তারুণ্যপিংক এন্ড ব্লু

আপনার শিশুকে গল্প শোনাচ্ছেন তো প্রতিদিন?

একটা সময়ে, যখন এত শয়ে শয়ে গেজেট, ডিভাইস ইত্যাদি ছিলো না, তখন শিশুদের মূল আকর্ষণ ছিলো মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো, আর গল্পের বই পড়া। আর অভিভাবকেরা গল্প শোনালে তো তাদের আনন্দের সীমা ছাড়িয়ে যেত! তখন, এখন এবং সবসময়ের জন্যে এটি ধ্রুব সত্যি। তাকে শোনাতে পারেন নিজের বানানো গল্প, রূপকথার গল্প অথবা হাস্যরসাত্মক কিছু। প্রতিদিন তাকে কিছু না কিছু পড়ে শোনান। এই চর্চাটি শিশুর মনোজাগতিক বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন-

১. শব্দভাণ্ডার গড়ে ওঠে

রাক্ষস, খোক্কস, দেও, দানো, উজির, নাজির, রাজপুত্র ডালিম কুমার, রাজকন্যা কঙ্কাবতী, সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি ইত্যাদি নানারকম অপূর্ব শব্দে সমৃদ্ধ আমাদের এই ঠাকুরমার ঝুলি। এ ছাড়া ফেয়রি টেল তো আছেই! এসব নতুন শব্দ শেখার ফলে পঠন এবং লেখনে তার দক্ষতা বেড়ে যায়। অর্জিত হয় বিপুল শব্দভাণ্ডার।

২. মনোযোগী শ্রোতা করে তোলে

ছোটদের মনের মত গল্প পড়ে শোনালে তারা একদম আবিষ্ট হয়ে যায় তাতে। দিন দুনিয়া ভুলে বিচরণ করতে থাকে গল্পের রাজত্বে। তারা হয়ে ওঠে মনোযোগী শ্রোতা। এটা ভবিষ্যতে অনেক কাজে লাগে। যে কোন কিছু, যে কোন খানে মনোযোগ দিয়ে শোনার আগ্রহ তৈরি হয়। মনোযোগ দিয়ে শোনার ফলে সে তা সহজেই আত্মস্থ করতে পারে। বৃদ্ধি পায় তার কুশলতা।

৩. কল্পনাবিলাসী মন গড়ে তোলে

যুগটা এখন ভার্চুয়াল রিয়ালিটির। থ্রিডি স্ক্রিনে চোখ ধাঁধানো গ্রাফিক্সের খেলায় মাতোয়ারা হয়ে থাকে সবাই; শিশুরা তো অবশ্যই। তবে এসব দেখে তার কল্পনাশক্তির উন্নতি হয় না। এর জন্যে চাই সেই আদিম এবং ধ্রুপদী শিল্প, গল্প। পঙ্খীরাজ দেখতে কেমন? কেমন করে ওড়ে? রাজকন্যা কঙ্কাবতী কোথায় শায়িত? জাদুর কাঠি কে বানিয়েছে? এমন হাজারো প্রশ্ন জমা হয়, যা সে ভিজুয়্যালাইজ করতে পারে। এতে তার কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি পায়।

৪. ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হওয়া

কোথায় কোন জমিদার তার প্রতাপ চালিয়েছিলেন, কোন দেশে পাওয়া যায় ভাটির জলের গান, রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরের সজ্জা কেমন থাকে? দেশজ রূপকথায় এমন কিছু ব্যাপার চলে আসে, যা আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ। এছাড়া রাজা-রাণী, রাক্ষস-খোক্কসের গল্পের ভেতরেও ওরা স্বাদ পায় নিজেদের ঐতিহ্যের। নিজের দেশের ভেতরকার গল্পের।

৫. আগ্রহী করে তোলে

পরীরা কোথায় থাকে? তারা এমন সুন্দর ডানা কোথায় পেল? দৈত্য-দানোরা এত পচা কেন? তাদের মধ্যে একরকম নানাবিধ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। আর প্রশ্ন করা শিখলে জীবনে অনেক দূর যাওয়া জয়ায়।

৬. আবেগ গড়ে তোলে

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে মানুষের ভাবাবেগ বেশ কমে গেছে। কমে গেছে শিশুদের নানারকম অনুভূতিও। সেসবকে বাড়িয়ে আবার স্বাভবিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে এই গল্প শোনানোর প্রক্রিয়াটি।

সুতরাং, আপনার শিশুকে গল্প শোনান বেশি বেশি করে। গড়ে তুলুন একজন সৃজনশীল, সৎ এবং সুখী মানুষ হিসেবে।

সৌজন্যে- অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স, 01847103102

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button