সিনেমা হলের গলি

পূজা চেরি- যে ফুল এখনও পাপড়ি মেলার অপেক্ষায়!

– তোমার জামা থেকে এমন সুগন্ধ! তুমি না ওই রাস্তা দিয়ে আসো?

– আসি না, আমি ঐখানেই থাকি।

রিন পাওয়ার হোয়াইটের বিজ্ঞাপনে চোয়াল শক্ত করে শেষোক্ত উক্তিটি করেছিল মাত্র ক্লাস ফাইভে পড়া একটি মেয়ে। এবং ওই একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই দেশব্যাপী পরিচিত মুখে পরিণত হয় সে। অবশ্য ছোটপর্দার বিজ্ঞাপনচিত্রে তার সেরা কাজ টেলিটকের হয়ে। ভিডিও কলিং এর কনসেপ্ট নিয়ে নির্মিত একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে বোবা মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিল সে। মুখে কোন সংলাপ না থাকলেও, তার মৌখিক অভিব্যক্তি আর অসাধারণ চোখের অভিনয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল তখনই যে জাত অভিনেত্রী সে। ঠিকভাবে গড়ে তুলে কাজে লাগাতে পারলে যে কিনা অনাগত ভবিষ্যতে দারুণ কিছু করে দেখানোর সক্ষমতা রাখে। রিন পাওয়ার হোয়াইট আর টেলিটকের ছাড়াও আরও বেশ কিছু ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছিল সে, যার মধ্যে আরএফএল, সেনোরা, পিংপং ড্রিংকস, ডুডলস নুডলস প্রভৃতি অন্যতম।

puja cherry, পূজা চেরি, পোড়ামন ২, নুরজাহান, জাজ মাল্টিমিডিয়া

এতক্ষণ যেই মেয়েটির কথা বলছিলাম, তিনি পূজা চেরি। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী হিসেবে ধরা হয়ে থাকে তাকে। তার প্রকৃত নাম অবশ্য পূজা চেরি নয়। সার্টিফিকেটে তার নাম জয়িতা রায় পূজা। তাহলে চেরি নামটি আসলো কোত্থেকে? এটি কি তবে মিডিয়ার কারও দেয়া? এমনটি ভেবে নেয়াই স্বাভাবিক। তবে চেরি নামটি তাকে দিয়েছেন তাদের পারিবারিক গুরুদেব। জাপানে বাস করতেন তিনি। ছোটবেলায় পূজা এতটাই সুন্দরী ছিলেন যে তার সাথে গুরুদেব জাপানি চেরি ফুলের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন। এজন্যই চেরি নামটি দিয়েছিলেন তাকে, এবং এই নামেই এখন তাকে চেনে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ চলচ্চিত্রপ্রেমী।

বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে রীতিমত অভিজ্ঞ হয়ে ওঠা পূজা বড়পর্দার জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবিতে। এরপর তিনি একে একে কাজ করেন ‘অগ্নি’, ‘তবুও ভালোবাসি’, ‘ব্ল্যাকমেইল’, ‘বাদশা দ্য ডন’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’- প্রভৃতি ছবিতে, শিশুশিল্পী হিসেবে। এর মধ্যে পূজা সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিলেন ‘অগ্নি’ ছবিতে মাহিয়া মাহির ছোটবেলার ভূমিকায় অভিনয় করে। ওই ছবিতে সামান্য সময়ের পর্দা উপস্থিতিতেই তার মধ্য দিয়ে যে আগুন ঠিকরে বেরিয়েছিল, তাতেই সবাই আরও একবার বুঝে গিয়েছিল যে এই মেয়ে একদিন দেশীয় চলচ্চিত্রে মুখ্য নারী চরিত্রেই কাজ করবে।

