্যারেক্টারের নামে বাচ্চাদের নাম রাখা শুরু করে। শুধু ২০১৪ সালে আমেরিকাতে প্রায় ১৬০০ বাচ্চার নাম রাখা হয় আরিয়া, আর ঐ বছর সবথেকে পপুলার নামের মধ্যে আরিয়া ছিলো ২১৬ নম্বরে। রেকর্ড অনুসারে ঐ সালেই খালিসি নাম রাখা হয় ৩৬৬ জন বাচ্চার। টিরিয়ন রাখা হয় ৬০ জনের নাম আর থিয়ন ১১ জনের। তবে এই বছরের পর আর থিয়নের নামে কোন নাম রাখার রেকর্ড পাওয়া যায়না। কেন সেটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন? অন্য দিকে অনেক খুঁজেও এই সময়ে কোন বাচ্চার নাম জফ্রি রাখা হয়েছিলো কিনা সেটা আর পাওয়া যায়নি।

ইন্ট্রো- প্রতিটি পর্বের শুরুর ইন্ট্রো ভিডিও কখনো মনযোগ দিয়ে দেখেছেন? এই ইন্ট্রোর একদম শুরুতে দেখানো ঘড়ির মত যন্ত্রটি লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির ডিজাইন করা এক মেশিন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো। তবে মূল কথা হচ্ছে সেটা না। প্রত্যেক এপিসোডের শুরুতে ম্যাপ দিয়ে শুরু এই ইন্ট্রো আসলে ঐ পর্বের একটা হিন্টস দেয়। যারা ভেবে রেখেছেন একই জিনিস আসলে দেখাচ্ছে সেই একই থিম মিউজিকের সাথে, তাঁরা ভুল ভেবেছেন। এই ইন্ট্রো মূলত ওয়েস্টরসে ওরিয়েন্ট করে। তবে এক একবার এক এক ভাবে। গল্পের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে ম্যাপগুলো চেঞ্জ হতে থাকে, ঘটনাপ্রবাহ যেখান থেকে যেখানে যাবে সেই অনুযায়ী ক্রমানুসারে এক এক জায়গা দেখানো হয়।

তিন সেকেন্ডের নাই ভরসা- একদম প্রথমে এক একটি এপিসোড তৈরির খরচ এর কথা বলেছিলাম। এবার এক একটি এপিসোড তৈরিতে কেমন সময় লাগে সেটা শুনি একটু। আসলে তৈরিতে না, শুধু শ্যুটিং এর কথা বলি। এডিটিং, ডাবিং এই সব বাদ। হাফিংটন পোস্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একবার এই সিরিজের এক প্রধান কলাকুশলী বলেছিলেন- “There’s been a clip for like three or four seconds, and then it’s taken us six weeks to prep it, and get it ready for that. One whole day of filming might actually be only three seconds of actual camera time.” অর্থাৎ কিনা, কখনো কখনো ৩ সেকেন্ডের ভিউয়িং টাইমের জন্য সেট রেডি করতে কয়েক সপ্তাহ লাগে আর শ্যুট করতে পুরো দিন চলে যায়…

এবার কিছু ‘ওয়ান লাইনার’-

* সোফি টার্নার (সানসা স্টার্ক) শো-তে দেখানো তার ডায়ার উলফ (আসলে এক ধরনের কুকুর) কে পোষার জন্য বাসায় নিয়ে গিয়েছেন।
* পিটার ডিঙ্কলেজ (টিরিয়ন ল্যানিস্টার) নিরামিষাশি। টিভিতে দেখানো মাংস খাবার দৃশ্যগুলোতে ঐগুলো আসলে মাংস ছিলো না।
* রব স্টার্কের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করা ওনা চ্যাপলিন চার্লি চ্যাপলিনের ভাগ্নি, আবার ড্যানেরিস এর ভাই ভিসেরিস এর চরিত্রে অভিনয় করা হ্যারি লোড হচ্ছেন চার্লস ডিকেন্সের নাতির নাতি।
* সার্সি আর টিরিয়ন, দুই ভাই বোন রূপে অভিনয় করা পিটার ডিঙ্কলেজ আর লিনা হ্যাডি বাস্তব জীবনে ঘনিষ্টতম বন্ধু। শোনা যায় সার্সির চরিত্রের জন্য পিটারই লিনাকে নিতে জোর করেন। শ্যুটিং এর সময় নাকি ওনারা কখনোই আই কন্টাক্ট করেন না, পাছে হেসে ফেলেন তাই।

