রিডিং রুমলেখালেখি

ধর্ম কেন প্রয়োজন?

ধর্মের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বাঘা বাঘা নাস্তিকদের নানান যুক্তি। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে ইজরাইলি লেখক প্রফেসর ইউভ্যাল নোয়া হারিরির কথা। তার লেখা Sapiens অথবা Homo Deus পড়ার পর মোটামুটি ধরে নেওয়া যায় তিনি একজন নাস্তিক। এবং যেনতেন ট্রেন্ডিয় নাস্তিক নন। তিনি সহাবস্থান ও পারস্পারিক মমতায় বিশ্বাস করেন। তার মতো রাঘব বোয়াল সাইজের নাস্তিক কিংবা বিবর্তনবাদী খুব বেশি পৃথিবীতে নেই। অথচ তিনি নিজেও কী চমৎকার বিনয়ীভাবে ধর্মকে পজিটিভলি গ্রহণ করেছেন। তিনি তার প্রথম বইতে ধর্মের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপারটা বেশ উচ্চমার্গীয়ভাবে প্রকাশ করেছেন। আমি একটু সহজ করে বলি।

আপনি যখন সেনেগালে যাবেন, আপনি অসহায়। আকস্মিক আপনার কাছ থেকে সব টাকা হারিয়ে গেল। আপনি থাকার জায়গা পাচ্ছেন না। ঠিক তখন আপনাকে একজন মানুষের দরকার হবে, যে আপনাকে পথ দেখিয়ে দিবে। বিপদে পাশে দাঁড়াবে। একই সুরে আপনার সাথে কথা বলবে। আপনি তার জন্য, সে আপনার জন্য মায়া বোধ করবে। সেটা হল আপনার ধর্ম। কোন পার্থিব উদ্দেশ্যে সে আপনাকে কাছে টানবে না। কাছে টানলে একমাত্র ধর্মের জন্যই টানবে। পাশে বসাবে, থাকতে দিবে, খেতে দিবে।

পৃথিবীর কয়েকশ কোটি মানুষকে একসাথে নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব। একজন শাসনকর্তা বুলেট দেখিয়ে এতগুলো মানুষকে শাসন করতে পারবে না। একটা পার্থিব নীতি কিংবা দৃশ্যমান শাসনকর্তা দিয়ে এতগুলো মানুষকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। আপনাকে একজন অপার্থিব শক্তির সাহায্য নিতে হবে। সবার মাথার উপর একই ছাদ দিতে হবে। সবার আবেগ-বিশ্বাস একই হতে হবে। সেটা শুধুমাত্র ধর্মই পারে। সবার একটি কমন বিশ্বাস না থাকলে কেউ কাউকে ক্ষমা করত না। প্রতিশোধের ব্যাপারটা, চোখের বিনিময়ে চোখ তুলে ফেলার রীতি এখনো পৃথিবীতে টিকে থাকত। যখনই সবার মাথার উপরে একটি ধর্মের ছায়া তুলে দেওয়া হয়েছে, মানুষ ক্ষমা করতে শিখেছে।

জেমস প্যাটারসন ভাবতেন, তলোয়ার দিয়ে শাসন করা যায় কিন্তু সেখানেও বিপ্লবের সম্ভাবনা থাকে। সামান্য হুংকারে বিশৃংখলা দেখা দিতে পারে সুবিশাল এলাকাজুড়ে। কিন্তু ধর্মীয় ব্যাপারে এই ব্যাপারটি ঘটে না। তলোয়ারের নিচে শাসন করা যায় কিন্তু তলোয়ারের উপর বসে থাকা যায় না।

ধর্মের প্রয়োজনীয়তা না থাকলে দুই হাজার বছর খ্রিষ্টান ধর্ম টিকে থাকত না। পনেরশ বছর ইসলাম ধর্ম টিকে থাকত না। সনাতন ধর্মের প্রয়োজনীয়তা না থাকলে উধাও হয়ে যেত। কিন্তু কী ঘটেছে? ধর্মের আরও বিস্তার ঘটেছে। এখনো মানুষ বিপদে-ক্ষতিতে-কান্নায় ধর্মের কাছে ছুটে যায়। দিনশেষে কারো কাছে আশ্রয় নিতে হয়। সে আশ্রয় হল ধর্ম। একজন অপার্থিব, অদেখা, পর্দার আড়ালে থাকা মহা শক্তিধরের উপস্থিতিই পৃথিবীকে রেখেছে নীরব, শান্ত, পারস্পরিক মমতার বন্ধনে।

Comments
Tags

Related Articles

Back to top button