puja cherry, পূজা চেরি, পোড়ামন ২, নুরজাহান, জাজ মাল্টিমিডিয়া

পরপর বেশ কিছু ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন পূজা। কিন্তু তারপরই হঠাৎ করে আর কোন ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মূলত তার মেন্টর ও সার্বক্ষণিক সঙ্গী, মা ঝর্ণা রায়ের পরামর্শেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ ঝর্ণা রায় বুঝতে পেরেছিলেন, একসময় শীর্ষস্থানীয় নায়িকা হওয়াই তার মেয়ের নিয়তি। ওইসময় যদি কেবল শিশুশিল্পী হিসেবেই কাজ করে যেতেন কেবল, তবে দর্শকমনে পূজার ব্যাপারে এমন একটি ভাবমূর্তি তৈরী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল যা পরবর্তীতে খন্ডানো বেশ কঠিন হতো, ফলে নায়িকা হিসেবে তার সর্বমহলের গ্রহণযোগ্যতা পেতেও অনেক ঝক্কি পোহাতে হতো। এইসব চিন্তা থেকেই মেয়েকে আর কোন ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করানো থেকে বিরত থাকেন ঝর্ণা রায়। বরং ওই সময় নাচ-গানের পাশাপাশি মেয়েকে মার্শাল আর্ট আর সাইক্লিংটাও শিখিয়ে দেন, যাতে করে পরে নায়িকা হিসেবে কাজ করতে সুবিধা হয়। সেই সাথে অভিনয়েও যাতে মেয়ে আরও দক্ষ হয়ে উঠতে পারে, অভিনয়ের টেকনিক্যাল দিকগুলো রপ্ত করে নিতে পারে, সেসব ব্যাপারে মেয়েকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা দিতে থাকেন তিনি। তার লক্ষ্য ছিল, এসএসসি পরীক্ষাটা দেয়ার পর সরাসরি মেয়েকে নায়িকা হিসেবে ছবিতে কাজ করাবেন।

তবে ঝর্ণা রায়ের মনস্কামনা পুরোটা সফল হয়নি। তার মেয়ে নায়িকা হয়ে গেছেন ঠিকই, কিন্তু সেজন্য এসএসসি পাশ করা অবধি অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। ক্লাস নাইনে পড়ার সময়ই জাজ মাল্টিমিডিয়ার তরফ থেকে তাদের জানানো হয় যে, ‘পোড়ামন টু’ ছবির জন্য পূজাকে ভেবেছেন তারা। বিপরীতে থাকবেন তরুণ নায়ক রোশান। পরে অবশ্য নায়ক হিসেবে রোশানের পরিবর্তে আসেন সিয়াম আহমেদ। একদম নতুন জুটিকে নিয়েই দারুণ ব্যবসাসফল একটি ছবি উপহার দেন অভিষিক্ত পরিচালক রায়হান রাফি।

সিনেমা, পোস্টার

অবশ্য পূজার জন্য কিন্তু ‘পোড়ামন টু’ তার অভিষেক চলচ্চিত্র নয়। এই ছবির আগেই ইন্দো-বাংলা যৌথ প্রযোজনায়, রাজ চক্রবর্তীর সহকারী অভিমন্যু মুখার্জী পরিচালিত ‘নূর জাহান’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের তরুণ অভিনেতা অদৃতের বিপরীতে কাজ করেছিলেন পূজা। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্তি পায় ‘নূর জাহান’। এবং বলা চলে নায়িকা হিসেবে প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন পূজা। অনেকেই তো বলে থাকে, ‘নূর জাহান’ ছবিটি মূলত পূজারই। যারা এ কথা বলে, বিন্দুমাত্র ভুল বলে না। কারণ প্রথম ছবিতেই নিজের অভিনয়শৈলীর যে অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পূজা, তা কেবল পরম বিস্ময়েরই উদ্রেক ঘটায়। এত অল্প বয়সে, নিজের প্রথম ছবিতেই পূজা কী করে এতটা পরিণত অভিনয় করলেন, তা সত্যিই অবাক বনে যাওয়ার মত একটি বিষয়।

