সিনেমা হলের গলি

অট্টহাসি ও ভয়ে হিম- দুইয়েরই জয়জয়কার যে সিনেমায়!

একটা সিচুয়েশন কল্পনা করুন! একই সাথে ভয়ে আপনার গা হিম হয়ে যাচ্ছে আবার হাসতে হাসতে আপনার পেটে খিলও ধরে যাচ্ছে। এরকম দ্বিমুখী অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছেন কখনো? সাধারণত, কমেডি হরর জনরার মুভিগুলো দেখতে বসলে শুধু হাসিই পায়, ভয় আর মনে আসে না। কিন্তু “Pee Mak” সিনেমায় কমেডিক মোমেন্টের পাশাপাশি অনেক ভয়ের মুহূর্তও আসবে। অভিজ্ঞতাটা নিঃসন্দেহে একটু অন্য রকম ছিল। এই ভয় পাচ্ছি, আবার এই হাসতে হাসতে ফেটে পড়ছি! তবে কমেডি হরর জনরার এই মুভিটিতে আরেকটি উপাদান ছিল, রোমান্টিসিজম। একটা মিষ্টি ভালোবাসার গল্প আছে এই সিনেমায়, যেটা মনকে দোলা দিয়ে গেছে বেশ। এই সিনেমার স্টোরি নেওয়া হয়েছে থাইল্যান্ডের উপকথা থেকে, তাই সিনেমার চিত্রায়নে একটা অন্যরকম ফ্লেভার ছিল!

“মাক” আর “নাক” দুজন স্বামী স্ত্রী। নাম দুটো শুনতে অদ্ভুত লাগছে, তাই না? মাক হচ্ছে স্বামীর নাম, এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মারিও ম্যোরের। আর নাক হচ্ছে তার স্ত্রীর নাম, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেভিকা হর্ন। দুজনেই থাইল্যান্ডের সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রিতে বেশ পরিচিত মুখ! মাকের চারটা বন্ধু আছে, যাদের নাম পর্যায়ক্রমে টের, পুয়াক, শিন, ইয়ে! মোটামুটি সিনেমার মেইন ক্যারেক্টার এই ছয় জনই!

মাক, টের, পুয়াক, শিন, ইয়ে- ৫ বন্ধু হরিহর আত্মা! যুদ্ধে মাক ভয়াবহভাবে আহত হয়, এক পর্যায়ে সে প্রতিজ্ঞা করে সে তার বাড়ি ফিরে যাবেই তার চার বন্ধুকে নিয়ে, সেটা যেভাবেই হোক। বাড়িতে মাকের গর্ভবতী স্ত্রী “নাক” রয়েছে। তার এই অটল প্রতিজ্ঞার কারণেই হয়তো শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যুদ্ধে তারা সার্ভাইভ করতে সক্ষম হয়। মাক এবং তার চার বন্ধু বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে। এদিকে মাকের গ্রামে চলছে তখন অন্য ঘটনা। প্রত্যেকদিন সন্ধ্যায় মাকের স্ত্রী নাক সদ্য জন্মানো শিশুকে নিয়ে নদীর ঘাটে অসহায় ভাবে মাকের জন্য অপেক্ষা করে, মাককে আকুল স্বরে ডাকে! কিন্তু সেই ডাকের মধ্যে কেমন যেন অপার্থিব একটা ব্যাপার থাকে, যার কারণে গ্রামের লোকজন ভয়ে তাদের দরজা জানালায় খিল এঁটে দেয়! নাক যখন মাকের জন্য অসহায় স্বরে কাঁদে, তার কান্না শুনে গ্রামের লোকজন ভয়ে কাঁপতে থাকে! কিন্তু কেন এরকম হচ্ছে? তারা নাককে এত ভয় পাচ্ছে কেন?

যথারীতি, মাক এবং তার চার বন্ধু বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়। মাক, নাককে অনেকদিন পরে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে! চার বন্ধু টের, পুয়াক, শিন, ইয়ে আপাতত মাকের বাড়িতেই অবস্থান করে। সবকিছু স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল, কিন্তু খটকাটা লাগে যখন পরের দিন তারা বাজারে যায়! মাককে দেখে সবাই কেমন যেন ভয়ে ঝড়সড় হয়ে থাকে! ৫ বন্ধু কিছুই বুঝতে পারে না, সমস্যাটা কী? যথারীতি বাড়ি ফিরে আসে তারা। মাকের বাড়িতে দু-তিন দিন থাকার পর “টের” হঠাৎ করে অদ্ভুত কিছু ব্যাপারসেপার লক্ষ্য করে বাড়িতে! বাড়িটার অন্ধকারের খাঁজে কে জ্বলজ্বলে চোখে তাকিয়ে থাকে তাদের দিকে? নাকের মুচকি হাসিটা এরকম নিষ্প্রাণ কেন? একটা সময় চার বন্ধু বুঝতে পারে, তাদের বন্ধু মাকের স্ত্রী নাক আসলে মানুষ না, একটা পেত্নী! আর এর জন্যই গ্রামের মানুষ ভয়ে জড়সড় হয়ে থাকে!

এখন উপায়?

চার বন্ধু সিদ্ধান্ত নেয়, তারা এই জায়গাটা থেকে পালাবে। বেশ কয়েকবার চেষ্টাও করে তারা। কিন্তু কপালের লিখন, না যায় খন্ডন! নাক ওদের মতলব বুঝতে পেরে প্রতিবারই ওদের পালানোর পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়! একটা ফাঁদে পড়ে যায় চার বন্ধু! পালাতেও পারছে না, আর বন্ধু মাক বুঝতেও পারছে না যে তার স্ত্রী একটা পেত্নী! প্রতিমুহূর্তে জীবন হারানোর আশংকা!

গল্পটা শুনতে বেশ ভয়ের শোনালেও সিনেমায় যেভাবে ঘটনাগুলো কমেডিক লেয়ারে উপস্থাপন করা হচ্ছিল, হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাবার জোগাড় হয়েছিল মাঝেমধ্যে!

আইএমডিবিতে ৭.৪ রেটিং পাওয়া ৯৫ মিনিটের এই সিনেমাটি দেখতে পারেন একান্তই যদি কিছুটা সময় সকল স্ট্রেস ভুলে গিয়ে প্রাণখোলা হাসিতে মেতে উঠতে চান! ফ্যামিলিকে সাথে নিয়ে উপভোগ করার মতো একটি অসাধারণ মুভি “পি মাক”!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button