অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানেরা কে কত বেতন পান?

পাঠক, আপনি কি প্রচন্ড ডিপ্রেশনে ভুগছেন? বেঁচে থাকার কোন অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না? তাহলে শুরুতেই আপনাকে একটি চমকপ্রদ তথ্য জানিয়ে দিই। আপনি যদি একেবারেই বেকার না হয়ে থাকেন, তবে নিশ্চিতভাবেই আপনার ন্যূনতম দৈনিক আয় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রটির রাষ্ট্রপতির সারা বছরের আয়ের চাইতে বেশি! তথ্যটি জেনে অবাক হলেন নিশ্চয়ই? আপনাদের সামনে এখন তুলে ধরব বিশ্বের ১৩টি শক্তিশালী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের বেতনের পরিমাণ, যা আপনাদেরকে আরও বেশ কয়েকবারই অবাক হতে বাধ্য করবে।

১৩/ ডোনাল্ড ট্রাম্প- যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির বার্ষিক বেতন পাওয়ার কথা ৪ লক্ষ মার্কিন ডলার (মাসে ৩৩,০০০ মার্কিন ডলার, দিনে ১,০৯৫ মার্কিন ডলার)। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বেতন নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি সারা বছর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে নিয়ে থাকেন স্রেফ এক মার্কিন ডলার। কারণ বর্তমান আইন অনুযায়ী এর চাইতে কম নেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। অবশ্য এত কম বেতন পাওয়া সত্ত্বেও কিন্তু তার সংসারে কোন টানাটানি নেই। কারণ তিনি যে ইতিমধ্যেই ৩ বিলিয়ন সম্পদের মালিক! ট্রাম্পের আগেও হারবার্ট হুভার ও জন এফ কেনেডি বিনা বেতনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১২/ পেত্রো পোরোশেঙ্কো- তিনি ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি। তিনি বছরে বেতন পান ১২,২২০ মার্কিন ডলার (মাসে ১,০১৮, দিনে ৩৩)। এছাড়াও তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফোর্বসের মতে, তিনি ইউক্রেনের সর্বোচ্চ ধনীদের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে।

১১/ জি জিংপিং- চীনের রাষ্ট্রপতি বছরে বেতন পান ২০,৫৯৩ মার্কিন ডলার (মাসে ১,৭১৬, দিনে ৫৬)। ২০১৫ সালে তার বেতন ৬২% বৃদ্ধির পর এই অংকে দাঁড়িয়েছে। তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোন ধরণের ব্যবসার সাথে যুক্ত না হলেও, তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

১০/ সাউলি নিস্তো- দ্বিতীয়বারের মত ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া নিস্তোর বার্ষিক বেতন ১,৪৬,৭০০ মার্কিন ডলার (মাসে ১২,২২৫, দিনে ৪০২)।

৯/ ভ্লাদিমিড় পুতিন- রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পুতিন প্রতি বছর বেতন পান ১,৫১,০৩২ মার্কিন ডলার (মাসে ১২,৫৮৬, দিনে ৪১৪)।

৮/ থেরেসা মে- যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কঠোর হাতে শাসন পরিচালনা করছেন দেশটির, এবং এর বিনিময়ে তিনি বছরে বেতন নিচ্ছেন ১,৯৮,৫০৯ মার্কিন ডলার (মাসে ১৬,৫৪২, দিনে ৫৪৪)। তার আবার জুতোর খুবই শখ। জুতোর বিশাল সংগ্রহও রয়েছে তার। প্রতি জোড়া জুতো এক ধরণের স্বচ্ছ বাক্সে রাখেন তিনি, যাতে প্রয়োজনের সময়ে পছন্দসই জুতোটি খুঁজে পেতে বেগ পেতে না হয়।

৭/ ইমানুয়েল ম্যাক্রন- ফ্রান্সের কনিষ্ঠতম রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রনের বার্ষিক বেতন ২,১১,৫৩০ মার্কিন ডলার (মাসে ১৭,৬২৮, দিনে ৫৮০)। রাজনৈতিক জীবন শুরুর আগে ব্যাংকিং খাতে খুবই সফল ছিলেন ম্যাক্রন। তাকে এমনকি ‘মোজার্ট অব ফিন্যান্স’ নামেও ডাকা হতো, এবং কমিশনের মাধ্যমে পাওয়া তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

