ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

চাঁদাবাজির টাকায় নিজের জন্যে মিলাদ মাহফিল চান না প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী যে আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন এবং ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে বেশ ভালোই নজরে রাখছেন তা বোঝা গেল, ছাত্রলীগের ব্যাপারে তার কঠোর অবস্থানের নিরিখে। তবে, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলেও, তিনি
আওয়ামীলীগের গুরত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন যুবলীগের প্রতিও সন্তুষ্ট নন। গতকাল বৈঠকে তিনি যুবলীগের কিছু কিছুর নেতার কর্মকাণ্ডে মন্তব্য করেন যে, এরা শোভন রাব্বানীর চাইতেও খারাপ।

প্রধানমন্ত্রী নিজের জন্মদিন ঘটা করে পালনে অনীহা প্রকাশ করলেও যুবলীগ একধাপ এগিয়ে মাসব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েছে। তার অংশ হিসেবে মিলাদ মাহফিলও হয়েছে। একটি মিলাদ মাহফিলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে এই প্রসঙ্গে বলেন, চাঁদাবাজির টাকা বৈধ করতে মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে। নিজের জন্য এমন মিলাদ মাহফিল তিনি চান না।

যুবলীগের ব্যাপারেও যে তার কাছে অভিযোগের খতিয়ান আছেও তাও তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা (ঢাকা মহানগর যুবলীগের একটি অংশের সভাপতি) ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে গেছেন। আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল, তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলেন। তার অবস্থানে মনে হচ্ছে, আওয়ামীলীগ তিনবার টানা ক্ষমতায় আসায় অনেকেই সরকারদলের বিভিন্ন সংগঠনের নাম বেঁচে, পদবি ভাঙ্গিয়ে যে অপকর্ম করেন, তা নিয়ে তিনি বিব্রত। তিনি বলেন, “টানা তিন বার সরকারে আছি। অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান- এসব বন্ধ করুন।”

যুবলীগের নাম সেভাবে না এলেও পাড়া মহল্লায় আমরা যারা থাকি, তারা প্রতিনিয়ত দেখি কিভাবে এসব দলের নেতারা এলাকার ফুটপাতের দোকান, বাজার থেকে চাঁদা নেন। তারা টেন্ডারবাজির সাথেও কেউ কেউ জড়িত এমন খবরও পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয় প্রায়ই। কর্মী দেখাতে তারা এলাকার বখাটে ছেলেদের ভীড় করান তাদের ছায়াতলে। অনেক এলাকায় গ্যাং কালচারের নেতৃত্বের মূল হোতা হিসেবে পাওয়া যাবে তাদের।

তাদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ, এসব নিয়ে কেউ কথা বললে তারা নিশ্চিতভাবে ভ্যাটো দিয়ে বলবেন, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। শোভন রাব্বানীও যেমন নিজেদের বাঁচাতে বলেছেন, ষড়যন্ত্রতত্ত্বের কথা। কিন্তু, যখন প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত কথাগুলো যায় এবং প্রধানমন্ত্রীও হুঁশিয়ার দেন, তখন অন্তত তাদের বোঝা উচিত। ক্ষমতার অপব্যবহার কমানো উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান- এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।”

যদি সত্যিই আওয়ামীলীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা ক্ষমতার দম্ভে উড়ছে, তাদের লাগাম টেনে ধরা হয় তাহলে এটি সাধুবাদ পাওয়ার মতো উদ্যোগ হবে। মানুষ স্বস্তিতে থাকবে। যখন ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হবে, তখন রাজনীতির মানও বাড়বে সামগ্রিকভাবে। দেখা যাক, প্রধানমন্ত্রীর এমন অবস্থানের পরে কারো মধ্যে বোধোদয় ঘটে কিনা…

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button