সিনেমা হলের গলি

সুপার-ডুপার চমকপ্রদ গল্প নিয়ে সুপার ডিলাক্স!

পুরোনো প্রেমিকের সাথে হঠাৎ কথোপকথনে জানতে পারলো সে খুব কষ্টে আছে এই মুহূর্তে। এক সময়ের ভালোবাসার মানুষটা কষ্টে আছে শুনে হৃদয় গলে গেলো প্রেমিকার, ভুলেই গেলো সে এখন অন্যের ঘরের বৌ। ভালোবাসার মানুষকে কিছুটা সুখের মুহূর্ত উপহার দিতে ডেকে নিলেন নিজের বাসায়। হাজব্যান্ডের অনুপস্থিতিতে পুরোনো প্রেমিকের সাথে মেতে উঠলো পৃথিবীর আদিম খেলায়। আদিম খেলার সুখে এতোই মত্ত যে তার মধ্যেই প্রেমিকের মৃত্যু ঘটলো! হতবিহ্বল প্রেমিকা এখন কী করবে? এদিকে তার হ্যাজব্যান্ড বাইক নিয়ে উপস্থিত বাসার নীচে!

‘ঐ আমার বাসা খালি, চলে আয় তোরা’। টিনেজ বন্ধুদের ডেকে নিলো একসাথে খালি বাসায় পর্ণ দেখবে বলে। বন্ধুরাও নিজেদের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে সিডির দোকান থেকে নিয়ে আসলো সেমি পর্ণ ‘মাল্লু আনকাট’। সব প্রস্তুতি শেষ, চোখের সানগ্লাস পরে থ্রিডি অনুভূতি নেয়ার জন্য বসে গেলো দেখতে। কিন্তু একি! সেমি পর্ণের সিনেমার নায়িকা যে তাদেরই সাথে দেখতে বসে যাওয়া এক বন্ধুর মা!

Image Source: hindustantimes.com

৬-৭ বছর কোনো খবর নেই হাজব্যান্ডের। আজকে ফিরবে সে বাড়িতে। এই উপলক্ষে বাড়িতে রব রব আওয়াজ পরে গেছে। স্ত্রী নিজেকে নানা ভাবে গুছিয়ে নিচ্ছে। ছোট্ট শিশু ছেলেটাও তার বাবাকে স্বাগতম জানাতে নানা আয়োজনের অন্ত রাখছে না। কয়েকবার রিহার্সাল দিয়েও ফেলেছে এর মধ্যে। বাড়িতে আত্মীয় স্বজনও চলে আসছে তাকে ওয়েলকাম জানানোর জন্য। বাড়ির গেটে ট্যাক্সি থামলো। কিন্তু ট্যাক্সি থেকে বেড়িয়ে আসলো শাড়ি, চোখে সানগ্লাস পরা এক মহিলা। স্ত্রী-ছেলে-আত্মীয় সবাই দেখলো নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার করে পুরোদস্তুর মহিলা বানিয়ে ফিরছে তাদের অপেক্ষার মানুষ!

উপরের গল্পগুলো দিয়েই শুরু হয় এই তামিল ইন্ডাস্ট্রির নতুন ‘নিও-নইর’ ক্যাটাগরির সিনেমা, নাম ‘সুপার ডিলাক্স’। যা লিখে, পরিচালনা ও কো-প্রযোজনা করেছেন থিয়াগারাজন কুমারারাজা। অভিনয়ে আছেন বিজয় সেথুপাথি, ফাহাদ ফাসিল, সামান্থা আক্কেনি, রামায়া কৃষ্ণা। ১৭৫ মিনিট দৈর্ঘের এই সিনেমায় উপরে যে গল্পটুকু বলেছি তা মাত্র শুরুর ৩০ মিনিটের।

এই বছরের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত তামিল সিনেমায় কী নেই? যতটা চমকপ্রদ গল্প, ততটাই অসাধারণ গল্প বলার ধরন। স্যাটায়ার, হিউমার, সার্কাজম, হাসি, কান্না, দুঃখ, ব্যথা, সমাজ ব্যবস্থা, ধর্মান্ধতা, জীবনবোধ দিয়ে যেন আপনাকে এক অন্য জগতে নিয়ে যাবে। সিনেমার নানা সংলাপ, এক্সপ্রেশনে আপনি হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়বেন, গল্পের সিচুয়েশনে আপনি থ্রিল অনুভব করবেন, কিন্তু সিনেমা শেষে আপনি ভাবতে বাধ্য হবেন।

Image Source: indiatoday.in

অভিনেতা হতে লুকের প্রয়োজন হয় না তা ভালো করেই দেখিয়ে দিচ্ছেন মাক্কাল সেলভান সেথুপাথি। সেথুপাথির আগের সিনেমা যদি দেখে থাকেন, তাহলে জানেনই সে কতটা ভালো অভিনেতা। তবে এই সিনেমা দেখার পর মনে হয় সে নিজের অভিনয়কে নিজেই ছাড়িয়ে যাবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন। মালায়লাম ইন্ডাস্ট্রির ফাহাদের কথা বলার কিছু নাই। তাকে শুধু চরিত্র ধরিয়ে দিলেই হয়, বাকিটা সে নিজে করে দিবে। আর যারা সামান্থা প্রেমি আছেন, তাদের জন্য মাস্ট ওয়াচ এই সিনেমা। বার্লিন নামের চরিত্র করা পুলিশ অফিসার কিংবা সেথুপাথির বৌ এর চরিত্র করা গায়েত্রী এমনকি ছোট্ট বাচ্চা ছেলেটার অভিনয়ে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।

এত বড় দৈর্ঘের সিনেমায় সবচেয়ে বেশি যে প্রবলেম হয় তা হলো- দর্শককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা। কিন্তু এত অদ্ভুতভাবে এই সিনেমার চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন যে আপনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন শেষটা জানার জন্য। সিনেমায় যেমন অনেক দুর্দান্ত ব্ল্যাক কমেডি পাবেন, তেমনি পাবেন ডব্লিউটিএফ মোমেন্ট। সাথে আছে পলিটিক্যাল ও সোস্যাল বিবৃতি। আছে রোমান্স, সেন্টিমেন্ট এমনকি এই নশ্বর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অর্থ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। আছে লক্ষ্যে পৌছানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা, সহজাত প্রতিভার সৃজনী ক্ষমতা আর আছে হৃদয়ের স্পন্দন।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button