মনের অন্দরমহলরিডিং রুম

প্রিয় নোবেল, খলনায়ক হবেন না প্লিজ!

মাঈনুল আহসান নোবেলকে নিয়ে সমালোচনার ছোটখাটো একটা ঝড় উঠেছে সম্প্রতি। একটা টিভি ইন্টারভিউতে তিনি বলেছেন, তার মতে প্রিন্স মাহমুদের লেখা এবং জেমসের গাওয়া ‘বাংলাদেশ’ গানটা আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হতে পারতো। সমসাময়িক বিবেচনায় তার কাছে মনে হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’র চেয়ে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে প্রিন্স মাহমুদের লেখা গানটাই বেশি তুলে ধরছে।

শিরোনাম দেখেই বুঝে ফেলার কথা, এই লেখায় নোবেলের গুণগান গাওয়া হবে না মোটেও। তবে এই লেখার আলোচ্য বিষয় জাতীয় সঙ্গীত নয়, সেখানে নোবেল তার ব্যক্তিগত মতামত জানিয়েছেন, সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যাথা নেই। নোবেল জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ‘বাংলাদেশ’ গানটাকে উপযুক্ত ভাবেন, নাকি অন্য কোন গানকে- সেটা তার ব্যাপার। অবশ্য, প্রিন্স মাহমুদের গান গেয়ে গীতিকারের নাম না নেয়ার কয়েকদিন পরে এসে আবার প্রিন্স মাহমুদের গানকেই নোবেল যখন জাতীয় সঙ্গীত হবার যোগ্য হিসেবে দাবী করেন, তখন পুরো ব্যাপারটাই কৌতুক বলে মনে হয়।

সারেগামাপা, মাইনুল আহসান নোবেল, রবীন্দ্রসংগীত

কালের কণ্ঠের সাংবাদিক দাউদ হোসাইন রনি সম্প্রতি নোবেলের একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। দীর্ঘ সেই সাক্ষাৎকারে বেশকিছু বিতর্কিত মন্তব্য নোবেল করেছেন, অভিযোগের আঙুল তুলেছেন দেশের কিংবদন্তী এক শিল্পীর দিকে, করেছেন বেশকিছু আলপটকা মন্তব্য। শিল্পীদের কাছ থেকে সবাই দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে, আশা করে তারা তাদের কাজ, তাদের শিল্প নিয়েই আলোচনায় থাকবেন। সেখানে নোবেল কেন বিতর্কিত হয়ে আলোচনায় থাকতে চাইছেন, এই ব্যাপারটা বোধগম্য হচ্ছে না আমার।

ব্যান্ড কিংবদন্তী জেমসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে নোবেল বলেছেন, জি বাংলার সারেগামাপা অনুষ্ঠানে তার গাওয়া ‘পাগলা হাওয়া’ গানটি সম্প্রচারিত হতে পারেনি জেমসের কারণে। নোবেল বলেছেন- “জেমস ভাই তাঁর ম্যানেজারকে দিয়ে ফোন করান এবং বলেন, ‘পাগলা হাওয়া’ গানটা যেন টেলিকাস্ট না হয়। আমাকে জেলে পাঠানোর হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়, এমন নানা রকমের আন-এক্সপেক্টেড কার্যকলাপ হয়েছে আর কি! একজন আইডলের কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি-ধমকি সত্যিই অপ্রত্যাশিত।”

মাইনুল হাসান নোবেল, Mainul Ahsan Noble, সারেগামাপা, নেক্সটটিউবার, সংগীত শিল্পী

তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, সত্যিই জেমসের ম্যানেজার ফোন করে নোবেলকে হুমকি দিয়েছেন, ধরে নিলাম জেমসের নিষেধের কারণেই জি বাংলা ‘পাগলা হাওয়া’ গানটি সম্প্রচার করতে পারেনি। এখানে প্রশ্নটা হচ্ছে, নোবেল কি তার বক্তব্যের সপক্ষে কোন প্রমাণ হাজির করেছেন? কিংবা প্রমাণ দেয়ার কথা বলেছেন? প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিতে এক সেকেন্ড সময়ও লাগবে না। জেমসের মতো একজন শিল্পী, যার গান গেয়ে নোবেল নিজে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনার আগে কি এসব জিনিস নোবেলের ভাবা উচিত ছিল না?

এই সাক্ষাৎকারে বিতর্কিত অনেকগুলো অংশ আছে। বাংলাদেশের কারো সঙ্গে কখনও ডুয়েট গান করবেন না, শ্রেয়া ঘোষাল আর লেডি গাগা ছাড়া আর কারো সঙ্গে ডুয়েটে গাইতে চান না- নোবেলের এসব কথাবার্তাগুলো অযথা বিতর্ক উস্কে দেয়া ছাড়া আর কোন কাজেই আসবে না। শিল্পীদের কাছে ভক্তরা বিনয়ী আচরণ আশা করেন, তবে সবাইকে বিনয়ী হতেই হবে, এমন কোন শর্ত নেই। বিনয়ী না হওয়াটা অপরাধ নয়, কিন্ত কিংবদন্তী শিল্পীদের নামে এমন অভিযোগ করে নিজেকে ‘কমপ্লেইন বয়’ হিসেবে দাঁড় করানোটাও তো কোন কাজের কথা নয়।

মাইনুল হাসান নোবেল, Mainul Ahsan Noble, সারেগামাপা, নেক্সটটিউবার, সংগীত শিল্পী, Noble Man, Next Tuber

নোবেল, আপনি দারুণ প্রতিভাবান একজন শিল্পী, বেশ কয়েক রকমের গান গেয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। মনযোগটা গানের ভূবনে ধরে রাখুন, নিজের সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়ে কাজ করুন, কাটিয়ে উঠুন সেগুলো। নিজেকে কিংবদন্তীদের কাতারে নিয়ে যান, আমরা আপনাকে নিয়ে গর্ব করতে চাই, আপনার তৈরি করা অযথা বিতর্কগুলো দেখে হতাশ হতে চাই না। একজন শিল্পী যখন নিজের সৃষ্টিকর্ম বাদ দিয়ে অন্যান্য কারণে খবরের শিরোনাম হন, সেটা শিল্পী বা ভক্ত- কারো জন্যেই সুসংবাদ নয়।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button