ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

‘টিচ ফর বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগ; অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচার রসদ

কিছু মহৎ সংগঠন আছে যারা ভবিষ্যৎ বিনির্মানে কাজ করে থাকে। তেমনই এক সংগঠন ‘টিচ ফর বাংলাদেশ’। মূলত শিক্ষায় বৈষম্য দূর করতে ‘টিচ ফর বাংলাদেশ’ সংগঠনটি কাজ করে থাকে। সংগঠনটি দেশের সুপরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশ করা গ্র্যাজুয়েটদের দুই বছরের ফেলোশিপ এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত করে।

এই বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষিত সচেতন স্বপ্নবাজ তরুণদের দ্বারা সংগঠনটি আগামী প্রজন্মের শিক্ষার পথ মসৃণ করতে চায়।
এই লক্ষ্যেই ‘টিচ ফর বাংলাদেশ’ নামক আন্তর্জাতিক এনজিও ঢাকা ও চট্টগ্রামে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

পাশাপাশি সংগঠনটি সচেতনামূলক কিছু ইনিশিয়েটিভ নিয়ে থাকে। তাদের তেমনই এক উদ্যোগ ছিল পুরাণ ঢাকায়।

পুরাণ ঢাকার চুড়িহাট্টার সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা আমাদের মনে আছে। পুরাণ ঢাকায় এধরণের বড় ছোট অগ্নিকাণ্ড প্রায়শই ঘটে। বেশ ঝুঁকিতে থাকেন এসব এলাকার শিক্ষার্থীসহ সবমহলের মানুষ।

এই পরিপ্রেক্ষিতেই, টিচ ফর বাংলাদেশের উদ্যোগে ১৫ই সেপ্টেম্বর, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ ও ড্রিল অনুষ্ঠান।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সও এই উদ্যোগে সহযোগিতা করে। টিচ ফর বাংলাদেশ ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত পদক্ষেপে এই প্রথম কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ড্রিল পরিচালিত হয়!

উল্লেখ্য যে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা মূলত চুড়িহাট্টা, চক বাজার, উর্দূ রোড বং নাজিমুদ্দিন রোড থেকে আসে। দেশের সব থেকে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে এই এলাকার নাম উপরের সারিতেই থাকবে। এসব এলাকায় আবাসিক বাসার ভেতর রাসায়নিক সহ বিভিন্ন দ্রব্যের কারখানা হলো আগুনের অন্যতম উৎস।

চকবাজার, চকবাজারে আগুন

তাই এখানকার মানুষদের জন্যে অগ্নিসংযোগ সম্পর্কিত সচেতনতা খুবই দরকার। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্যে এই সচেতনতা আরো বেশি করে দরকার। তাই ‘টিচ ফর বাংলাদেশ’ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু-কিশোরদের মাধ্যমে প্রথম এই সচেতনতা মূলক কাজে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

টিচ ফর বাংলাদেশের ফেলো হিসেবে মোঃ আর রাফি হিমেল ২০১৯ সাল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। মোঃ রাফি হিমেলের উদ্যোগে মহড়াটি হয়। স্কুল কমিটিও সাহায্য করে। এই উদ্যোগ সম্পর্কে রাফি হিমেল বলেন,

“ভবিষ্যতে যদি এই এলাকায় আগুন লাগে তবে এই প্রশিক্ষণের কল্যাণে যদি একটি মানুষের জীবন বাঁচানোর সক্ষমতা সৃষ্টি হয়, সেজন্যেই এই উদ্যোগ নেয়া। এধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই এলাকার অগ্নি দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা যাবে এবং হতাহতের সংখ্যা শুণ্যের ঘরে নামিয়ে আনা যাবে।”

টিচ ফর বাংলাদেশ

এই ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ ও ড্রিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোসাঃ শেলিমা খাতুন যিনি লালবাগ থানা শিক্ষা অফিসার। এই অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ এনায়েত হোসেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি এবং ডিআইজি (হেড কোয়ার্টার), বংলাদেশ জেল, জনাব মোঃ বজলুর রশীদ, পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন লালবাগ থানার সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার শাহনাজ পারভিন এবং বিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য জবাব আবুল বাশার মন্টু।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে উপস্থিত থেকে মহড়া পরিচালনা করেন সহকারি পরিচালক জনাব আকরাম হোসেন এবং উনাকে সহযোগিতা করেন উপ সহকারি পরিচালক জনাব বজলুর রশিদ।

টিচ ফর বাংলাদেশ

এরকম চমৎকার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এখানকার অভিভাবকরাও। অগ্নিসংযোগ হলে কি করণীয় সে সম্পর্কে যেসব ভ্রান্তি ছিল তা দূর হয়েছে এই প্রশিক্ষণে এসে, এমনটাই জানালেন তারা। সহজে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের ব্যবহার ও কৌশল এই প্রশিক্ষণে এসে জানতে পারে তারা আনন্দিত হয়েছেন। ৪০০ মানুষের সমাগমে এই প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে আগুন নেভানোর প্রশিক্ষণ ও নিরাপদে বের হবার ধারণা দেয়া হয়।

অগ্নিকাণ্ড এই শহরের বীভৎস বিপর্যয়ের একটি৷ তাই আমাদের সকলের অগ্নিনির্বাপক এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় কাণ্ডজ্ঞান ঠিক রেখে নিজের জীবনকে নিরাপদ রাখা যায়- সেই স্কিলটা জানা সবার জন্যেই জরুরি। ‘টিচ ফর বাংলাদেশ’ এর এমন ইতিবাচক উদ্যোগ আলো ছড়াক সবার মধ্যে, চলমান থাকুক এই শহরে বাঁচার গল্পগুলো। হতাহতের গল্পে ভারী না হোক পত্রিকার পাতা..

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button