রিডিং রুমলেখালেখি

বসন্তের প্রথম দিনে ‘বাসন্তী নলেজ’!

(১) “ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত”

এই পংক্তি মোটেও রোমান্টিক অভিব্যক্তি না। তাই সুভাষ মূখোপাধ্যায়ের কবিতার এই লাইন রোমান্টিক কোটেশন হিসেবে ব্যবহার করলে, কেমন জানি বিছুটি পাতা টাইপ লাগে। আপনারও লাগবে, যদি জানেন এই কবিতার হাহাকারের দৃশ্যকল্প। রেলিঙয়ে বুক চেপে ধরা এক কালোকুচ্ছিত মেয়ে। মৃত্যুর কোলে মানুষকে শুইয়ে দেয়া একেকটা দিন। তারপর এক হরবোলা ছেলের বাড়ি না ফেরা- এইসব আসলে হাহাকার জমাট স্মৃতি! তাই এই কবিতা পিনপিনে রোমান্টিক না। কবিতাটা গুগল করলেই বুঝবেন, এই দৃশ্যকল্পটা রোমান্টিক না। কাজেই তরুণ তরুণীর ফেসবুক ফটোর ক্যাপশন তো বটেই, নামজাদা টেলিভিশন সাংবাদিকরাও যখন ১লা বসন্তের দিন এই উক্তি ব্যবহার করে রিপোর্টিং করেন, কালচারাল বিট করেন। খুবই দুঃখজনক।

(২) ”আসছে ফাগুনে আমরা দ্বিগুণ হবো”

এটাও রোমান্টিক ব্যাপার না। জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ পড়লেই তা বুঝতে পারবেন। এটা হাজতখানার নোংরা খাপড়া ওয়ার্ডে ঠাঁই পাওয়া রাজবন্দীর জ্বলজ্বলে সংলাপ, থানায় বন্দি হওয়া গাদাগাদি করে থাকা ছাত্রদের উর্দুভাষী ডেপুটি জেলারের চোখের দিকে তাকিয়ে বলা সংলাপ। ক্যাম্পাস ক্রাশের চোখের দিকে তাকিয়ে ‘কাপল’ হওয়ার হুমকি না ভাই। অনেকে ‘আসছে ফাগুণে দ্বিগুণ হবো’ এই টপিকে ফান ডিবেটের মোশনও বানিয়ে ফেলে ভ্যালেন্টাইন দিবসে। দুঃখজনক।

রোমান্টিসিজম মার্কা কোটেশন ম্যালা আছে। এই দুইটা বেশ আবেগ জ্বলজ্বলে ব্যাপার। কোন বিশেষ দিনের ঢ্যামনাসংগীত না। কেবল আধো আধো জানলে যেমনটা হয়! মিডিয়ার রিপোর্টাররা ইদানিং প্রতিবেদন করতে গিয়ে সুভাষ মুখোজ্জ্যের লাইন কোট মেরে দেয়, অথচ এদের কেউ কেউ বছরের বাকী সময় কালচারাল বিট করে! (ডাক্তার ভুল চিকিৎসা করলে নিউজ হয়, সাংবাদিক ভুল কোটেশন করলে ঐটা স্বয়ং নিউজেই হয় আর কি। সাংবাদিকরা জানেন বোধকরি)

যাই হোক, বাংলাদেশের বসন্ত অনেক সুন্দর ব্যাপার আমার কাছে। বিজয় দিবস এবং পহেলা বৈশাখের দিনের সাজও ভালো জিনিস। তবে এই বসন্তের সাজ অন্য লেভেলের ব্যাপার। এই দিন বাংলাদেশের সব নারীকেই আমার কাছে সুন্দর লাগে।

অনেক অনেক বাসন্তি শাড়িতে অনেক অনেক পাঞ্জাবীর সহমরণ হউক।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button