খেলা ও ধুলা

এমন হারের পর বদলাবে বিসিবি? জীবনেও না!

খেলাধুলায় ‘লজ্জা’ শব্দটি আমি কখনোই ব্যবহার করতে চাই না। আজকেও করছি না। দিনশেষে, এটি তো খেলাই। তবে এই টেস্টের পারফরম্যান্সের ব্যাটসম্যানদের আত্মজিজ্ঞাসা প্রয়োজন। আয়নার সামনে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বিবেকের দংশন প্রয়োজন। ভেতরে দহন প্রয়োজন। সেই অনলে পুড়ে যদি খাঁটি কিছু বেরিয়ে আসে!

স্কোয়াড বা একাদশ নির্বাচন, ঘরোয়া ক্রিকেট, টেস্ট নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি, বিসিবির পরিকল্পনা, বোধ, ভাবনা… এই সবকিছু আসলে আগের কথা এবং পরের কথা। আমি বলছি মাঝের কথা, এই টেস্টের কথা। দুই ইনিংসে একজন করে ব্যাটসম্যানের শট দেখলে, এখানে কোনো ঘরোয়া ক্রিকেট, বিসিবির দায়, কিচ্ছু নেই। স্রেফ দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং। কেয়ারলেস ব্যাটিং। টেস্ট ক্রিকেটের ভাষাকে উপেক্ষা, পরিস্থিতির দাবিকে বুড়ো আঙুল দেখানো।

ক্রিকেটে অভাবনীয় অনেক কিছুই হয়, ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ কথাটি খুব একটা ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু এই উইকেটে, এমন বোলিংয়ের বিপক্ষে এক ইনিংসে ধরে নিলাম একটি বাজে দিন ছিল, কিন্তু দুই ইনিংসেই এমন ব্যর্থতা গ্রহণ করা কঠিন, মেনে নেওয়া কঠিন। ২০টি উইকেট নিতে একটি ভালো বলও লাগল না, এতটা বাজে টেস্ট ব্যাটিং আর মনে হয় না দেখেছি…।

ম্যাচ শেষে রিয়াদ কোনো অজুহাত দেননি, এটা অন্তত ভালো লেগেছে। বলেছেন তারা ‘লেইম’ শট খেলেছেন। দৃষ্টিকটু শট খেলেছেন। ব্যাটিংয়ে কোনো ডিসিপ্লিন ছিল না। বলেছেন এভাবে ব্যাট করতে থাকলে টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের কোনো অবস্থান থাকবে না। বলেছেন এটা ক্রিকেটারদের ভাবমূর্তির ব্যাপার। বলেছেন, এসব শোধরাতে না পারলে টেস্ট ক্রিকেট খেলার মানে হয় না। দাবি করেছেন, “উই ডু কেয়ার অ্যাবাউট টেস্ট ক্রিকেট।”

নিশ্চয়ই এসব তিনি আত্মগ্লানি থেকেই বলেছেন। সত্যিকার অর্থে ভেতরে ঝড় বইলে, সেটির ছাপ পরের টেস্টের ব্যাটিংয়ে, সামনের পথচলায় পড়বে। নইলে এই কথাগুলোও খেলো এবং কৌতুককর হয়ে যাবে। আশা করি, কাজ দিয়েই কথাকে প্রমাণ করবেন তারা।

দল নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আরেকজন পেসার অবশ্যই খেলানো উচিত ছিল। তুষার ইমরানের এই টেস্টে অবশ্যই খেলা উচিত ছিল। কিন্তু মনে হয় না তাতে হার এড়ানো যেতো। পেসার থাকলে হয়তো ওরা আর কিছু রান কম করত। তুষার থাকলে হয়তো আমরা আর কিছু রান বেশি করতাম। কিন্তু ইমরুল-লিটন-মুমিনুল-রিয়াদ-মুশি তো থাকতেনই, পরের টেস্টেও থাকবেন। তারা যদি দুই ইনিংসেই এভাবে খেলে আউট হন, তাহলে তুষার-পেসার থাকলেও আমরা ম্যাচ হারতাম, পরের টেস্টে তুষার-পেসার থাকলেও হারব।

আপাতত পরের টেস্ট এবং পরের সিরিজ নিয়েই ভাবনা বেশি। তুষার ফিরুক, একাদশ আরও ব্যালান্সড হোক। কিন্তু পরের টেস্টে তার চেয়েও বেশি জরুরি ওই ৫ জনের ২-৩ জনের রান পাওয়া।

অনেকে বলছেন, দল হারায় তারা নাকি খুশি। এখন বিসিবি হ্যান কারেঙ্গা, ত্যান কারেঙ্গা। আমি বলি, কচু কারেঙ্গা। ঘরোয়া ক্রিকেট আর অবকাঠামো নিয়ে এত বছরেও কচুই করে এসেছে। দে জাস্ট ডোন্ট কেয়ার। জিম্বাবুয়ের কাছে যদি হোয়াইটওয়াশ হই, পরের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেও হই, বিসিবি কি ঘরোয়া ক্রিকেট খুব শক্ত করবে? বিনিয়োগ বাড়াবে? পয়সা পাড়াবে? গুরুত্ব বাড়াবে? ‘এ’ দলের সিরিজ বাড়াবে? এইচপি প্রোগ্রাম শক্ত করবে?

বিসিবির দৃষ্টিভঙ্গি, টেস্ট বোধ পাল্টাবে? দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করবে? ছাতার মাথা করবে। দল হারতে থাকলে একে বদলাবে, ওকে আনবে, তাকে সাইজ করবে। কিন্তু ভিত্তি শক্ত কখনোই করবে না। নিজেদের আখের গোছানোর গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে ওইসব আজাইরা কাজ করার খায়েশ তাদের নাই। “অবকাঠোমোর উন্নতি” ধরণের উচ্চমার্গের কথা শুনলে তারা সামনে গম্ভীর মুখে মাথা নাড়ে, আড়ালে হাসে আর বলে ‘বলদ কোথাকার।’

কাজেই দল হারলে বোর্ডের শিক্ষা হবে, দেশের ক্রিকেটের মূলে নাড়া পড়বে, এসব কথা শুনলে আমার হাসি পায়। বছরের পর বছর তো দেখে আসছি। আমাদের পূর্বসূরীরাও দেখেছেন। ঘণ্টা হয়েছে। মুশি-রিয়াদরা সফল হলে দল সফল। ওরা ব্যর্থ হলে দল ব্যর্থ। এটাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাস্তবতা। ভবিষ্যতেও এটাই থাকবে। ওই টেস্টে ওরা পারেনি। খুব খুব খুব বাজে খেলেছে। এটা তাদের পোড়াবে, সেই জ্বালা থেকে পরের টেস্ট গুলোয় ওরা প্রতিপক্ষকে পোড়াবে, এই আশা করতে পারি। আর কিছু না। 

আরও পড়ুন- 

Comments
Tags

Related Articles

Back to top button