ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

রিকশা আন্দোলন কতটা যুক্তিযুক্ত?

যে তিনটি রুটে রিকশা চলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, এগুলোতে আগেও নিষেধাজ্ঞা ছিলো। গাবতলি থেকে আজিমপুর রুটে রিকশা চলার কথা নয়। কিন্তু ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ৫-১০ টাকা নিয়ে এদের ছেড়ে দিত। এভাবে করতে করতে রিকশা চলা আবার নিয়মিত হয়ে গেছে এসব রাস্তায়।

যানজট সমস্যা মোকাবিলার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া দরকার। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা উন্নত করা এর মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। মূল সড়কগুলোতে রিকশা বন্ধ করাও এই পদক্ষেপের অংশ এবং অবশ্যই একটি দরকারি সিদ্ধান্ত। এমন নয় যে ঢাকা শহর থেকে রিকশা তুলে দেয়া হয়েছে। তবে ক্রমান্বয়ে রিকশা উঠে যাবে- এটাই স্বাভাবিক।

উদাহরণ হিসেবে কলকাতার দিকে তাকানো যায়। সেখানে রিকশা নেই বললেই চলে। মূল রাস্তায় তো নেই-ই, শুধু অলিতে গলিতে রিকশা চলে। টানা রিকশাগুলো আছে পর্যটকদের আকর্ষন হিসেবে। কিন্তু সেখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা বেশ উন্নত। এছাড়া ছোট দূরত্ব মানুষ হেঁটে পার হয়। মোটামুটি দূরত্বের জন্য অটো-রিকশার ব্যবস্থা, আমাদের এখানকার লেগুনার মতো। এই অটো-রিকশা সিস্টেম ঢাকার অনেক জায়গাতেই চালু আছে। এই ব্যবস্থা আরো বাড়ানো যেতে পারে, এতে করে রিকশার উপর নির্ভরতা কমবে।

ভবিষ্যতে রিকশা থাকবে কিনা সেটা দূরের আলোচনা। কিন্তু বর্তমানে, আগেও নিষিদ্ধ মূল রাস্তায়, নতুন করে আবার নিষেধাজ্ঞা জারি করে রিকশা বন্ধ করে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত- সেটা ইতিবাচক। পাশাপাশি রিকশা চালনায় যে বিশাল সংখ্যক মানুষ জড়িত, তাদের শ্রমশক্তিকে অন্য কিভাবে কাজে লাগানো সম্ভব, সেটা নিয়েও কাজ শুরু করা উচিত।

ফেসবুকে শ্রমজীবীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করার নিমিত্তে বিপ্লব চলতেই পারে। কিন্তু রাস্তা আটকে রিকশাচালকদের সত্যিকারের যে আন্দোলন চলছে খুব সম্ভবত তার পিছনে রিকশামালিকদের ইন্ধনটাই বেশি। রিকশা মালিকরা দৈনিক যে জমা রাখে, সেখানে রিকশাচালকদের লাভ খুব বেশি থাকেনা। লাভের গুড় মালিকরাই খায়। কাজেই তাদের স্বার্থে আঘাত লাগলে তারা রিকশা চালকদের উসকে দেবে এটাই স্বাভাবিক। অপরাধপ্রবণ এই দরিদ্র মানুষদের নানা রকম অপরাধ মূলক কাজেও এই পক্ষ ব্যবহার করতে পারে। এমতাবস্থায় সরকারকে হঠকারী মন্তব্য পরিহার করে কৌশলে অবস্থা সামাল দিতে হবে। যদিও সেটা সহজ কাজ নয়।

এদেশে ভেজাল ওষুধের দোকানে অভিযান চালাতে গেলে দোকানদাররা সম্মিলিত ভাবে ‘আন্দোলন’ করে। হকারদের ফুটপাথ থেকে উঠাতে গেলে তারাও দখল জারি রাখার জন্য ‘আন্দোলন’ করে। রিকশাচালকরাও ‘আন্দোলন’ করছে। এসব ‘আন্দোলন’ সামাল দেয়া মুশকিল। ফেসবুক বিপ্লবীরা এই চান্সে নিজেদের শ্রমিকবান্ধব ইমেজ খাড়া করে নিচ্ছে- আপাতত এইটুকুই আমাদের লাভ।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button