ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

জায়নামাজ ছাড়া কি নামাজ হতো না?

সকাল থেকে আমি আমার নিউজফিডে একটা ছবি দেখছি, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে ৪ জন ব্যক্তি আমাদের জাতীয় পতাকার ওপর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছেন। অদ্ভুত বিষয় হলো একদল এটাকে দেখছেন ধর্মীয় আঙ্গিক থেকে, আর একদল দেখছেন দেশপ্রেম থেকে। যারা ধর্মীয় আঙ্গিক থেকে দেখছেন, তাদের দাবী জাতীয় পতাকাকে জায়নামাজ হিসেবে ব্যবহার করার মাধ্যমে জাতীয় পতাকার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। আর যারা দেশপ্রেম থেকে বিচার করছেন, তাদের দৃষ্টিতে এটা হল চরমতম ধৃষ্টতা। তবে এখানেই শেষ না। এই দুই দলের মাঝে আরও একদল আছে, যাদের কাছে ধর্ম-টর্ম কোনো বিষয় না, আবার তাদের মাঝে ‘বাড়াবাড়ি’ রকমের জাতীয় পতাকা প্রীতিও নেই; তারা বরং বিষয়টিকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন।

প্রশ্ন হলো আমি কোন দলে? সেটা জানার আগে আসুন, আমরা একটু জেনে নিই যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ (সংশোধনী ২০১০) এ কী বলা আছে…

(১) সর্বদা পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করিতে হইবে।
(২) পতাকা দ্বারা মোটরযান, রেলগাড়ী অথবা নৌযানের খোল, সম্মুখভাগ অথবা পশ্চাদভাগ কোন অবস্থাতেই আচ্ছাদিত করা যাইবে না।
(৩) যেক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের পতাকা অথবা রঙিন পতাকার সহিত ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করা হয়, সেইক্ষেত্রে বাংলাদেশের পতাকাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য স্থান সংরক্ষিত থাকিবে।
(৪) যেক্ষেত্রে কেবলমাত্র দুইটি পতাকা অথবা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা হয়, সেইক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ ভবনের ডানদিকে উত্তোলন করা হইবে।
(৫) যেক্ষেত্রে পতাকার সংখ্যা দুইয়ের অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে অযুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যখানে এবং যুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যভাগের ডানদিকে উত্তোলন করা হইবে।
(৬) যেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ অন্য পতাকার সহিত আড়াআড়িভাবে কোন দন্ডে দেয়ালের বিপরীতে উত্তোলন করা হয়, সেইক্ষেত্রে বাংলাদেশের পতাকা অন্য পতাকার ডানদিকে আড়াআড়িভাবে থাকিবে (আড়াআড়িভাবে যুক্ত পতাকা দুইটির দিকে মুখ করিয়া দন্ডায়মান ব্যক্তির বামদিকে) এবং পতাকা দন্ডটি অন্য পতাকা দন্ডের সম্মুখভাগে স্থাপিত হইবে।

(৭) ‘বাংলাদেশের পতাকা’র উপরে অন্য কোন পতাকা বা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা যাইবে না।
(৮) ‘বাংলাদেশের পতাকা’ শোভাযাত্রার মধ্যভাগে বহন করা হইবে অথবা সৈন্য দলের অগ্রগমন পথে (Line of March) শোভাযাত্রার ডানদিকে বহন করা হইবে।
(৯) মর্যাদার প্রতীক সম্বলিত ঢালে (escutcheons) অযুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যভাগে এবং সর্বোচ্চ কেন্দ্রে থাকিবে এবং যুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ঢালের ডানদিকে শীর্ষে (ঢালের দিকে মুখ করিয়া দন্ডায়মান ব্যক্তির বামদিকে) বাংলাদেশের পতাকা স্থাপন করা হইবে।
(১০) যেক্ষেত্রে অন্য কোন দেশের সহিত ‘বাংলাদেশের পতাকা’ একত্রে উত্তোলন করা হয়, সেইক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ প্রথমে উত্তোলন করিতে হইবে এবং নামাইবার সময় সর্বশেষে নামাইতে হইবে।
(১১) যেক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক দেশের পতাকা প্রদর্শিত হয়, সেইক্ষেত্রে প্রতিটি পতাকা পৃথক পৃথক দন্ডে উত্তোলন করা হইবে এবং পতাকাসমূহ প্রায় সমান আয়তনের হইবে।
(১২) যেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ অর্ধনমিত থাকে, সেইক্ষেত্রে প্রথমে সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত উত্তোলন করা হইবে এবং অতঃপর নামাইয়া অর্ধনমিত অবস্থায় আনা হইবে। ঐ দিবসে নামাইবার সময় পুনরায় উপরিভাগ পর্যন্ত উত্তোলন করা হইবে, অতঃপর নামাইতে হইবে।

