খেলা ও ধুলা

তাই বলে এক ইনিংসে ৮৫ টা ডটবল?

গায়ানায় ২৭৯ অনেক স্কোর। অন্তত ২০১০ পর্যন্ত হিসাব করলে অনেক স্কোর ছিল বলাই যায়! কিন্তু ২০১৮ তে এসে ব্যাটসম্যানদের এপ্রোচ বদল হবার পরে ২৭৯ কে বড়জোর কম্পিটিটিভ বলা যায়। গত বছর পাকিস্তানের ৩০৮ রান চেজ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছিলো, এই গায়ানাতেই। তবু আউটফিল্ডের অবস্থা দেখে আর বোলারদের লাইন-লেংথের উপর ভরসা রেখে ২৭৯ নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলাম! শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয়টা এসেছেও। তবু খুঁতখুঁত রয়েই গেল কিছুটা ব্যাটিং এপ্রোচ নিয়ে।

তামিমকে নিয়ে প্রশংসা করাই যায়। তামিমের সেঞ্চুরি অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। গত কয়েক বছর ধরেই তামিম প্রথমে সেট হয়ে তারপর ধরে খেলে বড় ইনিংস খেলছেন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় হয়তো ঠিকই আছে। মিডল অর্ডার ভেঙে পড়তে পারে, এমন আশংকায় তামিম এক প্রান্ত ধরে রেখে নিয়মিত বড় স্কোর করছেন সেটা ভেবে খুশি হওয়া যায়।

গত এক বছরে তামিমের পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসগুলো দেখি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ডের সাথে ১২৮ করেছিলেন ১৪২ বলে। অস্ট্রেলিয়ার সাথে ৯৫ রান, ১১৪ বলে। ভারতের সাথে সেমি ফাইনালে ৭০ ছিল ৮২ বলে। এই বছরের শুরুতে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের সাথে ৮৪ করেছিলেন ১০২ বলে, আরেকটা ৭৬ রান, ১০৫ বলে।

জ্বি, উনি অন্তত নিয়মিতই বড় ইনিংস খেলছেন। রান আসছে বলে হয়তো তেমন কিছু বলাও যাচ্ছে না। এবং এটা ২০০৫ সাল হলে কিছুই বলা হতো না! তামিমের এই ব্যাটিং দেখে ২০০৭ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখা যেতো!

কিন্তু, আমাদের জানতে হবে যে বিশ্ব ক্রিকেট এখন অনেক এগিয়ে গেছে। জনি বেয়ারস্টো, রোহিত শর্মা, ফাখার জামান, ডেভিড ওয়ার্নারেরা এখন আর ২০ ওভার ধরে সেট হয়ে ১০০ বলে ৭০-৮০ রান করেন না। তাঁরা এখন সেঞ্চুরি করতে ন্যূনতম ১২৫ বল লাগান না। তাঁরা বলে বলে সিঙ্গেলস বের করেন। ডট বল যতটা পারেন কম দেয়ার চেষ্টা করেন। সুযোগ পেলে বাউন্ডারি মারেন নিয়মিতই।

বিশ্বের দলগুলো এখন নিজেদের স্ট্যান্ডার্ড ২৫০ থেকে ৩৩০-৩৫০ রানে নিয়ে গেছে! এর মূলে আছে দলগুলোর ১, ২, ৩ নাম্বার ব্যাটসম্যানদের আশ্চর্যরকম ট্রান্সফর্মেশন। আমাদের দ্বিতীয় ওপেনার নেই, ৩ নাম্বারে মিউজিক্যাল চেয়ার চলছে। যদিও সাকিবকে অনেক আগে থেকেই ৩ নাম্বারের জন্য উপযুক্ত মনে হয়। কিন্তু তাকে তো পার্মানেন্ট তিনে খেলায় না! এসব বাস্তবতায় তামিম ধরে খেলে হয়তো। কিন্তু এটা দিয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপে মনে হয় টিকে থাকা যাবে না! তামিমকে নিজের এপ্রোচ নিয়ে ভাবতে হবে। ওয়ানডের আপগ্রেডের সাথে তামিমের নিজের আপগ্রেডটা খুব জরুরি।

আবার কালকের ইনিংসে ফিরে আসি। তামিম অবস্থা বুঝে খেলেছেন। কিন্তু যত যাই হোক তামিমের ইনিংসে ৮৫টা ডট বল মেনে নেয়া যায় না! সিঙ্গেলস বের করতে পারাটা আমাদের ওপেনারদের শিখতে হবে। এখন না শিখলে আর হবে না। সময় নাই! সাকিবের মধ্যে অন্তত কখনোই এই ব্যাপারে ঘাটতি দেখা যায় না। অন্তত আজকের স্লো পিচে ১২০ বলে ৯৭ এ রান বের করার চেষ্টাটা সাকিবের মধ্যে একটা অন্যরকম দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যাপার দেখাচ্ছিলো। দুর্ভাগ্য যে তিনি সেঞ্চুরি পাননি। শেষে গিয়ে মুশফিকের মারটা প্রমাণ করে যে এই স্লগ চাইলে আরও ৫ ওভার আগে থেকে করা যেতো, যেহেতু হাতে উইকেট ছিল।

গত ২ বছরে বাংলাদেশের ২৩১ এর গড় থেকে ২৭৯ অনেক ভালো স্কোর। আগেই বলেছি ২৭৯ কম্পিটিটিভ স্কোর। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে, বড় অকেশনে এরকম সংগ্রহ নিয়ে সব সময় পার পাওয়া যাবে না।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button