এবং পূজা যে আসলেই অভিনেত্রী হিসেবে সমসাময়িক সকলের থেকে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে, সে স্বাক্ষর তিনি আবারও রেখেছেণ ঈদ-উল-ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘পোড়ামন টু’ ছবির মাধ্যমে। এ ছবিতেও সহশিল্পী সিয়ামের চেয়ে পূজার অভিনয় প্রতিভাই প্রশংসিত হয়েছে বেশি। আর মাত্র দুইটি ছবিতে নায়িকা হিসেবে তার কাজ দেখার পরই মোটামুটি নিঃসন্দেহ সকলে যে, পূজাই হলেন বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে পূজার চেয়ে প্রতিভাবান আর কোন নায়িকা নেই।

মাহি ‘অগ্নি’ ও ‘অগ্নি টু’ আর পরীমণি ‘রক্ত’ ছবির মাধ্যমে অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন বটে, যে সুযোগ পূজার সামনে এখনও আসেনি। তাই তিনি যে একজন বৈচিত্র্যময় অভিনেত্রী, সেটিও এখন পর্যন্ত প্রমাণিত সত্য নয়। কিন্তু একবার পূজাকে সে ধরণের চরিত্র দেয়া হলে তিনি যে বেশ সফলতার সাথেই উৎরে যাবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

puja cherry, পূজা চেরি, পোড়ামন ২, নুরজাহান, জাজ মাল্টিমিডিয়া

পূজার সামনে রয়েছে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘প্রেম আমার ২’ ও রায়হান রাফি পরিচালিত ‘দহন’ ছবিতে। এখন পর্যন্ত তার চলচ্চিত্র বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তোলার মত পরিস্থিতি আসেনি। তাছাড়া সত্যি কথা হলো, পূজা নিজে থেকে নিজের ছবি পছন্দ করার মত পরিপক্বতাও লাভ করে উঠতে পারেনি। ইন্ডাস্ট্রিতে তার সবচেয়ে বড় অভিভাবক হলেন আব্দুল আজিজ, এবং এখন পর্যন্ত তার কথা মেনেই কাজ করে আসছেন তিনি। কিন্তু যেমনটি আমরা আগেও দেখেছি, চিরদিন একজনের ছায়ায় থাকা কোন নায়ক-নায়িকার পক্ষেই সম্ভব নয়। বাপ্পি বা মাহিদেরকে তুলে এনেছিলেন আব্দুল আজিজই, এবং যতদিন তারা জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে কাজ করেছেন, তাদের চলচ্চিত্র বাছাই নিয়ে খুব একটা আপত্তি জানাতে পারেনি কেউই। কিন্তু যখনই তারা জাজ মাল্টিমিডিয়ার বাইরে অন্য প্রোডাকশনের হয়ে কাজ করা শুরু করলেন, তখনই বোঝা যেতে লাগল যে নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে তারা মোটেই সচেতন নয়, যার ফলে অসংখ্য ভুল ছবিতে কাজ করার মাধ্যমে বাপ্পি ও মাহি দুইজনের ক্যারিয়ারই এখন শংকার মুখে।

পূজাকেও যে একসময় এমন কোন ভাগ্য বরণ করে নিতে হবে না, সে গ্যারান্টি দিতে পারবে না কেউই। তাই পূজা এবং সেই সাথে পূজার মায়ের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, অন্তত আগামী তিন থেকে চার বছর যেন তারা জাজ মাল্টিমিডিয়ার বাইরে অন্য কোন প্রোডাকশনের হয়ে কাজ করার ঝুঁকি না নেন, বা নিলেও জাজ মাল্টিমিডিয়ার সাথে সমঝোতার মাধ্যমেই কাজটি করেন। এর অন্যথা হলে, একটি ভুল পদক্ষেপেই পা পিছলে পড়ে যেতে হতে পারে। তবে একই সাথে আরও একটি বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে, কোন অভিনেতা-অভিনেত্রীর পক্ষেই সম্ভব না চিরদিন কেবল একটি প্রোডাকশন হাউজের ব্যানারেই কাজ করে যাওয়া। ক্যারিয়ারের একটি পর্যায়ে গিয়ে তাদেরকে অন্যান্য জায়গাতেও কাজ করতে হবেই, তা না হলে তাদের ক্যারিয়ার পূর্ণতা পাবে না কিছুতেই। কিন্তু কবে পূজা ক্যারিয়ারের সেই বিশেষ পর্যায়ে আসবে যখন জাজের বাইরেও তাকে অন্যান্য জায়গায় কাজ করতে হবে, সে বিষয়টি আমরা বাইরে থেকে যতটা না বুঝতে পারব, তারচেয়ে ঢের ভালো করে বুঝতে পারবেন পূজার মা ও পূজা নিজেই। সেই সঠিক সময়টি যখন আসবে, তখন যদি তারা সঠিক সিদ্ধান্ত না নেন তাহলে ক্যারিয়ারকে খুব বেশি দীর্ঘায়িত করা হয়ত সম্ভব হবে না।

