মতামত

ভন্ড ধার্মিকরা ইসলামের বড় শত্রু!

সেনা স্বৈরাচার এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম। অবশ্য এর প্রায় ১১ বছর আগেই সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা (অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীলতা) বাদ দিয়ে রাষ্ট্রধর্মের পথ সুগম করেন এরশাদের পূর্বসুরী ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সেনা স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান যিনি জামায়াত, জাসদ ও বিভিন্ন দলের আওয়ামী-বিরোধীদের নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর খালেদা জিয়া এবং পরবর্তীতে খালেদা-নিজামী ও আওয়ামীলীগের একাংশ একই পথে হেঁটেছেন।

তবে ২০১১ সালে শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সংবিধানে আবারো ধর্মনিরপেক্ষতা যোগ করায় দেশে বিশাল গন্ডগোল শুরু হয়, যার ফলশ্রুতিতে সারাদেশে জামায়াত-বিএনপি এবং সুন্নি জঙ্গীদের তান্ডব চোখে পড়ছে। কারন এই গোষ্ঠীগুলোর কারো কারো লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে এদেশে খেলাফত বা শরীয়াহ আইন চালু করা, যেখানে তারা গুটিকয়েক ধুরন্ধর ধর্ম ব্যবসায়ী রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগ করবে।

ভন্ড ধার্মিক

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী, প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের কিছু অসাধু বিচারক ও আইনজীবী এসব ভয়ংকর প্রাণীদের বিভিন্ন কারনে বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে। এতে সরকার ও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং টাকা ও ক্ষমতার প্রতি লোভ মারাত্মকভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।

আজকাল ৯০%-এর বেশি মুসলিমের এই দেশে যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, তারা হরহামেশাই ঘৃণা ছড়াচ্ছে। কাফের, মুরতাদ, মুশরিক, নাস্তিক ইত্যাদি বলে উদার মুসলিম ও অমুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ছড়াচ্ছে। তাদের উপর হামলা করে খুন-খারাবি করছে। ঠিক যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের নাস্তিক ও ভারতের দালাল বলে খুন করা হতো, তেমনি আজকাল ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গেলেই তাকে নাস্তিক বা মুরতাদ বলে ট্যাগ লাগিয়ে খুনের ফতোয়া দেয়া হচ্ছে।

 

জেনারেল জিয়ার আমল থেকে আজ অবধি এই গোষ্ঠীর হাতে খুন হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ, সাথে সম্পদের ক্ষতি তো আছেই। গত ৩ বছরে খুনাখুনি কমে গেলেও অনলাইন ও অফলাইনে ঘৃণা প্রকাশ ও ভয় দেখানো বন্ধ হয়নি। এর কারন হলো জঙ্গীরা এখন ২০১৭ থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। তাদের লক্ষ্য সামনের দিনে গুলশানে হলি আর্টিজান বা শোলাকিয়া ময়দানে হামলার মতো সহিংসতা করা।

এছাড়া মায়ানমারের আরাকান রাজ্যে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও কাশ্মীরে বড় ধরণের হামলা করে এই অঞ্চলে খেলাফত বা শরীয়াহ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এসব গোষ্ঠী। এই কাজে তাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করছে হেফাজতে ইসলাম তথা আমিনী-শফির ইসলামী ঐক্যজোট, ড আসাদুল্লাহ গালিবের আহলে হাদিস, আন্তর্জাতিক সংস্থা হিজবুত তাহরীরের মতো উগ্রবাদী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপভিত্তিক কিছু এনজিও। এর বাইরে সক্রিয় আওয়ামীবিরোধী মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, বিভিন্ন পেশাজীবী, এবং পুলিশ ও জেলখানার কর্মকর্তা এই খেলাফতের পরিকল্পনায় সাহায্য করছে। ওয়াজ মাহফিলের নামে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সভার লেবাসে এরা শরীয়াহ প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করছে।

ওয়াজ মাহফিল, ওয়াজ, হুজুরের বয়ান

নামাজ-রোজা-টুপি-পর্দা ইত্যাদি বলে এরা কাছে আসে। এরপর ধীরে ধীরে মগজ ধোলাই করে জান্নাতের লোভ দেখিয়ে খুনাখুনি করতে অন্ধ মুসলিমদের প্রলুব্ধ করে। ভারত, আরাকান, চীন, ইউরোপ ও আমেরিকার মুসলিমদের উপর নির্যাতন-বৈষম্যের বিষয়কে সামনে এনে তাদের মনকে আরো বিষিয়ে তুলছে এই গোষ্ঠী।

এদের কাউকে কি আপনি আস্তিক বলবেন? আমি বলবো এরা সবাই নাস্তিক। কারন এরা তাদের সৃষ্টিকর্তাকে ভয় পায় না। তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনা। যদি করতো তাহলে তারা আরো ধৈর্য্যশীল ও পরোপকারী হতো, যেন তাদের দেখে অন্যরা ইসলামী মূল্যবোধ চর্চা করে আর অমুসলিমরা ইসলামকে শ্রদ্ধা করতো; আল্লাহর অস্তিত্ব মানলে এরা মিথ্যাবাদী ও খুনী মনোভাবের হতো না। এরাই ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু। আর তাই বাংলাদেশে এতো দুর্নীতি, অনিয়ম, হানাহানি, নোংরামি আর অসভ্যতা চলছে।

অন্যদিকে এই উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর মুখোশ খুলে দিয়ে নাস্তিক বা উদার মুসলিমরা ইসলামের উপকার করছে; আর সরকার জঙ্গী ও জামায়াতীদের মূল উৎপাটনের চেষ্টা করছে; কিন্তু সৌদী ও পাকিস্তানপন্থী এদেশের কিছু তথাকথিত মুসলিম সন্ত্রাসী ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের গা জ্বালা করছে – তারা সাধারণ মুসলিমদের উস্কানী দিয়ে বর্ম তৈরি করে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button