খেলা ও ধুলা

রিয়াদকে নিয়ে বাংলাদেশ দলে দ্বন্দ্ব?

ব্যাটে রান নেই, আউট হচ্ছেন বাজেভাবে। কাঁধের ইনজুরির কারণে বোলিং করতে পারছেন না অনেকদিন ধরেই, ফিল্ডিংটাও মানসম্মত হচ্ছে না, এই শ্রীলঙ্কা সিরিজেও মিস করেছেন ক্যাচ। মাঠের পারফরম্যান্সটা একদমই কথা বলছে না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হয়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডেতে তার ব্যাট থেকে এসেছে যথাক্রমে তিন এবং ছয় রান।

লঙ্কানদের মাটিতে বাংলাদেশ দলের যখন ধরাশায়ী দশা, তখনই মোটামুটি বোমা ফাটিয়েছে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ। এক প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছে, শুধু মাঠে নন, মাঠের বাইরেও ভালো নেই রিয়াদ। ড্রেসিংরুমে তাকে নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, এমনকি বিশ্বকাপের এক পর্যায়ে সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নাকি রিয়াদের ওপর বিরক্ত হয়ে তাকে দল থেকেই বাদ দেয়ার কথা বলেছিলেন!

ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, সাকিবের সঙ্গে রিয়াদের ঝামেলার সূত্রপাত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে। ৩৮৭ রানের বিশাল এক লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করছিলো বাংলাদেশ দল। মোহাম্মদ মিঠুন আউট হবার পরে রিয়াদ যখন উইকেটে এলেন। তখন বিশ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রায় ২১৫ রান। ড্রেসিংরুমের সবাই তখনও বিশ্বাস করছিলেন, এখান থেকেও ম্যাচটা জেতা সম্ভব। সেই মূহুর্তে হাত খুলে না খেলে রিয়াদ উল্টো খোলসের ভেতর ঢুকে গিয়েছিলেন, খেলেছিলেন ৪১ বলে ২৮ রানের একটা ইনিংস। আর এই ব্যাপারটাই দৃষ্টিকটু লেগেছে সেই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানের কাছে।

রিয়াদের ব্যাটিঙে সেদিন আক্রমণের নাম-নিশানাও খুঁজে পাননি সাকিব, দেখেননি ম্যাচ জয়ের কোন ইচ্ছা। আর তাই অধিনায়ক মাশরাফিকে তিনি বলেছিলেন, পরবর্তী ম্যাচে রিয়াদকে যাতে বিবেচনায় না নেয়া হয়। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে কোচ স্টিভ রোডস এবং মাশরাফি রিয়াদকে সবগুলো ম্যাচই খেলিয়েছেন। সাকিব টুর্নামেন্টের বাকী সময়টায় টিম প্ল্যান থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন, নিজের মতো আলাদা থেকেছেন, এমনটাই দাবী করা হয়েছে ক্রিকবাজের সেই প্রতিবেদনে।

ক্রিকবাজ জানাচ্ছে, ড্রেসিংরুমেও সতীর্থদের কাছে সমর্থন পাচ্ছিলেন না মাহমুদউল্লাহ। আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের পর থেকেই সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেছেন এই ৩৩ বছর বয়সী। এমনকি নিজের ব্যাটিং পজিশন নিয়েও অসন্তুষ্ট ছিলেন তিনি।আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ড্রেসিংরুমে ফিরে সতীর্থরা কেন তালি বাজাচ্ছে না- এটা নিয়েও নাকি সিন ক্রিয়েট করেছিলেন রিয়াদ, প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে এমনটাই!

নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকেই চোটের সঙ্গে লড়ছেন রিয়াদ। ত্রিদেশীয় সিরিজ, বিশ্বকাপ- সবই খেলেছেন চোট নিয়ে। রিয়াদের ব্যাটিং দেখেও বোঝা যাচ্ছে, পুরোপুরি ফিট তিনি নন, ফিল্ডিঙেও কাজ করছে জড়তা। শ্রীলঙ্কা সিরিজে ছুটি চেয়েছিলেন তিনি। কিন্ত সাকিব আগে থেকেই ছুটি নিয়েছেন, ইনজুরির কারণে মাশরাফি দলে নেই- এসব কারণে বাধ্য হয়েই রিয়াদকে যেতে হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। কিন্ত সমস্যা হচ্ছে, জোর করে মাঠে নামা যায়, কিন্ত জোর করে তো ভালো পারফরম্যান্স বের করে আনা যায় না। সেটাই এখন হচ্ছে রিয়াদের সঙ্গে।

গত ম্যাচে আকিলা ধনাঞ্জয়ার যে বলটাতে তিনি বোল্ড হলেন, অন্য সময়ে হলে এমন বলে আউট হওয়াটাকে হয়তো রিয়াদের নিজের কাছেই পাপ বলে মনে হতো। অথচ সেদিন স্বাভাবিক ডেলিভারিটাই তিনি পড়তে পারেননি। সময়টা ভালো যাচ্ছে না রিয়াদের, না মাঠে, না মাঠের বাইরে। এই বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায়টাও তাকেই খুঁজে বের করতে হবে। নইলে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের একজন থেকে দলের বোঝা হয়ে যেতে সময় লাগবে না খুব বেশি।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button