সিনেমা হলের গলি

নোবেলের মিউজিক এডভেঞ্চারে যুক্ত হলো আরো একটি অধ্যায়!

সারেগামাপার একটা এপিসোডে নোবেল গেয়েছিলেন “বেঁচে থাকার গান”। গানটির গীতিকার অনুপম রয় নিজেই এই পর্বে উপস্থিত ছিলেন। অনুপম রয়ও যুক্ত হয়েছিলেন নোবেলের সাথে, দুইজন মিলে গাইলেন “বেঁচে থাকার গান”। নোবেলের জন্য এটা নিঃসন্দেহে বেশ দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা ছিল। অনুপম রয়ের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া, একসাথে গান গাওয়ার সুযোগ সবার হয় না। অনুপম রয় নিজে এমনিতে ভীষণ “ডাউন টু দ্যা আর্থ” টাইপ মানুষ।

তিনি সেদিন নোবেলের প্রশংসা করেছিলেন তো বটেই, তিনি নাকি নোবেলের গানও আগে শুনেছেন এবং এক মঞ্চে নোবেলের সাথে মঞ্চ শেয়ার করবার জন্য আনন্দিত,একথাও বলেছিলেন। এটা একদমই অনুপমের বানিয়ে বলা না, এটেনশন পাওয়াও না। অনুপমকে যারা নিয়মিত ফলো করে তারা জানবে, এই লোক বাই ডিফল্ট এমন শান্ত, নিরীহ, উদারমনা। সেই এপিসোডেই অনুপম রয় এবং নোবেল মিলে প্র‍য়াত কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে ট্রিবিউট দিয়েছেন, যা সারেগামাপায় এক আবেগঘন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

মাইনুল হাসান নোবেল

তখনও ভাবিনি অল্পকদিন পরেই সুখবর আসবে যে, নোবেল অনুপম রয়ের কথা সুরে কলকাতার সিনেমায় প্লেব্যাক করবেন। এটা নোবেলের জন্য পরম পাওয়া এবং গায়ক হিসেবে বেশ ভাল একটা সুযোগ। নোবেল সারেগামাপা মাতিয়েছেন, কলকাতা মাতিয়েছেন, সেখানে তার ভক্তসংখ্যা দিনে দিনে বহুগুন হয়েছে গায়কীর কারণে। জি বাংলার সারেগামাপায় নোবেল কতটা প্রশংসিত হয়েছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই শোতে নোবেলের অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ হয়েছে। একটা স্বপ্নের মতো সময় কাটাচ্ছেন তিনি। ঢাকা থেকে কলকাতার সারেগামাপা, এই জার্নিতে নোবেলের জীবনের মোড়ই যেন ঘুরে গেল। নোবেলের এই উত্থান চোখের সামনে দেখা এবং বাংলাদেশকে তিনি যেভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন ভারতে, সেটাও এক গর্বের বিষয়।

নোবেল, অনুপম রয়
image source- anandabazar.com

অনেকের কাছে অবশ্য এটা নাকি মার্কেটিং পলিসি, শো অফ, সারেগামাপার ট্রিক। তারা নোবেলকে দিয়ে এই শোয়ের হাইপ তৈরি করেছে বাংলাদেশে এমন মতবাদ ও ‘গবেষণা’ করেছে অনেকে। আবার কেউ কেউ নোবেলের ত্রুটি বের করার চেষ্টা করেছে। সে মৌলিক গান ভাল করতে পারবে কিনা সন্দেহ পোষণ করেছে, তার ভ্যারিয়েশন নেই, রক জনরার বাইরে সে অন্য কিছু ভাল পারবে না এমন সন্দেহ দেখিয়েছে অনেকে। নোবেল সব প্রশ্ন, সংশয় জয় করেছেন তার পারফরম্যান্স দিয়েই। একের পর এক ভিন্ন জনরার গান দিয়ে তিনি নিজেকে এক্সপ্লোর করেছেন, তার প্রতিভার জানান দিয়ে গেছেন।

যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন বলেই কলকাতার সিনেমায় প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে তার কাজের সুযোগ এসেছে। সংশয়বাদীদের জন্য এটা কতটা ভাল খবর কে জানে, তবে একজন শিল্পী হিসেবে নোবেলের কাছে এটা পরম প্রাপ্তি। কলকাতায় গুণী শিল্পীর নিশ্চয়ই আকাল পড়েনি। এমন দিনও আসেনি যে ‘মার্কেটিং প্রোডাক্ট’ শিল্পী নিয়ে তারা সিনেমায় গান করাবে। তাহলে, কেন নোবেলকে নেয়া? সৃজিতের মতো একজন পরিচালক নিশ্চয়ই মানের সাথে আপোষ করবেন না এক বিন্দুও। সেই সৃজিতের সিনেমায় যখন নোবেল গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, অনুপম রয়ের মতো ক্ল্যাসি একজন মানুষের সুরে, কথায় তখন বুঝতে হবে নোবেল হাইপ থেকে সৃষ্ট নন, তিনিই যোগ্যতা দিয়ে মেধার জোরে এই জায়গাটুকু করে নিয়েছেন, এই সুযোগটুকু অর্জন করে নিয়েছেন!

সারেগামাপা, মাইনুল আহসান নোবেল, রবীন্দ্রসংগীত

কেন কলকাতায় এত শিল্পী থাকতে অনুপম রয় নোবেলের সাথে কাজ করতে গেলেন? এই প্রশ্নের উত্তর অনুপম রয় দিয়েছেন এবং বলেছেন সারেগামাপায় নোবেলের সাথে পরিচয় এবং এই ছেলেটির গানে তিনি মুগ্ধ হন। এতটাই মুগ্ধ হন যে ইউটিউব খুঁজে নোবেলের অন্যান্য গান শুনেন এবং সিদ্ধান্ত নেন এই ছেলেকে দিয়ে সিনেমায় গান করাবেন। তারই ফলাফল হলো, আলোচিত মেধাবী পরিচালক সৃজিতের থ্রিলারধর্মী সিনেমা ‘ভিঞ্চিদা’তে নোবেলের প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে গান গাওয়া। গানের শিরোনাম ‘তোমার মনের ভেতর’। গানটি ইউটিউবে রিলিজ হয়েছে ইতিমধ্যে এবং এই গানের জন্য বেশ প্রশংসায় ভাসছেন নোবেল৷

অনুপমের লিরিক, সুর নিয়ে কোনো কথা হবে না। তিনি এক্ষেত্রে সবসময়ই স্বকীয়। নোবেলের প্রথম কাজ সিনেমার প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে, বেশ ভালই পারফর্ম দিয়েছেন বলতে হবে। নোবেলের মধ্যে সবসময়ই একটা ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, সে ভয়হীনভাবে গাইতে পারে এবং যখন যে গানটা তিনি গান, সেটাকে তিনি একদম ধারণ করেন ভেতর থেকে। এই গুণটা ভীষণ স্পেশাল এবং এটা তাকে অনেকদূর নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। নোবেলের জন্য শুভকামনা, এভাবেই নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে থাকুন, হেটাররাও হয়ত একদিন মুখোশ খুলে ভালবেসে ফেলবে আপনাকে!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button