অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

অনুমতিহীন জায়গাগুলোতে যাওয়ার অনুমতি মিলবে এখন দেশ থেকেই!

একটা কথা প্রচলিত আছে এমন, সমগ্র ভারত ঘুরলে নাকি পুরা পৃথিবী ঘুরা হয়ে যায়। কতটুকু সত্য, কতটুকু আবেগের কথা এটা নিশ্চিত না, তবে ভারতবর্ষের অসাধারণ কিছু দর্শনীয় স্থান এতদিন ট্যুরিস্টদের জন্য বন্ধ ছিল সেগুলো এখন থেকে উন্মুক্ত এটা একেবারেই নিশ্চিত।

নিরাপত্তাজনিত কারণে এতদিন ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, নাগাল্যান্ড, লাদাখের মতো অপূর্ব মনোমুগ্ধকর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যেতে পারত না বাংলাদেশীরা। এসব জায়গা যেতে হলে প্রয়োজন হতো বিশেষ অনুমতির। সেই অনুমতিও আপনি দেশে বসে নিতে পারবেন না, যেতে হবে দিল্লীতে। দিল্লীতে গিয়ে আবেদন করলে সেটা গ্রাহ্য করা হবে কিনা তারও গ্যারান্টি ছিল না। অনুমতি পেতে পেতেই চলে যেত কয়েকমাস। এতো জটিলতায় পড়ে ট্যুরিস্টরা নিজেদের পছন্দের তালিকায় থাকা স্বত্তেও এই জায়গাগুলোতে যেতে পারত না।

 

 

 

তবে, এখন আর সমস্যা নেই। ২২ নভেম্বর থেকে যেসব রাজ্যে আগে যাওয়ার অনুমতি মিলত না, এখন সেসব জায়গা যাওয়ার অনুমতি পেয়ে যাবেন দেশে বসেই। শুধু ওয়েবসাইটে গিয়ে একটা ফরম পূরণ করতে হবে, আর কিছু না। আর সাথে রুট পারমিট ফি বাবধ ৩০০ টাকা দিতে হবে।

নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে দার্জিলিংয়ের পার্শ্ববর্তী মেঘ-পাহাড় বরফের সিকিম, গ্যাংটকসহ লাদাখ এবং সেভেন সিস্টার্সের কয়েকটি রাজ্যে ঢোকায় কড়াকড়ি ছিল বাংলাদেশীদের জন্য। কিন্তু, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা জানান, এখন থেকে এই রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশীরাও প্রবেশ করতে পারবেন।

যাদের এই মুহুর্তে পাসপোর্টে ভারতীয় ভিসা আছে তারা চাইলে এখনি এসব রাজ্যে যেতে পারেন। তার জন্য ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের ওয়েবসাইটে ঢুকে একটি ফরম পূরণ করে অনুমতির আবেদন করতে হবে। আর যারা নতুন করে ভিসার জন্য আবেদন করবেন তারাও এর জন্য আলাদা ফরম পূরণ করে ভিসা আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে পারবেন।

ভারতে এখন বিদেশী পর্যটক সবচেয়ে বেশি যায় বাংলাদেশ থেকে। ফলে, বাংলাদেশীদের জন্য পারমিট জটিলতা দূর করায় এখন অরুণাচল, সিকিম, লাদাখের মতো জায়গাগুলোতেও বাংলাদেশীদের ভীড় লক্ষ্য করা যাবে। অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশি বিভিন্ন ট্রাভেল গ্রুপগুলোতে পর্যটকরা অনুসন্ধান করে আসছিলেন, এই জায়গাগুলোতে যাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে। এবার যেহেতু, পারমিশন নেয়ার প্রক্রিয়া একেবারে সহজ করে দেয়া হয়েছে, ভ্রমণপিপাসুরা এখন থেকে এসব নতুন নতুন জায়গা সহজে এক্সপ্লোর করার সুযোগ পাবেন!

অথচ, একসময় ইউটিউব, ইন্টারনেটে এসব জায়গার ছবি দেখে কেবল আফসোসই করতে হতো। সিকিমের কথাই ধরা যাক। এই অঞ্চলটি নিয়ে দীর্ঘদিন ভারত, চীনের মধ্যে ঝামেলা ছিল। দেশভাগের পর ১৯৫০ সালে সিকিম ছিল ভারতের আশ্রিত রাজ্য চুক্তি হিসেবে। চীন মেনে নেয়নি সেটা, চীনের দাবি ভারত জোর করে সিকিমকে নিজেদের সাথে জুড়ে নিয়েছে৷ এই নিয়ে ভারত ও চীন ১৯৬২ সালে যুদ্ধও করে আর তার পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ “নাথুলা পাস” বন্ধ করে দেয়া হয়।

চীনের মানচিত্রে অনেকদিন পর্যন্ত সিকিমকে দেখানো হয়েছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে। যদিও ২০০৬ সালে চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা দিয়ে সিকিমকে ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে মেনে নিয়েছে। কিন্তু তবুও সিকিম নিষিদ্ধ ছিল কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের পর্যটকদের জন্য। বাংলাদেশীরাও যেতে পারত না এই অনিন্দ্য সুন্দর জায়গাটিতে। অবশেষে এই জটিলতার পতন হলো৷

অরুণাচলের কথা একটু বলি। এর তিন পাশে ভুটান, মায়ানমার, চীন। ভারতের এই রাজ্যেই সবার আগে সূর্য উদয় হয়। এই অঞ্চল নিয়েও চীনের সাথে ভারতের সমস্যা ছিল অনেকবছর ধরে। ১৯৪৭ সালে চীন প্রায় পুরো অরুণাচল প্রদেশের উপরই নিজেদের কতৃত্ব দাবি করে। এখনো অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ঝামেলা পুরোপুরি কাটেনি। চীন এখনো দাবি করে, অরুণাচলের কিছু কিছু অংশ তাদের। চীনের দাবি এই এলাকার সাথে তিব্বতের ঐতিহাসিক বন্ধন আছে। এই অঞ্চলে অনেক তিব্বতী উপজাতিরাও বসবাস করে থাকেন।

যাইহোক, অরুণাচল ভারতের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন অঞ্চল। এতদিন টানাপোড়েনের জের ধরে এখানে পর্যটকরা যেতে পারতেন না। যেতে হলেও অনুমতির নেয়ার প্রসেসিং ছিল অনেক জটিলতায় ভরা। এখন, বাংলাদেশীদের জন্য প্রসেসিং সহজ হওয়ায় অরুণাচল প্রদেশেও ভ্রমণ জটিলতা কেটে গেল!

লাদাখ, নাগাল্যান্ড এসব জায়গার ক্ষেত্রেও এখন আর কোনো প্রকার জটিলতা নেই। ভিসার সাথে একটা বাড়তি ফরম পূরণ করে যাওয়া যাবে এখন এসব অঞ্চলে। বাংলাদেশী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ঘোষণাটা বেশ বড় উপহারই বটে। ভারতের বৈচিত্র্যময়তাকে দেখবার পক্ষে এখন আর কোনো বাধাই থাকলো না। ফলে ভারত ভ্রমণ এখন আরো সহজ হয়ে গেল বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য।

আরও পড়ুন-

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Back to top button