খেলা ও ধুলা

গোটা সিরিজে একটুও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারল না বাংলাদেশ?

রস টেলর নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় এক নম্বর জায়গাটি নিজের করে নিলেন আজ। কিংবদন্তী ক্যাপ্টেন স্টিফেন ফ্লেমিং এর জায়গা হলো দুইয়ে। পুরো মাঠ করতালিতে অভিনন্দিত করলো টেলরকে। পরের ইনিংসে আরেকজনও অভিনন্দন পেলেন সবার, সাব্বির রহমান। ৪ বছর পরে, সব সংস্করণ মিলিয়েই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা মিললো। উৎযাপনে অনেক কিছু বুঝিয়ে দিতে চাইলেন।

তর্কযোগ্যভাবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকে এটাই নিকট অতীতের সবচে’ নিষ্প্রাণ সিরিজ। তার দায় আমাদের ব্যাটসম্যানদের। ব্যাখ্যাতীত রকমের বাজে ব্যাটিং, তাও টানা তিন ম্যাচে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভয়াবহ এক অশনি সংকেত দিল। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তামিম যে ডাউন দ্যা উইকেটে চলে গেলেন, তাতে কমেন্টটররা পর্যন্ত বিস্মিত। তাদেরকে আরো ভাবনার খোরাক জোগাতেই কিনা সৌম্য, লিটনও ড্রেসিংরুমে ফিরে চললেন। স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ২ রান। লিটন এই সিরিজে খুব ‘ধারাবাহিক’, ১, ১ এবং ১ তার তিন ইনিংসের রান।

দুই অভিজ্ঞ সেনানী, বহু যুদ্ধের পোড় খাওয়া যোদ্ধা, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ যেভাবে আউট হয়েছেন, তাও রাত জেগে থাকা কিংবা ভোরে ওঠা দর্শকদের মনে বেদনা জাগাতে বাধ্য। অথচ আজকের শুরুটা ভাল ছিল বাংলাদেশের। মাশরাফি শুরুতেই মানরোকে তুলে নিলেন। গাপটিল তুলে মারলেন, সৌম্য বেশি সামনে থাকায়, ‘তোরে কইছি পিছে থাকতি, তুই সামনে আইছিস ক্যা’ বলে শুধু ঝাড়িই দিলেন না, আশ্বাসও দিলেন, ‘এরম করতি করতি আউট হয়ে যাবেনে। বিশ্বাস রাখ।’ গাপটিল তামিমের অসাধারণ এক ক্যাচে আউট হলেন। ক্যাপ্টেনের জিততে চাওয়ার তীব্র চাওয়া অন্যরা কতটা কি ধারণ করলেন কে জানে। ফিল্ডিং মিস হলো, হলো এক রানের জায়গায় দুই, ওভারথ্রো ইত্যাদি। শেষের দিকের তান্ডবে রান উঠলো ৩৩০। মুস্তাফিজ ছিলেন সবচে খরুচে, ৯৩ রানে দুটি উইকেট পেয়েছেন। শফিউলের ৯৭/২, ৯৫/৩ এর বাংলাদেশী ‘রেকর্ড’ অক্ষতই রইলো।

ক্রিকেটে একটা সময় ছিল, শুরুতেই ৪/৫টা উইকেট হারিয়ে ধুকতে ধুকতে কিছু রান করতো টেইলের ব্যাটসম্যানেরা। এই সিরিজ যেন সেই পুরনো দিনেরই প্রতিচ্ছবি। সাব্বির, সাইফুদ্দীনে সম্মানজনক হারই নিশ্চিত হলো, ম্যাচের জয় পরাজয় নিয়ে কোন সংশয়ই ছিলনা। তবে সাবলীল ব্যাটিং করে দুজনই বুঝিয়েছেন, শুরুর সময়টা পার করে দিতে পারলে এখানে রান আসে। ভাগ্যও সহায় ছিল সাব্বিরের, রানের দেখা পাওয়ার আগেই এক লাইফ পেলেন। পরে কিপারকেও দিয়েছিলেন দুরূহ এক সুযোগ। দলের পরাজয় তার কাছেও এতটাই অবশ্যম্ভাবী ছিল, শেষের দিকে নিজের সেঞ্চুরি করাকেই লক্ষ্য বানিয়ে ব্যাটিং করলেন। মিরাজের সাহচর্যে তা পেয়েও গেলেন।

এই ট্যুরের আগে সাব্বিরকে দলে নেওয়ার ‘দায়’ কেউই নিতে চাচ্ছিলেন না, এর ওর কোর্টে বল ঠেলে দিচ্ছিল সবাই। মাশরাফির চাওয়াতেই যে ও দলে আসছে, এটা নির্বাচকদের কথায় পরিষ্কার ছিল। ক্যাপ্টেনের আস্থাকে ভুল প্রমাণিত করেননি, ভুলে যাওয়ার মত এক সিরিজে এটাই হয়ত একমাত্র ইতিবাচক দিক। ৬/৭ নম্বরে সাব্বির নিজের জায়গা স্থিতিশীল করতে পারলে দলেরও দুশ্চিন্তা কমে। চূড়ান্ট সন্তুষ্টিতে না ভুগে, এখান থেকে রান করার চেষ্টাটা ধরে রাখাটাই হবে সাব্বিরের চ্যালেঞ্জ। আর টেস্ট সিরিজে দল হিসেবে ভাল করার চ্যালেঞ্জ তো বাংলাদেশের থাকছেই।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button