(১৩) যেক্ষেত্রে দন্ডের উপর ব্যতীত অন্যভাবে কোন দেয়ালের উপর ‘পতাকা’ প্রদর্শিত হয়, সেইক্ষেত্রে উহা দেয়ালের সমতলে প্রদর্শিত হইবে। কোন পাবলিক অডিটোরিয়াম বা সভায় ‘পতাকা’ প্রদর্শন করিতে হইলে উহা বক্তার পশ্চাতে উপরের দিকে প্রদর্শিত হইবে। যেক্ষেত্রে রাস্তার মধ্যখানে পতাকা প্রদর্শিত হয়, সেইক্ষেত্রে উহা খাড়াভাবে প্রদর্শিত হইবে।
(১৪) কবরস্থানে ‘জাতীয় পতাকা’ নীচু করা যাইবে না বা ভূমি স্পর্শ করান যাইবে না।
(১৫) ‘পতাকা’ কোন ব্যক্তি বা জড় বস্ত্তর দিকে নিম্নমুখী করা যাইবে না।
(১৬) ‘পতাকা’ কখনই উহার নিচের কোন বস্তু যেমন: মেঝে, পানি বা পণ্যদ্রব্য স্পর্শ করিবে না।
(১৭) ‘পতাকা’ কখনই আনুভূমিকভাবে বা সমতলে বহন করা যাইবে না, সর্বদাই । ঊর্ধ্বে এবং মুক্তভাবে থাকিবে।
(১৮) ‘বাংলাদেশের পতাকা’ কোন কিছুর আচ্ছাদন হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না, তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি যাঁহাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদা বা পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতাসহ সমাধিস্থ করা হয়, তাঁহার শবযানে পতাকা আচ্ছাদনের অনুমোদন প্রদান করা যাইতে পারে।
(১৯) ‘পতাকা’ এমনভাবে উত্তোলন, প্রদর্শন, ব্যবহার বা সংরক্ষণ করা যাইবে না, যাহাতে উহা সহজেই ছিঁড়িয়া যাইতে পারে বা যে কোনভাবে ময়লা বা নষ্ট হইতে পারে।
(২০) কোন কিছু গ্রহণ, ধারণ, বহন বা বিলি করিবার নিমিত্ত ‘পতাকা’ ব্যবহার করা যাইবে না।

(২১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আরোপিত কোন শর্তাবলী (যদি থাকে) এবং লিখিত অনুমোদন ব্যতীত, কোন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্বোধন, পেশা বা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের ‘পতাকা’ কোন ট্রেড মার্ক, ডিজাইন, শিরোনাম অথবা কোন প্যাটেন্ট হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না।
(২২) যেক্ষেত্রে ‘পতাকা’র অবস্থা এমন হয় যে, উহা আর ব্যবহার করা না যায়, সেইক্ষেত্রে উহা মর্যাদাপূর্ণভাবে, বিশেষ করিয়া সমাধিস্থ করিয়া, নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(২৩) ‘পতাকা’ দ্রুততার সহিত উত্তোলন করিতে হইবে এবং সসম্মানে নামাইতে হইবে।
(২৪) ‘পতাকা’ উত্তোলন ও নামাইবার সময় এবং প্যারেড পরিক্রমণ ও পরিদর্শনের সময় উপস্থিত সকলে ‘পতাকা’র দিকে মুখ করিয়া সোজা হইয়া দাঁড়াইবেন।

(২৫) যেক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পতাকা’ উত্তোলন করা হয়, সেইক্ষেত্রে একই সাথে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হইবে। যখন জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় এবং ‘জাতীয় পতাকা’ প্রদর্শিত হয়, তখন উপস্থিত সকলে ‘পতাকা’র দিকে মুখ করিয়া দাঁড়াইবেন। ইউনিফর্মধারীরা স্যালুটরত থাকিবেন। ‘পতাকা’ প্রদর্শন না করা হইলে, উপস্থিত সকলে বাদ্য যন্ত্রের দিকে মুখ করিয়া দাঁড়াইবেন, ইউনিফর্মধারীরা জাতীয় সঙ্গীতের শুরু হইতে শেষ পর্যন্ত স্যালুটরত থাকিবেন।
(২৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ব্যতীত, ‘জাতীয় পতাকা’ অর্ধনমিত করা যাইবে না, তবে শর্ত থাকে যে, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রধান (যে দেশের নিকট তিনি আস্থাভাজন) ইচ্ছা করিলে ঐ সকল দিবসে ‘পতাকা’ অর্ধনমিত রাখিতে পারিবেন, যে সকল দিবসে উক্ত দেশে, সরকারীভাবে ‘পতাকা’ অর্ধনমিত রাখা হয়।

 

অতএব দেখতে পাচ্ছি যে- এখানে স্পষ্টতই বলা আছে, জাতীয় পতাকাকে কখনোই ভূলুণ্ঠিত (মেঝে স্পর্শ) করা যাবে না; তা ঐ জায়নামাজ হলেও না। কিন্তু এ তল্লাটের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ভাষ্য- জাতীয় পতাকাকে পোশাকে কিংবা গয়নায় ব্যবহার করা গেলে জায়নামাজ হিসেবে কেন ব্যবহার করা যাবে না? সেক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন হলো, জাতীয় পতাকাকে কে কবে কোথায় পোশাক হিসেবে ব্যবহার করেছে? তাছাড়া জাতীয় পতাকা মানে কি কেবল লাল এবং সবুজ রঙের এক টুকরো কাপড়? আর কেউ যদি লাল এবং সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক পরিধান করে, তবেই কি তা জাতীয় পতাকা হিসেবে পরিগণিত হবে?

