পিংক এন্ড ব্লু

ঘুম, তুমি আমার হবে?

খুব কম মানুষই আছেন যারা বিছানায় যাওয়া মাত্রই ঘুমিয়ে যেতে পারেন। এবং সত্যি এরা খুব ভাগ্যবান! প্রায় সবার তো বিছানার এপাশ করে, ভেড়া গুনে, ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থেকেও খুব একটা লাভ হয়না। আর পরিমিত ঘুম না হওয়া মানেই পরদিন অফিসে মেজাজ খিটমিট, দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, মুড আপডাউন ইত্যাদি ইত্যাদি!
 
তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাওয়ার জন্য করণীয় কিছু পদ্ধতি নিয়ে এই লেখা – 
 

১.  দিনে ব্যায়াম করা  

আমরা সবাই জানি ব্যায়াম আমাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। শুধু তাই না, আমাদের চিন্তা কমিয়ে ব্যায়াম ঘুমেরও উন্নতি করে। তবে এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঘুমের ৩ ঘণ্টার মাঝে ব্যায়াম না করা হয়।

২. সীমিত পানীয় গ্রহণ

ক্যাফেইন অতিরিক্ত গ্রহন করলে ঘুমের ব্যঘাত হয় তা আমরা সবাই জানি। তবে অতিরিক্ত এলকোহল এবং ঘুমের আগে মাত্রাতিরিক্ত পানি পান করাও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।  

৩. ঝিমুনি/ ভাত ঘুম/দিবা নিদ্রা পরিহার

দিনে ঘুমিয়ে নিলে রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে যায়। সেজন্য দিনের ঘুমকে পরিহার করতে হবে। যদি কোনোভাবেই পরিহার করতে না পারেন, তাহলে শুধুমাত্র ২০ মিনিটের ছোট একটি ঘুম দিয়ে উঠুন, এর বেশি নয়। তবেই আপনি রাতে ঘুমাতে পারবেন।  

৪. খাবার

খাবারও একটি বড় কারন ঘুমের জন্য। রাতে হালকা খাবার গ্রহন করুন। বেশি ভারী খাবার হজম হতে সময় বেশি লাগে এবং অনেক সময় বদহজম হয় সেক্ষেত্রে রাতে ঘুমানোর সময় আপনার সমস্যা হবে। আবার একদম খালি পেটে ঘুমাতে যাবেন মা। ক্ষুদা আপনাকে জাগিয়ে রাখবে। সেজন্য ঘুমানোর বেশ আগেই হালকা খাবার গ্রহন করুন এবং ঠিক সময় ঘুমাতে যান। 

৫. টিভি-কম্পিউটার বন্ধ

আপনি যদি টিভি-কম্পিউটার চালিয়ে রাখেন সেক্ষেত্রে আপনার মনোযোগ ঘুমে না থেকে সেদিকে আটকে থাকবে। তাই ঘুমানোর সময় টিভি, কম্পিউটার বন্ধ করে বিছানায় যান। এটি পরীক্ষিত যে এতে ঘুম ভাল হয়।

 ৬. ইলেকট্রনিক জিনিস দুরে রাখুন

ঘুমের জন্য ঘুমের পরিবেশ ঠিক হওয়া খুব জরুরি। টিভি-কম্পিউটার থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন সব বন্ধ করে বিছানা থেকে দুরে রেখে ঘুমাতে যান। ঘুমের সময় এসব আপনাকে বিরক্ত করে এবং ইন্টারনেট ঘুমে প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটায়।  

৭. বেডরুমের টেম্পারেচার

বেডরুমের তাপমাত্রা ঠাণ্ডা থাকলে তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসে। আমাদের শরীরের তাপমাত্রা থেকে ঘরের তাপমাত্রা কম হলে আমরা আরামদায়ক অনুভব করি এবং এতে আমাদের শরীর ছেড়ে দেয়, যার কারনে আমাদের দ্রুত ঘুম আসে। বেডরুমের তাপমাত্রা ৬৫-৭৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ১৮-২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস হওয়া ভাল।

৮. আলো কম করুন

খুব অল্প আলো ও আপনার ঘুমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, তাই আলো নিভিয়ে নিন। যাদের অন্ধকার ফোবিয়া আছে তারা হালকা আলো জ্বালাতে পারেন । তবে যাদের আলোতে অনেক সমস্যা তারা বাড়তি সুবিধার জন্য আলো নিভিয়ে “আই মাস্ক” ব্যবহার করুন। 

৯. শব্দ থেকে দূরে

অনেক সময় শব্দে ঘুম আসে না। সেটা খুব আস্তে হতে পারে, অল্প হতে পারে এমনকি ঘড়ির কাটার মৃদু শব্দও হতে পারে। তাই খেয়াল করুন কোন শব্দ আপনার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে কিনা! যদি এমন হয় তবে এয়ারপ্লাগ ব্যবহার করুন, উপকৃত হবেন। 

১০. এরোমাথেরাপি

এটি আপনার শরীরকে শান্ত করবে। বিভিন্ন রকম পদ্ধতি আছে এই থেরাপির। যদি সম্ভব হয় তাহলে এটি নিতে পারেন এবং আপনার ঘুমের জন্য এটি খুব ভাল কাজ করবে আশা করা যায়! যদিও এটি আমাদের কাছে নতুন, তবে এর উপর পড়াশোনা থাকলে এটি সহজ ভাবেই করা সম্ভব।

১১. প্রতিদিন একই সময় মেনে চলুন

প্রতিদিন একি সময় মেনে ঘুমাতে যান। আপনার ঘুম ঠিকমত হবে এবং একি সময় ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে থাকলে একসময় আপনার ওই নির্দিষ্ট সময়েই ঘুম আসবে। 

১২. ঘুমের আগে গোসল

ঘুমানোর আগে যদি আপনি হালকা গরম পানির গোসল নেন তাতে আপনার শরীর শিথিল হবে, আপনার শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যাবে তারপর কম তাপমাত্রার ঘরে আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা হবে, যা আপনাকে ঘুমিয়ে পরতে সাহায্য করবে।  

১৩. পানীয়

হার্বাল চা কিংবা এক মগ দুধ আপনাকে স্বস্তি দেবে এবং ঘুমাতে সাহায্য করবে।

১৪. বই পড়ুন

ঘুমানোর আগে খুব ইন্টারেস্টিং কিংবা খুব বোরিং কোন বই পড়ুন। এতে আপনার মস্তিষ্ক হয় খুব কাজ করতে থাকবে এবং অল্প সময় পরেই আপনি ক্লান্ত অনুভব করতে থাকবেন এবং ঘুমিয়ে পরবেন অথবা এতটাই বোরিং লাগবে যে আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত করে তুলবে। 

১৫. আরামদায়ক পোশাক পরিধান

ঘুমানোর সময় আরামদায়ক পোশাক পরুন। ঢিলে ঢালা, আপনার পছন্দ মতো। এতে আপনার শরীর আরাম পাবে এবং আপনার ঘুম ভাল হবে।
 
ঘুম না আসার কারন বের করার চেষ্টা না করে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। উপরের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে দেখুন, কাজে লাগবে আশা করা যায়। 
Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button