খেলা ও ধুলা

গল্পটা তামিমের অথবা ইংলিশ চ্যানেলে হারিয়ে যাওয়া সালার

১, তামিম ইকবাল গতকাল যে ইনিংসটি খেললেন, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য! বাংলাদেশের ক্রিকেট বিবেচনায় এটি নিঃসন্দেহে এদেশের ইতিহাসের সেরা টি টোয়েন্টি ইনিংস। মুশফিকুর রহিমের যদিও বেশ কিছু ইনিংস রয়েছে, তবে এটিকেই অদ্যবধি শ্রেষ্ঠ বলতে হবে। বিপিএল ২০১৯-এ ফাইনালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশি কোন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি ছিল না। যেটি আমাদের আফসোস বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছিল, সেটি আসল কত ঝকমারি রূপে! ফাইনালের মতো হাই ভোল্টেজ ম্যাচে! বড় ম্যাচের খেলোয়াড় একেই বলে। খেয়াল করলে দেখবেন, তামিমের গতকালের ইনিংসে কোন অক্রিকেটীয় শট ছিল না অথবা অন্যভাবে বলা যায়, উদ্ভাবনী কিছু করার প্রবণতা তার মাঝে দেখা যায়নি। যেভাবে তামিম খেলে থাকেন, সেভাবেই স্বভাবজাত খেলেছেন ফাইনালে। কাট, ফ্লিক, কাভার ড্রাইভ, সুইপ, স্ট্রেট ড্রাইভ সহ খেলেছেন ধ্রুপদী সব শট। শুরুর দিকে দুটি ‘লাইফ’ পেয়েছেন। তবে ভাগ্য যে সর্বদা সাহসীর পক্ষে থাকে, তা বোধকরি সবার জানা। ক্রিকেটের ব্যাকরণ মেনেই তামিম খেললেন ৬১ বলে ১৪১ রানের ঝকঝকে ইনিংস। এগারোটি ছক্কায় সাজানো অনবদ্য এক সেঞ্চুরি করলেন স্ট্রাইকরেট ২৩১ রেখে। মহাকাব্যিক শতরানে বাংলাদেশের সেরা উইলোবাজ কুমিল্লাকে ম্যাচ জেতালেন, শিরোপাও জেতালেন। ছাড়িয়ে গেলেন বিচিত্র মাইলফলক। রেকর্ড গড়লেন বহুমাত্রিক। আর নিজেকে নিয়ে গেলেন অনন্য উচ্চতায়, যেখানে শুধু ‘তামিম’রাই যেতে পারেন! ম্যাচশেষে ঊর্ধ্বপানে তাকালেন অঙ্গুলি উঁচু করে। হয়তো বাবার সাথে ইশারায় কথা বললেন…

২, ফুটবলে মন খারাপের ঘটনা ঘটে চলেছে বেশ কিছু দিন ধরে। গতকাল ঘটল ভয়ানক ও মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লামেঙ্গোর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে (যেখানে মূলত একাডেমির কিশোর খেলোয়াড়েরাই থাকে) আগুনে পুড়ে ১০ জন কিশোর মারা গেছে এবং ৩ জন আহত হয়েছে! এই ক্লাব থেকে ব্রাজিলের অসংখ্য অমিত প্রতিভাবান প্লেয়ার বিকশিত হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিনি টুইট করেছেন- “কী কষ্টের সংবাদ। সবার জন্য প্রার্থনা করুন। সবাই শক্ত থাকুন, শক্ত থাকুন।”

অন্যদিকে, নিখোজ আর্জেন্টাইন ফুটবলার এমিলিয়ানো সালার দেহটি খুজে পাওয়া গেছে অবশেষে। ফ্রেঞ্চ ক্লাব নঁতে থেকে দলবদল করে কার্ডিফ সিটিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন সালা। গত ২১ জানুয়ারি ফ্রান্স থেকে ইংল্যান্ডের পথে এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট পাইপার ম্যালিবু উড়োজাহাজে চড়েন সালা। বাজে আবহাওয়ার কারণে মাঝপথে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে বিধ্বস্ত হয় উড়োজাহাজটি ইংলিশ চ্যানেলে।

দুই সপ্তাহ উদ্ধারকাজ চালানোর পর ইংলিশ চ্যানেলের তলদেশে সালাকে বহনকারী সেই উড়োজাহাজের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা গেছে, প্রাপ্ত দেহটি নিশ্চিতভাবেই এমিলিয়ানো সালার। কিন্তু সালার পোষা কুকুর নালা কি এই খবর জানে? নালা কি জানে তার প্রিয় বন্ধুটি অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছে? অন্তিম যাত্রার অর্থ কি কুকুরের পক্ষে বোঝা সম্ভব?

সালার পোষা কুকুর হয়তো কিছুই জানেনা। তাই খোলা দরজা দিয়ে বাইরের পৃথিবীতে তাকিয়ে থাকে সে। মনিব কখন আসবেন, সেই অপেক্ষাতে নালা অধীর আগ্রহে প্রহর গোনে। কিন্তু এই অপেক্ষা শেষ হবে না আর কখনও। আর কোন রাতে কোন রূপকথা এই ধরাতে নেমে আসছে না..

Comments
Tags

Related Articles

Back to top button