খেলা ও ধুলা

প্রতিপক্ষ হলেও শ্রদ্ধার্ঘ্য বরাদ্দ রয় তাদের তরে

নিউজিল্যান্ড দেশটাকে দিয়ে প্রথম স্মৃতি ১৯৯৯ বিশ্বকাপে। জার্সির জন্যে স্পেশালি। ‘ওদের জার্সিতে কেন খেজুরের পাতার ছবি থাকে’ এটাই ছিল শিশুমনে দাগ কেটে যাওয়া এক গভীর প্রশ্ন। অনেক পরে বুঝেছি, ওইটা আর যাই হোক খেজুরপাতা নয়। হোয়াইট ফার্ন বা এই জাতীয় কি যেন এক ইতিহাস আছে এ নিয়ে। সে গল্প অন্য সময়।

কিউইদের নিয়ে এরপরে জানাশোনা বাড়লো। রজার ট্যুজ প্রথম কিউই ব্যাটসম্যান, যার ব্যাটিং ভাল লাগতো। একে একে ফ্লেমিংদের চিনলাম। নাথান এস্টল, হ্যারিসদের জানলাম। ভেট্টোরি, বন্ড, বাজ হয়ে এখন উইলিয়ামসন- সমস্ত প্রজন্মই কমন একটা জিনিস ধরে রেখেছে ওদের মধ্যে- ওরা অসম্ভব বিনয়ী, চিন্তাভাবনার জায়গায় পরিষ্কার, কাউকে প্রাপ্য সম্মান দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই। ক্রিস কেয়ার্নস- বিতর্ক ইত্যাদি দুয়েকটা ব্যাপার যে মাঝেমধ্যে প্রশ্ন তোলেনি তা না, এসব বাদ দিলে আধুনিক ক্রিকেটে নানান ছলচাতুরীর মধ্যেও ওরা ওদের ভাবমূর্তির জায়গায় সমুজ্জ্বল।

আজকেও উইলিয়ামসনেরর থ্রো রানের জন্যে ডাইভ দেওয়া মিরাজের হেলমেটে লাগতেই বোলার সান্টনার ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ল মিরাজের খোঁজ নিতে। উইলিয়ামসন এসে মিরাজের হাতে ছোট্ট টোকা দিয়ে ‘সব ঠিক আছে তো, না?’ জাতীয় এক হাসি দিয়ে শিষ্টাচার দেখালো। খুব ছোট্ট ব্যাপার, যা না করলেও তেমন কিছু আসে যায় না। কিন্তু তা দেখিয়ে মানুষ হিসেবে নিজেকে এক ধাপ উপরে নিয়ে যাওয়া যায়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেই বিখ্যাত ম্যাচে, সাকিব-রিয়াদ পার্টনারশিপে খাদের কিনার থেকে জয় আসলো। ট্রেন্ট বোল্ট সাকিবকে বোল্ড করে সবার আগে তাকে অভিনন্দন জানায়। আস্তে আস্তে বাকিরাও এসে হাত মিলিয়ে যায়। একটা বড় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার সময়েও এই ভদ্রতাটুকুই ওদের অন্য অনেকের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে।

আজ টসের পর থেকেই কিউই কমেন্টটরদের মুখে মাশরাফি বন্দনার শুরু। এত বছর শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলে যাওয়ার জন্যে সাইমন ড্যুল ম্যাশকে খুব হাইলি রেট করলো। ক্রিকেট বিশ্বেও যা আরো বেশিই প্রচারের আলো পাওয়ার দাবি রাখে। ম্যাশের হাঁটুর রিং, অপারেশন, ডেডিকেশন সবিস্তারে সব কিছু নিয়েই ওরা কিছুক্ষণ আলোচনা করে আর সবার মতই বিস্ময় প্রকাশ করলো, এই অবস্থা নিয়েও কিভাবে একজন মানুষ পেস বোলিং করে যায় এত বছর ধরে!

মাশরাফি বিন মুর্তজা

বোলিং এর সময় সাংসদ ম্যাশের পলিটিক্যাল সাফল্য থেকে শুরু দেশে ওর জনপ্রিয়তা, একে একে সব কিছুই উঠে আসলো কমেন্ট্রিতে। জানা কথাগুলাই ওরা বলছিল, কিন্তু শুনতে বড় ভাল লাগলো। আমাদের কাপ্তান, আমাদের ম্যাশ এই ডিসকাসনগুলার প্রাপ্য। ওকে নিয়ে আলোচনাগুলো বড় পরিসরেই হওয়া উচিত। তার জন্যে কিউই এই মানুষগুলা বড়সড় এক ধন্যবাদ পাবে।

স্কট স্টাইরিস সারাংশ টেনে দিল সব কথার শেষ কথা দিয়ে, ‘মাশরাফি ইজ আ চ্যাম্পিয়ন।’ ইনডিড স্কট, হি ইজ আওয়ার চ্যাম্পিয়ন।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button