৬/ জিমি মোরেলস- গুয়াতেমালার রাষ্ট্রপতি মোরেলস আগে ছিলেন একজন কমেডিয়ান ও অভিনয়শিল্পী। বর্তমানে বছরে ২,৩১,০০০ মার্কিন ডলার (মাসে ১৯,৩০০, দিনে ৬৩৪) বেতন পেয়ে থাকেন তিনি, যা লাতিন আমেরিকান দেশসমূহের নেতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রাপ্ত অর্থের ৬০ শতাংশ তিনি দান করে দেবেন, এবং বাস্তবেও সেটিই করেছেন।

৫/ অ্যাঞ্জেলা মার্কেল- জার্মানির চ্যান্সেলর মার্কেল বছরে বেতন পান ২,৬৩,০০০ মার্কিন ডলার (মাসে ২২,০০০, দিনে ৭২০)। সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রশাসনিক ভবন পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে না উঠে সেন্ট্রাল বার্লিনের একটি পাঁচতলা ভবনে বাস করছেন।

৪/ জাস্টিন ট্রুডো- কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডাউর বার্ষিক বেতন ২,৬৭,৪১৫ মার্কিন ডলার (মাসে ২২,২৮৫, দিনে ৭৩৩)। গত বছর তিনি ছুটি কাটিয়েছেন বাহামাসে, আর সেই সফরের সার্বিক ব্যয়ভার বহন করেছেন তার মিলিয়নিয়ার বন্ধু প্রিন্স করিম আগা খান। এর ফলে তার নামে একটি রাজনৈতিক স্ক্যান্ডাল ছড়িয়ে পড়ে, এবং অনেকেই আশংকা করতে শুরু করে যে প্রিন্স হয়ত কানাডার আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে প্রভাব খাটাতে শুরু করেছেন। পরে অবশ্য ট্রুডাউ মাফ চান, এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রতিশ্রুতি দেন।

৩/ ম্যালকম টার্নবুল- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টার্নবুলের বার্ষিক বেতন ৪,০৩,৭৪৫ মার্কিন ডলার (মাসে ৩৩,৬৪৫, দিনে ১,১০৬)। যদিও তিনি নিজেও একজন মাল্টি মিলিয়নিয়ার, তারপরও তিনি ট্রাম্পের মত বেতন নিতে অস্বীকৃতি জানাননি। রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের পূর্বে তিনি একজন ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী ছিলেন।

২/ ডরিস লিউথার্ড- সুইজারল্যান্ডে রাষ্ট্রপতির পদটি একেবারেই পোশাকি, এবং মন্ত্রীদের ভোটে এক বছরের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়। লিউথার্ড বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মত সুইস ফেডারেশনের রাষ্ট্রপতির পদটি অলংকৃত করছেন, এবং এর বিনিময়ে তিনি বেতন পাবেন বছরে ৪,৩৭,০০০ মার্কিন ডলার (মাসে ৩৬,০০০, দিনে ১,২০০), যা অন্য সকল মন্ত্রীদের সমান।

১/ লি সিয়েন লুং- তিনি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রিত্ব পেয়েছেন তার বাবা লি কুয়ান ইয়ু এর কাছ থেকে, যার কারণে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। লুং-ও তার বাবার দেখানো আদর্শ মেনেই রাজনীতি করে চলেছেন, এবং তিনি বিশ্বনেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন। প্রতি বছরে তিনি বেতন পান ২.২ মার্কিন ডলার (মাসে ১,৪৭,০০০, মাসে ৭,৩৫০)। এত বিপুল পরিমাণ বেতন পাওয়ার পরও লুং মনে করেন, তার বেতন ‘ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত’। জানিয়ে রাখা ভালো, সিঙ্গাপুর সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে যে ৩১ জন কর্মরত রয়েছে, তাদের মোট বার্ষিক বাজেটই ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইতিপূর্বে অবশ্য লুং এর বেতন আরও বেশি ছিল। কিন্তু অনেকেরই এ ব্যাপারে অসন্তোষ থাকায় তার বেতন বর্তমানে ৩৬% হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি কানাডা, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রাপ্ত মোট সম্মানীর চেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন।

তথ্যসূত্র- ব্রাইটসাইড

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button