মনের অন্দরমহলরিডিং রুম

পর্ণ সাইট বন্ধ, হতাশদের আশা এবার সালমান মুক্তাদির!

ব্রাউজার দিয়ে পর্ণ সাইটে গিয়ে ব্রাউজার হিস্টোরি পরিষ্কার করলেই কি সব ইতিহাস মুছে ফেলা যায়? গুগল বাবাজি ফুলের মতো চরিত্রবানদের ইতিহাস ঠিকই হিসাব রাখে। এজন্যেই গুগল প্রকাশ করেছে একটি তালিকা। সেই তালিকায় দেখা যায়, গতবছর বাংলাদেশিরা ইন্টারনেটে যেসব বিষয় তার টপচার্টে আছে সানি লিওন, মিয়া খলিফার নাম। এত হাজার হাজার বিষয় থাকতে বাংলাদেশিরা এসব সার্চ করেন আর অনলাইনে এসে আহাজারি করেন, গেল গেল সব রসাতলে।

অবশ্য, তাদের জন্য দুঃসংবাদ যে, সরকার ইতিমধ্যে অসংখ্য পর্ণসাইট বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে, কেউ কেউ ভিপিএনের পেছনে দৌড়ালেও যাদের ভিপিএন জ্ঞ্যান নেই, তারা রীতিমতো হতাশ। মিয়া খলিফাকে দেখার পর পাবলিক পোষ্টে এসে যারা খলিফাদের জীবনী প্রচার করত, এবার তারা পড়ে গেছে মহামুশকিলে। যারা সানি লিওনকে দেখে এসে ওমর সানির রোমান্টিকতা নিয়ে মশকরা করত, তারা এখন কি করবে?

সালমান মুক্তাদির, তাহসিনেশন

কিন্তু, আর নয় দুশ্চিন্তা। যারা হতাশ তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে বঙ্গ জনপদে নেমে এসেছেন সালমান মুক্তাদির। সাপের মতো আকুলি বিকুলি দেখতে আর যেতে হবে না কোনো পর্ণ সাইটে, একজন নারীকে আকর্ষণী চরিত্রে রেখে তার সাথে মোচড়ামোচড়ির নামে মিউজিক ভিডিও দেখতে আর যেতে হবে না বলিউডে, এবার আন্তর্জাতিক মানের সুড়সুড়ি নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশীয় ওস্তাদ সালমান মুক্তাদির।

গতকালই সালমান মুক্তাদির একটা ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওর মশলা এত ঝাঁঝালো যে, স্বয়ং সালমানের বন্ধু সৌভিকই স্বীকার করেছেন, এত হট রুপে সালমানকে আগে কখনো দেখেননি। শীতের দিনে সালমানের এই উশকানি নিষিদ্ধ সুখের আশায় থাকা হতাশদের জন্য বেঁচে থাকার উপাদান হয়ে এসেছে। পর্ণ সাইটে যারা ভিজিট করতেন, তাদের দুঃখের জায়গা ছিল প্রকাশ্যে পর্ণস্টারদের গালাগালি করতে পারতেন না। বলতে পারতেন না, জনি সিন্স দুনিয়াটাকে ধ্বংস করে দিলো। কিন্তু, সালমান তাদের জন্য এই সুযোগটিও উন্মুক্ত করে দিলেন। সালমানের ভিডিও দেখে কাতুকাতু যাদের লেগেছে, তারা কাতর হয়ে ভিডিও দেখে সালমানকে গালি দিয়ে দেশ ও সমাজ বাঁচানোর বিপ্লব করতে পারবেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

সালমান মুক্তাদির, তাহসিনেশন

‘পবিত্র যুব সমাজ রক্ষা কমিটি’র নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য জানিয়েছেন, তারা সালমানকে দলে দলে আনস্ক্রাইব করে ইউটিউবকে ভালগার কন্টেন্টমুক্ত করার শপথ নিয়েছেন। তবে আনস্ক্রাইব করলেও ওরা কারা, যারা পাগলের মতো সালমানের ভিডিও দেখছে এই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি তার কাছে। তবে, তিনি ওয়াদা দিয়েছেন ভিডিও দেখলেও তারা ‘আনলাইক’ দিয়ে সালমানবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এইদিকে সালমানভক্তরা মহাখুশি। এতদিন এসব দেখার জন্য তারা আন্তর্জাতিক চ্যানেল দেখতেন। এবার ‘দেশীয় পণ্য দেখে হন ধন্য’ স্লোগানে তারা সালমানের কন্টেন্ট আন্তর্জাতিক হয়েছে বলে প্রমাণের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, পর্ণস্টাররা করলে সুন্দর, সালমান করলেই বান্দর এমন দ্বিমুখী আচরণ কাম্য নয়। দেশীয় সুড়সুড়িকে উৎসাহিত না করলে, সালমান কিভাবে এমন কাতুকুতু মার্কা ভিডিও বানানোর উদ্যম পাবেন? তাদের হতাশা, এদেশে সুড়সুড়ি দেয়া প্রতিভাদের মূল্যায়ন হয় না, সালমান এই দেশে জন্ম না নিয়ে আফ্রিকায় জন্মালেও এরচেয়ে বেশি ইজ্জত পেতেন!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button