এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডবিবিধ

প্রিয়া সাহা, এক উগ্র সাম্প্রদায়িক দানবের কাছে বাংলাদেশকে এভাবে উপস্থাপন করলেন?

গতকাল ফেসবুকজুড়ে একটা বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে। প্রিয়া সাহা নামক এক বাংলাদেশি নারী যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে প্রিয়া তার নালিশবার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে তিনি সাহায্যও চেয়েছেন। প্রিয়া সাহার দাবি তার নিজের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তার জমিজমা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে আইনি সহায়তা পাননি।

১৬ জুলাই আমেরিকার হোয়াইট হাউজে ১৬টি দেশের প্রতিনিধিরা ডাক পান। এদের পরিচয় এরা সংখ্যালঘু এবং নিজ নিজ দেশে এরা নীপিড়নের শিকার। এই পরিচয়ে বাংলাদেশ থেকে যে নারী ট্রাম্পের দরবারে নীপিড়নের প্রতিকার চাইতে গেছেন তার নাম প্রিয়া সাহা। তিনি যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন তা রীতিমতো ভয়ংকর। বাংলাদেশ সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছে যেভাবে নালিশ জানিয়েছেন তাকে এই মুহুর্তে অতিরঞ্জিত বললে ভুল হবে কি? তার বক্তব্য ছিল, “স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানকার ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ‘নাই’ হয়ে গেছে। দয়া করে বাংলাদেশি জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।”

প্রিয়া সাহা

এক পর্যায়ে ট্রাম্প হাত বাড়িয়ে দেন। প্রিয়া সাহা হ্যান্ডশেক করা অবস্থাতেই বলতে থাকেন, “এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ থাকে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না। সেখানে থাকতে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনও বিচার হয়নি।”

কে এই প্রিয়া সাহা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী প্রিয়া সাহা থাকতেন রোকেয়া হলে। তার জেলা পিরোজপুর। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে বাম ধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন বলে জানা যায়। এছাড়া তার আরো অনেক পরিচয়ই রয়েছে। মহিলা ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যুক্ত থাকলেও সেখান থেকে বহিষ্কৃত হন বলে প্রচার আছে।

বর্তমানে তিনি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘শারি’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বরত। এনজিওর মাধ্যমে তিনি নিজ এলাকার দলিত সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করেন বলে জানা যায়। এছাড়া, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ -খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরত্বপূর্ণ পদে তিনি আসীন। তার স্বামী মলয় সাহাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন। তিনি দূর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক পদে কর্মরত। দেশে এরকম প্রভাব বিস্তারকারী পরিচয়ের বিস্তৃতি থাকলেও প্রিয়া সাহার দুই কন্যা আমেরিকা প্রবাসী।

priya saha
প্রিয়া সাহা

প্রিয়া সাহার পরিচয় সূত্র সরকারের বিভিন্ন স্তরেও ছড়িয়ে আছে। তাকে গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে ছবিতে একসাথেও দেখা যায়। যেহেতু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন তাই বিভিন্ন সভা সেমিনারে গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশে পান, তাদের সাথে যোগাযোগ থাকে প্রিয়া সাহার। মানবাধিকার এক্টিভিস্ট থেকে সরকারের মন্ত্রী- এতগুলো মানুষের মধ্যে কাউকে তিনি পেলেন না, দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের এই তার ভাষ্যমতে যে চিত্র সেটিকে উপস্থাপন করবার, তিনি গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন এই বিষয়ে, “সমাজের সকল স্তরে যার বিচরণ এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের সাথে যার যোগাযোগ তার এইরকম আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।”

প্রিয়া সাহার আকস্মিক এই আচরণের পেছনে রহস্য সরকার খতিয়ে দেখতে চায় একই সাথে তার অভিযোগ কি তাও শুনবে এমনটা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এইদিকে ব্যারিস্টার সুমন প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফেসবুকেও প্রিয়া সাহার বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। যদিও কারো কারো প্রতিবাদের ভাষা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। তবে প্রিয়া সাহার বক্তব্য এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে সাহায্য প্রার্থনার বিষয়টি খুবই গোলমেলে।

কারণ, যার কাছে এসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে সে মানুষটি নিজেই চরমতম সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন একজন মানুষ। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে আমেরিকার মতো দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনাকে সামনে এনে মুসলিমবিদ্বেষী এবং অভিবাসনবিরুদ্ধ স্ট্যান্ড নেন। তার দেশে একজন সংখ্যালঘু মুসলিম বলতে বাধ্য হয়, ‘এই দেশটাকে এখন আর আমার নিজের দেশ মনে হয় না’। ট্রাম্প বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তার সাম্প্রদায়িক মনোভাব ফুটে উঠে যখন তিনি বলেন, অভিবাসী নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি খ্রিস্টানদের অগ্রাধিকার দিবেন। তিনি নির্বাচনের আগে মুসলমানদের সন্ত্রাসবাদী বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। ট্রাম্প নিজেই একজন রক্তপিপাসু লোক। কয়দিন আগেও তো ইরানকে যুদ্ধের হুমকি দিয়ে তড়ফড় করলেন। সৌদির সাথে মিলে ইয়েমেনে প্রতিদিন লাশ পড়ছে কার ইশারায়, কার লাভে? মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে কলকাঠির জ্বালানি সাপ্লাই কে করছে?