আরেকটি বিষয় হলো, খুব অল্প বয়সেই পূজা অনেক কিছু পেয়ে গিয়েছেন। ভবিষ্যতেও তিনি তা পাবেন। কিন্তু এত এত প্রাপ্তিতে তার মাথা যেন ঘুরে না যায়। যদি অল্পতেই তিনি সন্তুষ্ট হয়ে যান এবং বড় কোন লক্ষ্যের বদলে নির্দিষ্ট কোন গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকাকে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক মনে করেন, বা ইন্ডাস্ট্রি বা ইন্ডাস্ট্রির বাইরের কারও সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে নিজের প্রধান কাজ তথা অভিনয়কে কম গুরুত্ব দিতে শুরু করেন, তবে হয়ত তিনি নিজেও যেমন সর্বোচ্চ অর্জন থেকে বঞ্চিত হবেন, তেমনই আমরাও বঞ্চিত হবো অসামান্য প্রতিভাসম্পন্ন একজন অভিনেত্রীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সাক্ষী হওয়া থেকে।

যাইহোক, শুধু নেতিবাচক কথা বলাটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, কারণ আমরা বিশ্বাস করি পূজা যেমন অভিনয়ে আর সবার চাইতে এগিয়ে, তেমনি মন-মানসিকতায়ও অন্যদের চেয়ে একদমই ভিন্নতর। বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের আর কয়টি নায়িকাকে শুনেছেন অবসর সময়ে ডায়রির পাতা কবিতা লিখে ভরিয়ে তুলতে? কিংবা এত অল্প বয়সেই মনের মধ্যে সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন লালন করতে, বিশেষত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য? পূজা এই কাজগুলো করেন।

puja cherry, পূজা চেরি, পোড়ামন ২, নুরজাহান, জাজ মাল্টিমিডিয়া

এবং তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস সম্পর্কেও যথেষ্ট ধারণা রাখেন। তার প্রিয় অভিনেত্রী সূচিত্রা সেন। সূচিত্রা সেন যেমন মুখে কিছু না বলেও চোখে চোখে অনেক কথা বলতে পারতেন, সেই বিষয়টি পূজার দারুণ পছন্দ। তিনি নিজেও চেষ্টা করেন এই ধরণের অভিনয় করতে। বিজ্ঞাপনচিত্রে, এবং শিশুশিল্পী ও পূর্ণাঙ্গ অভিনেত্রী হিসেবে প্রায় সকল ছবিতেই চোখ দিয়ে অভিনয়ের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে তার মধ্যে। আর সেই প্রচেষ্টায় বেশ সফলও হয়েছেন তিনি। সূচিত্রা সেন ছাড়াও বাংলাদেশী অভিনেত্রীদের মধ্যে পূজার পছন্দ ববিতা, কবরী ও শাবনূরকে। তাদের অভিনয় দেখে শেখেন তিনি, চেষ্টা করেন নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে।

অভিনয়ের প্রতি এতটা ডেডিকেশন না থাকলে কি আর এত ভালো অভিনয় করা যায়! পূজার মধ্যে এই ডেডিকেশনটা আছে বলেই দেশীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীরা তাকে আসন দিয়েছেন আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থলে। পূজার কাছ থেকে সকলেরই প্রত্যাশা আকাশ ছোঁয়া। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে পূজা নিজেও একদিন আকাশ ছোঁবেন, এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা। জন্মদিনের শুভেচ্ছা তার জন্য।

আরও পড়ুন-

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button