* তুরস্কে সেনাবাহিনীর সদস্যের জন্য গেম অফ থ্রোনস দেখা নিষিদ্ধ।
* একটুর জন্য সব ওলট পালট হয়নি। কেননা জন স্নো-র চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিলো রামসে বোল্টন রূপদানকারি ইভান রহিওন এর। পরে জন হিসেবে কিট হেরিংটনকে বেটার মনে হওয়ায় তিনিই জন স্নোর ক্যারেক্টার পান।
* এই সিরিজের অরিজিনাল পাইলট এপিসোড কখনোই রিলিজ করা হয়নি।
* ড্যানেরিস এর খাওয়া ঘোড়ার হার্ট ছিলো আসলে এক ধরনের চকলেট পুডিং।

* জফরি চরিত্রে অভিনয় করা জ্যাক গ্লেসন আর কখনোই অভিনয় করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে ব্যাটম্যান বিগিনস এর কয়েক সেকেন্ডের জন্য জ্যাক গ্লেসন কে দেখা গিয়েছিলো
* ড্যানেরিস রূপি এমিলিয়া ক্লার্ক প্রকৃত অর্থে ব্লন্ড (সোনালী চুলের) নন। তিনি চুলে কালার ও করেননি জাস্ট একটা উইগ পরে নেন। অন্যদিকে সানসা ভূমিকায় সোফি টার্নার হচ্ছে প্রকৃত ব্লন্ড। তিনিও উইগ পড়ে চুল লালচে দেখান।
* এই সিরিজের জন্য ডোত্রাকি ভাষা তৈরি করা হয়েছে। যার শব্দ সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার।
* প্রয়াত পিটার ভগান, যিনি নাইট ওয়াচে অন্ধ মাস্টার এমন টার্গারিয়ান হিসেবে অভিনয় করেছিলেন, তিনি বাস্তব জীবনেও অন্ধ ছিলেন।

* বিভিন্ন যুদ্ধ দৃশ্যে অভিনয় করার জন্য নির্দিষ্ট কয়েকশ জন অভিনেতা রয়েছেন। সময় বুঝে ওনারাই কখনো ল্যানিস্টার, কখনো আনসালিড, কখনো নর্থমেন, কখনো ডোত্রাকি এমনকি কখনো হোয়াইট ওয়াকার সাজেন।
* পৃথিবীর ইতিহাসের সবথেকে বেশি পাইরেটেড ডাউনলোড হয়েছে গেম অফ থ্রোনসের।
* ‘দ্যা ডোর’ এপিসোড রিলিজের পর (যেখানে হডর এর হোল্ড দ্যা ডোর দেখানো হয়) আমেরিকাতে হডর নামে ডোর স্টপার (দরজা ঠেকানোর জিনিস) বের হয়।

* গেম অফ থ্রোনসের লেখক জে আর আর মার্টিন একবার ভেবেছিলেন জন স্নো আর আরিয়ার প্রেম দেখাবেন। পরবর্তীতে সেই ভাবনা থেকে সরে আসেন।
* সার্সির ওয়াক অফ শেম, জফ্রির দ্যা পার্পেল ওয়েডিং, রব স্টার্কের দ্যা রেড ওয়েডিং এর ঘটনা ইতিহাস থেকে নেয়া। ঘটনাগুলো ছিলো যথাক্রমে রাজা এডয়ার্ড IV এর রক্ষিতা জেন শোর এর কাহিনী, ১১৫৩ সালে ইংল্যান্ডের প্রিন্স ইস্টক আর ১৪৪০ সালে স্কটিশ ক্যাপ্টেন রবার্ট ক্যাম্পবেল এর কাহিনী অনুসারে।
* সিজন ৭ এর ৫ম এপিসোড পর্যন্ত এখন পর্যন্ত ১,৯০,৫৬৬ টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পুরো সিরিজে।
শেষে এসে কিছু ছবি দেখি আমরা-

* ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড ডেথলি হ্যালোজ’ এ মিসেস জিনজার এর ভূমিকায় ক্যাটলিন স্টার্ক

* ‘ব্লাক হক ডাউন’ মুভিতে আমাদের জেইমি ল্যানিস্টার

* দাড়ি-গোফ ছাড়া এ কেমন হাউন্ড?

* সবশেষে লেডি ওলেনা, বর্তমানে আর ৬০ এর দশকে…

তথ্যসূত্রঃ buzzfeed, telegraph, screenrant, mashable, huffingtonpost

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button