এরকম একটা লোক যাকে তার নিজ দেশের শিক্ষিতশ্রেণী এবং গুনী মানুষরা পাগল বলে আখ্যায়িত করে, যে লোক নিজেই চরমতম সাম্প্রদায়িক সেই লোকের কাছে কিনা প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ সম্পর্কে নালিশ দিলেন! ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ এমনিতেই বাংলাদেশ সম্পর্কে লোভ সামলাতে পারছে না। সমুদ্রসীমায় এই অঞ্চলে প্রভাববিস্তার করতে বাংলাদেশকে তাদের প্রয়োজন। কারণ, রাখাইন রাজ্যে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন গভীর নৌবন্দর নির্মাণ করছে। বিশ্বের ৭০ শতাংশ বাণিজ্যিক পণ্য যাতায়াত হয় এই অঞ্চল দিয়ে। এখানে আমেরিকার শক্ত খুঁটি প্রয়োজন। সর্বশেষ টোপ হিসেবে মিয়ানমারের নিপীড়িত রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের সাথে জুড়ে দেয়ার প্রস্তাবও আনে তারা। যদিও প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বুদ্ধিমত্তার সাথে এই কূটকৌশল সামাল দেন এই বলে যে, আরেক দেশের মধ্যে আমরা শুধু শুধু যাব কেন?

ডোনাল্ড ট্রাম্পরা সুযোগ খুঁজে, এটা আজকের কথা নয়। সকলেই জানে। তারা অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নাক গলাতে বিশেষভাবে পারদর্শী। আর সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে গিয়ে প্রিয়া সাহা নিজেই গলিত নাক উপহার দিয়ে এসেছেন। এমনভাবে বিচার দিচ্ছেন যেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প জাদুর ভেলকি দিয়ে বাংলাদেশের সকল মুশকিল আসান করে দিবেন!

বাংলাদেশে সমস্যার অন্ত নেই। প্রিয়া সাহা না বললেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন যে হয় এইকথা সবার জানা। সংবেদনশীল মানুষমাত্রই প্রতিনিয়ত এধরণের ঘটনায় প্রতিবাদে মুখর থাকে। বাংলাদেশে একটা উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আছে যারা ধর্মকে হাতিয়ার করে সবসময় নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। এর বাইরে আবার একটা বড় সংখ্যক মানুষ আছে যারা যেকোনো সংখ্যালঘু নির্যাতনে সংখ্যালঘুদের চেয়েও বেশি সোচ্চার থাকে কখনো কখনো, প্রতিবাদ জানায়।

তিনি বলেছেন তার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তিনি প্রতিকার পাননি। তার জমিজমা কেড়ে নেয়া হয়েছে। তার মতো এলিটশ্রেণীভুক্ত মানুষ যার ওঠাবসা সরকারের বিভিন্ন স্তর থেকে বিভিন্ন সংগঠনে, তার সাথে এত কিছু হয়ে গেল কেউ কিছু জানবে না? – এরকম প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। তাদের জন্য তথ্য দেই, প্রিয়া সাহার বাড়িতে আগুন লাগার একটা ঘটনা কিন্তু সত্যিই ঘটেছে। এইবছরই মার্চ মাসের ২ তারিখ ভোরে এরকম একটি ঘটনা ঘটে প্রিয়া সাহার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুরে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছে বেশ কিছু সংগঠন। প্রিয়া সাহাও ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করেছিলেন তখন। তবে, এই নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যও আছে স্থানীয় হিন্দুদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হিন্দু সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রিয়া সাহা নাকি কয়েকজন হিন্দুকেই আসামী করে হয়রানি করছেন।

বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ার পর প্রিয়া সাহার স্ট্যাটাস।

