তারুণ্য

ভদ্রভাবে ‘না’ বলার ৬ উপায়…

‘না’ শব্দটি একটি নেতিবাচক শব্দ হলেও এর গুরুত্ব মারাত্মক। ‘না’ বলার মাধ্যমে সরাসরি প্রত্যাখান আর আগ্রাসী মনোভাবের প্রকাশ পায় বিধায় অনেকেই ভাবেন কাউকে ‘না’ বলার মাধ্যমে সেই লোকটিকে ছোট করেছেন বা নিজে ছোট হয়েছেন। নিজেকে অপরাধী ভেবে তখন তারা কষ্ট পান। অনেকটা এই কারণেই মানুষের মধ্যে ‘সহমত ভাই’ বৈশিষ্ট্য চলে আসে। সহজে কাউকে তারা না করতে পারে না।

কিন্তু বলা হয়, সফল হতে হলে সবার আগে আপনাকে ‘না’ বলা শিখতে হবে। অনুরোধে ঢেকি গিলে কাউকে হ্যাঁ তো বলে দিলেন। কিন্তু এতে নিজের উপর, ব্যক্তিটির উপর বিরক্তি বাড়বে বৈ ভাল কিছু হবে না। তারচেয়ে সুন্দরভাবে না বলে দিলে জীবন সহজ-সুন্দর হয়, আর সম্পর্কেও এর কোনো প্রভাব পড়ে না। অযথা সময় নষ্টের হাত থেকেও রক্ষা মেলে।

এখানে ভদ্রভাবে ‘না’ বলার কয়েকটি কৌশল দেওয়া হলো, যাতে ‘না’ বলতে আপনার অপরাধবোধ না হয়, আবার অযাচিত ঝামেলা থেকে নিজেকে রক্ষাও করতে পারবেন!

১. হতে হবে বিনয়ী

বিনয় দিয়ে দুনিয়াটা জয় করা যায়। কারো কোনো প্রস্তাবে না করতে চাইলে তাকে বলতে পারেন- “আমাকে বলার জন্য ধন্যবাদ, কিন্তু এই মুহূর্তে আমার পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না”। তবে প্রস্তাবদাতা যদি কাছের কেউ হয়, তবে যথাযথ কারণ দিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে কেন সম্ভব হচ্ছে না। অল্প কথায় সুন্দরভাবে গুছিয়ে বললে আপনার ‘না’ তে কেউ কষ্ট পাবে না।

২. অনিশ্চয়তা যখন হাতিয়ার

আপনাকে কোনো কাজের জন্য বলা হলো, কিন্তু আপনি যদি করতে না চান, তবে বলতে পারেন, “কাজটি করতে পারলে আমারই খুব ভালো লাগবে। কিন্তু আমি কথা দিতে পারছি না সময় করে উঠতে পারবো কি না! অন্য কোনোভাবে কি আমি সাহায্যে আসতে পারি?” অর্থাৎ, সেই নির্দিষ্ট কাজটি না পারলেও আপনার সাহায্যের হাতটি আপনি ঠিকই খোলা রেখেছেন তার জন্য।

৩. নিজেকে অযোগ্য প্রকাশ করে

কোনো কাজের জন্য পুশ করা হচ্ছে, কিন্তু আপনি করতে চাইছেন না- এমন হলে ব্যক্তির প্রশংসা করে বলতে পারেন কাজটি করার জন্য সে-ই সবচেয়ে যোগ্য। আপনার কাজটি করতে অসুবিধে নেই, কিন্তু ভাল আউটপুট আসবে না। তাই সবচেয়ে ভাল হয় সে নিজেই কাজটি করলে। এরকম প্রশংসাবাক্য দিয়ে পার পেতে পারেন অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে।

৪. অন্যকে রেফার করুন

‘আমি পারছি না, তবে আমি শিওর অমুক ওই কাজটি খুব ভাল পারবে।’ অতএব, আপনি আরেকজনকে সাজেস্ট করে আপনার সাহায্যপরায়ণ মনোভাব বজায় রেখে কাউকে ‘না’ করলে সেটি আর নেতিবাচক ভাবে দেখার উপায় থাকে না। আপনিও বেঁচে গেলেন!

৫. প্রস্তাবের পেছনে জুড়ে দিন শর্ত

সরাসরি ‘না’ বলতে না চাইলে সেই কাজটির পেছনে শর্ত জুড়ে দিতে পারেন। যেমন- ফেসবুকে পরিচয় (খুব কাছের কেউ না) এমন কেউ চাইলেন আপনার সাথে দেখা করতে৷ আপনি এড়াতে চাচ্ছেন। তিনি বললেন এই শুক্রবারেই আপনাকে কোনোভাবে সময় ম্যানেজ করে দেখা করতে। আপনি বলতে পারেন, ‘তাহলে তো সম্ভব হচ্ছে না, শনিবার হলে পারতাম।’ তবে খেয়াল রাখবেন, ‘কেন সম্ভব হচ্ছে না’ কারণটা যাতে যৌক্তিক হয়। এক কারণ বলে অন্য প্রস্তাবের পথ খুলে না দিয়ে যা বলবেন, সময় নিয়ে ভেবে বলুন।

৬. স্পষ্টভাষী হোন

এটি হলো সবচেয়ে সহজ এবং উপকারী পন্থা। মিথ্যার আশ্রয়ও নিতে হয় না এতে। আপনি যদি স্পষ্টভাষী হোন, তবে আপনার ‘না’ বলাকে কেউ নেতিবাচকভাবে নিবে না। নিলেও তা নিয়ে আপনার মাথাব্যথা থাকবার কথা না। তবে এক্ষেত্রেও যথাযথ কারণ সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলে তবেই ‘না’ বলুন।

লক্ষ্য করবেন:

সবক্ষেত্রে না বলবেন না। সবসময় ‘না’ বলার প্রবণতা আপনার ভালোর বদলে খারাপটা বয়ে নিয়ে আসবে। আপনি বুঝতেও পারবেন না, ‘না’ বলতে বলতে আপনি যে কখন দায়িত্ব এড়িয়ে চলা শিখে গেছেন! তাছাড়া, ‘না’ বলার চর্চাটা অবশ্যই ব্যক্তিভেদে হওয়া উচিত। সবার ক্ষেত্রে এই চর্চা বলবৎ থাকলে, আপনি ইন্ট্রোভার্ট হয়ে পড়বেন৷ যখন তা বুঝতে পারবেন, ততদিনে বড্ড দেরি হয়ে যাবে…

আরও পড়ুন:
Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button