খেলা ও ধুলা

কালই রচিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের শোকগাথা?

১৮৮২ সালের ২৯ আগস্ট। ইংল্যান্ডের শীর্ষ দৈনিকে প্রকাশিত হয় একটি ‘শোক সংবাদ’। ইংলিশ ক্রিকেটের মৃত্যু শিরোনামে সে খবরে সংযুক্ত করে দেওয়া হয় ডেড বডির শেষকৃত্য করার পর ছাই নিয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশে। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রথম পরাজয় এমনই ধাক্কা হয়ে এসেছিল ইংলিশদের কাছে। প্রায় দেড়শ বছর ধরে চলে আসা আজকের অ্যাশেজ সিরিজের অরিজিন দৈনিকের ওই শিরোনাম থেকেই।

পার্কিং নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন শেষ, গাড়ি পার্কিং হবে নিশ্চিন্তে পার্কিং কই এর সাথে।

কাল বাংলাদেশের শীর্ষ দৈনিকগুলোতে কি এমন কিছু দেখতে পারব আমরাও? আমাদের ক্রিকেট নিয়ে শোকগাথা করারও কি সময় চলে আসছে? প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ এক বিশ্বকাপের পরে ক্রিকেট যেন ডুবে যাওয়ার জন্যে নতুন নতুন চোরাবালির স্তর খুঁজে নিচ্ছে।

টেস্ট ক্রিকেটে পদচারণা ২০ বছরের, দলের টপ ব্যাটসম্যানরা এখনো স্টক বল, গুগলির গোলকধাঁধায় বিষম খাচ্ছেন গলির ক্রিকেটের আনাড়িদের মত, এ দৃশ্য মানতে খুব কষ্ট হয়। খারাপ লাগে। রিয়াদ, মুশফিক সবচেয়ে সলিড দুইজন, অথচ রশিদের (কিংবা যে কোন লেগ স্পিনে) তাদের বড্ড নড়বড়ে লাগে। আউট হওয়ার আগে যতটা সময় ক্রিজে থাকেন, খুব স্বচ্ছন্দ মনে হয়না কখনোই।

সৌম্যের সব ধরনেই স্পিনেই সমস্যা হয়, নতুন ক্রিকেট দর্শকও মুহূর্তেই তা বুঝে যায়। রশিদের সামনে মোসাদ্দেককে মনে হয় শিশুতোষ কেউ। সবেধন নীলমণি একমাত্র সাকিব আছে, যে কিনা হাত থেকে ডেলিভারি হওয়ার সময়ই বুঝতে পারে পিউর লেগস্পিন আর গুগলির পার্থক্য। লেগস্পিন হলে লেংথ বুঝে সুন্দর সামনে যায়, গুগলিতে পেছনের পায়ে দিয়ে দেয় সমস্ত ভর। ভাল লাগে দেখতে। বাকিরা কেন মস্তিষ্কের খেলায় সাকিব হয়ে উঠতে পারেনা, কিংবা আরো ইফোর্ট দেয়না, জানার উপায় নেই।

সাদমান ছেলেটা নতুন, তার চেষ্টা, একাগ্রতা দেখে আশাবাদী হতে ইচ্ছে করে ওকে নিয়ে। নিজের উইকেটের ভ্যালু জানে। সময়ের সাথে নিজেকে কতটা আপগ্রেড করবে, তা ঠিক করে দেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওর স্থায়িত্ব। তিন নম্বরে সুযোগ পেয়ে মোসাদ্দেকের উইকেট বিলিয়ে দেওয়া টানা চারটে যন্ত্রণাময় দিনের সবচে ভাল বিজ্ঞাপন হয়ে রইলো। সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন বললেন, ডানহাতি বাহাতি কম্বিনেশন রাখতেই ব্যাটিং অর্ডারে এত রদবদল। ব্যাটসম্যানদেরও তো তা বুঝতে হবে। আত্মাহুতি, সফট ডিসমিসাল চললোই প্রথম ইনিংসের মতন। সাকিব, সৌম্য, মিরাজরা কাল এই ম্যাচের দৈর্ঘ্য কতটা লম্বা করতে পারবেন তা ঠিক করে দেবে হয়ত চট্টগ্রামের মেঘ আর বৃষ্টি।

এই ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হোক। সমালোচনা হোক। উঠে আসুক রুট পর্যায়ের কাঠামোর দৃঢ়তা কতটুকুই বা শক্ত, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও। কে মাঠে দৌড়ে আসলো, তার বাড়ি কোথায়, তার প্রিয় খাবার কী- এসব অপ্রয়োজনীয় অন্যায় কর্মকে হাইলাইট না করে দেশের ক্রিকেটে জোরেশোরে নাড়া দেওয়া এক হাওয়া আসুক সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কোন এক সকালে, ঘুম ভেঙ্গে উঠে এদেশের ক্রিকেটের অবিচুয়ারি লেখা পত্রিকার পাতা দেখতে না হোক।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button