যাইহোক, এই ঘটনা নিয়ে নিশ্চয়ই এখন অধিকতর তদন্ত হবে। সত্য প্রকাশিত হবে, প্রিয়া সাহার বক্তব্যের মূলে কি আছে সেটা নিশ্চয়ই সরকার খুঁজে দেখতে চাইবে। প্রিয়া সাহা কি কোনো স্বার্থ চিন্তায় এরকম এপ্রোচ নিলেন কিনা তা জানা যাবে। তবে, সত্যিকার অর্থেই যারা সংখ্যালঘু হিসেবে নিপীড়িত তাদের খুশি হবার কারণ নেই। প্রিয়া সাহা আপনাদের স্বার্থ রক্ষা করেছেন এমনটা ভাবা বোকামি ছাড়া কিছু নয়। আবার সত্যিকার অর্থেই যারা মনে করেন, দেশে সর্বত্র সম্প্রীতি বিরাজমান তারাও যে পুরোপুরি সঠিক এমনও নয়। প্রিয়া সাহাকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে যেভাবে অনলাইনে বিকৃত কাঁদা ছোড়াছুড়ি চলছে সেটাতে সম্প্রীতি খুঁজে পাওয়া ভার।

অনলাইনে এখনো সার্চ দিলে মন্দির ভাঙ্গা, প্রতিমা ভাঙ্গা এসব নিউজে ভরে যাবে কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রীণ। কিন্তু, এটা কি বাংলাদেশের জাতীয় চরিত্র? রাষ্ট্রীয়ভাবে কি সংখ্যালঘু নির্যাতনের পৃষ্ঠপোষকতা হয়? মদদ দেয়া হয়? আমাদের পাশের দেশ ভারতের কথা বলতে পারি। ভারত অসাম্প্রদায়িক দেশ এরকম একটা ব্র‍্যান্ডিং ছিল সবসময়ই। কিন্তু দাঙ্গার ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে ভারতে ধর্মীয় দাঙ্গার ভয়াবহ একটি চিত্র আছে। তবুও, ভারত দেশ হিসেবে সাম্প্রদায়িক এরকমটা কিন্তু কেউ বলতো না। কিন্তু, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয়ভাবেই একপ্রকার ধর্মীয় আগ্রাসনকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হয়, তারা নির্যাতিত হন এটাকে কেউ মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবে না। এরকম ঘটনায় বিচার হয়েছে, দোষীরা শাস্তি পেয়েছে এরকম দৃষ্টান্তও নেই বেশি একটা। তারপরেও, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এখনো তার অসাম্প্রদায়িক মনোভাবকেই ধারণ করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটা কথা তো আজকাল হরহামেশাই ব্যবহার হয়, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। প্রধানমন্ত্রীকেও আমরা অন্যান্য ধর্মের উৎসবে যেতে দেখি, বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে তার সৌজন্যতাও চোখে পড়ার মতো।

হাসিনা

কিন্তু প্রিয়া সাহা আমেরিকায় যে নালিশ জানালেন, তাতে মনে হলো রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনে মদদ দেয়া হচ্ছে। তার কথায় যেন ফুটে উঠেছে- এটাই বাংলাদেশের জাতীয় চরিত্র, দেশে সংখ্যালঘু নিধন কর্মসূচী পালিত হচ্ছে, এখানে কোনো প্রকারের সম্প্রীতি নেই, জোরজবরদস্তি করে সংখ্যালঘুদের কালেমা পড়ানো হচ্ছে, কেউ নিজের ধর্ম পালন করতে পারছে না, ঘরবাড়ি পুড়ে দেয়ার ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে — বাস্তবতা কি আসলেই এরকম?

এই গোটা লেখায় সবচেয়ে কষ্ট হয়েছে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটা বারবার লিখতে। প্রিয়া সাহার বক্তব্যের জের ধরেই এই শব্দটা এখন আলোচনায় সামনে চলে এসেছে। তার এক বক্তব্যে মানুষ হিসেবেই নিজের প্রতি ধিক্কার লাগছে। একটা বক্তব্য যেন একটা দেশকে দুইটা ভাগে ভাগ করে দিলো। এই ভাগাভাগি আমার কখনোই পছন্দ হয় না। সব মানুষেরই নিজস্ব বেঁচে থাকার পদ্ধতি আছে, বিশ্বাস আছে, সংস্কৃতি আছে। এসব নিয়েই তারা, এসব নিয়েই আমরা।

পার্থক্যটা এতো বেশি হয়ে উঠবে, এভাবে উপস্থাপিত হবে ব্যাপারগুলো কখনো আশা করিনি। সবসময় সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিপক্ষে ছিলাম বলেই বক্তব্যটা খুব পীড়া দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডে মুসলিম সংখ্যালঘু, শ্রীলঙ্কার খ্রিস্টান, ভারতের মুসলমান, বাংলাদেশে হিন্দু — সংখ্যালঘু দেশভেদে ভিন্নধর্মের, এই ভিন্নতাকে গ্রহণ করার মানসিকতাই একটা দেশকে অসাম্প্রদায়িক করে তোলে। কিন্তু, এই ভিন্নতা কখনো কি ঘুচবে যদি দুই পক্ষই নিজেদের বৈশিষ্ট্যটাকে পুঁজি করে দূরত্বটাকে আরো বাড়িয়ে নিতে থাকে?

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button