খেলা ও ধুলা

আমাদের এই অনুভূতির জন্য দায়ী মুস্তাফিজ!

বাংলাদেশের মাল্টিন্যাশনাল সিরিজের ফাইনালগুলো নিয়ে কথা বলি!

২০০৯ এ সাকিব বীরত্বে ফাইনালে ওঠার পরে শ্রীলংকার সাথে জিতবো, এটাকে অঘটন ধরেই আমরা খেলেছিলাম। খুব একটা আশা ছিল না। বাংলাদেশ যখন ১৫২ রানে অল আউট হয়ে গেলো, তখন জানি যে এটা স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার খেলা। তারপর যেন কী হয়ে গেল! শ্রীলংকার ৬ রানে ৫ উইকেট পড়ে গেলো! সত্যি বলি, যতক্ষণ সাঙ্গাকারা আর মাহারুফ ক্রিজে ছিলো, আমি ভেবেছি ম্যাচ হয়তো এরা বের করে নিবে। সাকিব টানা সাঙ্গা আর কুলাসেকারাকে ফেলার পরে মনে হয়েছে “মনে হয় জিতবো!” তবু মাহারুফ আছে। যদিও হাতে মাত্র দুই উইকেট, তবু ওদের রান দরকার ছিল ৫ ওভারে ৩৫ এর মতো। এটা হয়ে যেতে পারে। আমাদের জেতার চান্স বেশি, কিন্তু শ্রীলংকাও জিততে পারে; এমন একটা মাইন্ডসেট ছিল। আর রুবেলের ২০ রানের ওভারের পরে আগে থেকেই প্রিপেয়ার্ড ছিলাম যে ম্যাচটা হারছি! কষ্টটা সয়ে গেছে!

২০১২ এশিয়া কাপে আমরা ফাইনালে উঠেছিলাম একটা মোমেন্টামে। ম্যাচজুড়ে আশা ছিল। শাহাদাতের ১৯ রান দেয়া শেষ ওভারের পরেই মাথায় ঢুকে গিয়েছিলো যে এই ১৯ রানই ম্যাচ হারাবে। তখনই স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম। নাজিমউদ্দীনের ৪০ বলে ৮ এর পরে আবার আশা এসেছে, গেছে। তবে পুরো টানটান উত্তেজনার ম্যাচে কখনোই পুরোপুরি মনে হয়নি যে “ম্যাচ জিতবোই!” ৪ ওভারে দরকার ছিল ৩৯ রান, এরপর মাশরাফির মারে ৩ ওভারে ২৫, ২ ওভারে ১৯, আর শেষে ১ ওভারে ৯। মনে হয়েছিলো জিততে পারি। ইন-শা-আল্লাহ জিতবো। কিন্তু জিতবোই মনে হয়নি! সাকিব-মুশফিকের কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিলো। আমাদের চোখেও পানি এনেছিলো। তবু কষ্টটার জন্য আগে থেকে প্রিপেয়ার্ড ছিলাম!

২০১৬ এশিয়া কাপ ফাইনালে সত্যিকার অর্থেই এক মুহূর্তের জন্যেও আমাদের জেতার চান্স বেশি এটা মনে হয় নাই! রিয়াদ শেষদিকে এসে ১৩ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলো, মনের মধ্যে রাশ এনে দিয়েছিলো। তবে জানতাম যে ১৫ ওভারে ১২০ ওই ভারতের সামনে কোন বড় স্কোরই না। বাংলাদেশের বোলিং জুড়েই সেরকমভাবে মনে হয়নি যে বাংলাদেশের জয়ের সুযোগ বেশি। মনের গহীনে আশা তো থাকেই, কিন্তু বাস্তবতা জানতাম!

২০১৮ তে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং করছিলো তখন রিয়াদ-মুশফিক যতক্ষণ টিকে ছিল একটা আশা করেছি। আমরা হয়তো জিততে পারি। এই জুটিটাকে খেলা টানতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষে রিয়াদের একক যুদ্ধ মনের কোণে একটা আশার সলতে জ্বালিয়ে রেখেছিলো, কিন্তু জানতাম যে খুব অলৌকিক কিছু না ঘটাতে পারলে শ্রীলংকাই জিতছে!

এবারে আসি নিদাহাস ট্রফির কালকের ফাইনাল নিয়ে! বাংলাদেশের করা ১৬৬ খুব বড় না হলেও চ্যালেঞ্জিং স্কোর। তবে ভারতের সুযোগ বেশি, এটা আগে থেকেই জানতাম। রোহিত শর্মা থাকা পর্যন্ত মনে হয়েছে সে ম্যাচ বের করে নিয়ে যাবে। রোহিত আউট হবার পরে মনে হয়েছে বাংলাদেশের সুযোগ বেশি। যখন ৩ ওভারে ৩৫ রান দরকার তখনও মনে হয়েছে এই ম্যাচ ভারত হয়তো বের করে নিয়ে যেতে পারে। ৩ ওভারে ৩৪ তো কত সময়েই হয়!

এরপর এসেছে মুস্তাফিজের সেই ম্যাজিক্যাল ওভার! কোন সন্দেহ ছাড়াই ডেথ ওভারে টিটুয়েন্টি ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওভার ছিল সেটি! এমন অবস্থায় একটা উইকেট মেডেন, খেলা বোঝা কেউই কল্পনাও করেনি। মুস্তাফিজের ওভার শেষে উইকেটের সাথে সাথে চিৎকার করে উঠেছি! এতোগুলো ফাইনালে যে জিনিস মনে হয়নি সেটা তখন মনে হয়েছে। “আমরা জিতবোই!” “এই ম্যাচ হারতেই পারি না!”

রুবেল আগের ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়েছে, সে ডেথে ভালো বল করে! সুতরাং ২ ওভারে ৩৪ ডিফেন্ড করা কোন ব্যাপার হবে না। এমনকি ওভার শুরুর আগেই আমি আমার সাথের সবাইকে বলছিলাম যে, রুবেলকে এই ওভারে দিয়ে খেলাটা শেষ করে দেয়া উচিত। এই ওভারে যদি রুবেল ১০-১২ ও দেয়, তাহলেও শেষ ওভারে ২০+ রান দরকার হবে। ওইটা ডিফেন্ড করা কোন ব্যাপার হবে না! সাকিব এক্সকাটলি এই কথাটাই ম্যাচের পরে বলেছেন। “ম্যাচ জিতবোই!” এই বিশ্বাস একদম ভিতরে ঢুকে গিয়েছিলো। ২০০৯ এ সাকিব সাঙ্গাকে আউট করার পরে যেটা মনে হয়নি, ২০১২ তে মাশরাফির ক্যামিওর পরে যেটা মনে হয়নি, মনে হয়নি ২০১৬, ১৮ তে রিয়াদ বীরত্বের পরেও সেটা গতকাল মুস্তাফিজের ওভারটা শেষে মনে হয়েছে!

এজন্যেই হয়তো ব্যাপারটা একদমই নিতে পারছি না! মাথা থেকে যাচ্ছেই না! ২ ওভারে ৩৪। রুবেলের ওভারে ২২? আসলেই? এজন্যেই দোষটা মুস্তাফিজের। সে এমন গোল্ডেন একটা ওভার বল করেই প্রত্যাশার পারদটা সবচেয়ে উঁচুতে নিয়ে গিয়েছিলো! ৩ বলে ২ এর পরে ২ ওভারে ৩৪ এর এই দুঃস্বপ্ন কত বছর মনে হানা দেয় কে জানে!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button