খেলা ও ধুলা

রানআউট-রুপকথা: একটা ম্যাচ কিংবা টুর্নামেন্টের গল্প বদলে যাওয়া মুহুর্ত!

কেন উইলিয়ামসনও সেদিন আশা করেননি এরকম অবস্থায় দ্বিতীয় সুযোগ পাবেন। রিপ্লেতে দেখা গেল, যে থ্রোটা সরাসরি স্ট্যাম্পে লাগতে পারত, সেই বলটা মুশফিক হাত দিয়ে কারুকাজ করতে গিয়ে বল লাগানোর আগেই স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দিলেন।

ধারাভাষ্যকার সেই মুহুর্তে বললেন, “দিস ইজ এবসোলিউটলি বিজায়ার। মার্ক দ্যাট ডাউন এজ ম্যাসিভ মোমেন্ট, নট জাস্ট ইন দিস গেম বাট মেবি ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড কাপ।”

ওই রানআউট শুধু ওই ম্যাচ না, বিশ্বকাপেরই মোড় ঘুরিয়ে দেয়া মুহুর্তগুলোর একটা। ধারাভাষ্যকার তখনই সেটা অনুভব করেছিলেন। একটা রানআউট, একটা ক্যাচ কত ডিফারেন্স তৈরি করতে পারে সেটার প্রমাণ নিউজিল্যান্ড। তাদেরকে প্রতিপক্ষ পেয়ে ভারত যতটা খুশি হয়েছিল, সেই খুশির আবহ বেশিক্ষণ টেকেনি নিউজিল্যান্ডের বোলিং তোপে।

তবুও ভারত বলেই এরকম লণ্ডভণ্ড দিনেও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প তৈরি হয়। জাদেজা পাঁচ বছর পর হাফ সেঞ্চুরি করে, গ্যালারিতে আঁচড়ে ফেলে একেকটা বল। ধোনী পুরানো রুপে ফিরে আসে, উইকেট আঁকড়ে পড়ে থেকে ম্যাচ বের করে নেয়ার চেষ্টায় থাকে। তাই ভারত প্রায় জিতেই যাবে এমন অবস্থার তৈরি হয়। একটা স্পার্ক মোমেন্ট লাগে এরকম অবস্থা থেকে ম্যাচে ফিরে আসতে।

গাপটিল সেই হন্তারক হলেন। ওপেনার হিসেবে এই বিশ্বকাপে তার পরিসংখ্যান খুবই হতাশাজনক। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে তিনি ধারাবাহিকরকমের দুরন্ত। ধোনীকে যেভাবে রানআউটটা করলেন, সেটাকে নিউজিল্যান্ড অনেকদিন মনে রাখবে। এমনও হতে পারে গাপটিলের অনেক সেঞ্চুরির কথাও হয়ত অনেকে ভুলে যাবে কিন্তু এই রানআউট প্রসঙ্গ বার বার ফিরে আসবে।

অথচ, কে জানে হয়ত কেন উইলিয়ামসনকে সেদিন সেখানে থামানো গেলে তাদের সেমিফাইনালে খেলাই হতো না। যে রানআউটে থামানো যায়নি তাকে, সেইরকম একটা রানআউট করেই তার দল এখন ফাইনালে। জাদেজার ব্যাটিং, হেনরির বোলিং এসব আপনি ফিল করতে পারবেন। কিন্তু একটা চমৎকার ক্যাচ বা রানআউট আপনাকে চমকে দেয়, আপনি সারপ্রাইজড হন, উল্লাস করেন কিংবা আপনার হৃদয় ভেঙ্গে যায়। এরকম একটা রানআউট ম্যাচের গল্প কিংবা হয়ত একটা টুর্নামেন্টের গল্পই বদলে দেয়…

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button