কখনোই না। কারণ জাতীয় পতাকা হলো, ১০:৬ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তক্ষেত্রাকার গাঢ় সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত। এবং সেই লাল বৃত্তটিকে হতে হবে পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট। পতাকার দৈর্ঘ্যের নয়-বিংশতিতম অংশ হতে অঙ্কিত উল্লম্ব রেখা এবং পতাকার প্রস্থের মধ্যবর্তী বিন্দু হতে অঙ্কিত আনুভূমিক রেখার পরস্পর ছেদ বিন্দুতে হবে বৃত্তের কেন্দ্র বিন্দু। এতগুলি শর্ত পূরণ করলে তবেই তা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হয়ে উঠবে।

আর এতগুলি শর্ত পূরণ করে নিশ্চয়ই কেউ শাড়ি-গয়না তৈরী করে না, ব্যবহার তো দূরের কথা। আর যদি কেউ করেও থাকে, তবে তা কখনোই সাধুবাদযোগ্য না বরং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু এতগুলি শর্ত পূরণ করে এমন ‘এক খণ্ড কাপড়কে’ ঐ লোকগুলি জায়নামাজ বানিয়ে তাতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছেন, যা রীতিমতো সংবিধান পরিপন্থী কাজ, রাষ্ট্রদ্রোহিতারও শামিল। তবে তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি যে ঐ লোকগুলি ভুলবশত, অজ্ঞানতাবশত, বিচক্ষণতার অভাবে, অতি উচ্ছ্বাস কিংবা ধর্মান্ধতা থেকে জাতীয় পতাকার ওপর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছেন এবং তাদের মনে কোনো কু উদ্দেশ্যও ছিলো না। কিন্তু অঘটন ঘটে যাওয়ার পর যারা তাদের কৃত ঐ ভুলকে বৈধতা দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন; ধর্ম এবং জাতীয়তাবাদকে এক পাল্লায় মাপছেন; তাদের প্রতি আমার জিজ্ঞাসা- জায়নামাজ ছাড়া কি নামাজ হয় না? আমি যতদূর জানি তা হলো, ‘পবিত্র’ জমিনের ওপর কিছু না বিছিয়েও যদি কেউ নামাজ পড়ে তবে সেই নামাজ কবুল হবে। কেন তবে আমার দেশের পতাকা নিয়ে টানাটানি যেখানে জড়িয়ে আছে অগণিত মানুষের আবেগ, অনুভূতি এবং ভালোবাসা?

তাছাড়া সৌদি আরবের পতাকায় লেখা আছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্।’ ইরাক-ইরানের পতাকায় লেখা, ‘আল্লাহু আকবর।’ এমনকি অধিকাংশ মুসলিম দেশের পতাকা হলো চাঁদ-তারা কিংবা আরবি হরফ খচিত যা নির্দেশ করে যে তারা সকলে ইসলাম ধর্মাবলম্বী, তাদের বসবাস একটা মুসলিম অধ্যুষিত ভূখণ্ডে। কিন্তু সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা আছে বিধায় আমার প্রিয় জন্মভূমিতে কি কেবল মুসলমানের বাস? আমার দেশের পতাকা কি কোনো ইসলামি পতাকা? আমার দেশের মুসলমানেরা কি চাইলেই যেকোনো ‘পবিত্র’ কাজে এই পতাকাকে ব্যবহার করতে পারবে?

সেক্ষেত্রে আমার সুস্পষ্ট এবং সুদৃঢ় উত্তর, না।

১৯৭১ সালের ২রা মার্চ আমার দেশের মানুষ এই পতাকা উত্তোলন করে সারা পৃথিবীকে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেয়। এই পতাকাকে বুকে ধারণ করেই তারা দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করে। এই স্বাধীনতা কোনো কুড়িয়ে পাওয়া স্বাধীনতা না। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ৪ লাখ মা-বোনের পাশবিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা, যার প্রতীক আমার দেশের ঐ লাল-সবুজ পতাকা। আমরা আমাদের পতাকায় ঐ যে টকটকে লাল বৃত্তটা দেখতে পাই, ওটা কোনো লাল বৃত্ত নয়। ওটা অনুভব করতে গেলেই আপনাকে ডুবে যেতে হবে অতল সাগরে, যেখানে কোনো পানি নেই, রয়েছে কেবল টকটকে লাল রক্ত। আপনার-আমার ভাইয়ের, বাবার রক্ত; আমদের মা-বোনের যোনীপথ বেয়ে নেমে আসা রক্ত।

আর ঐ সবুজের মাঝে নাক ডুবিয়ে দেখুন, ওখানেও রক্তের ঘ্রাণ পাবেন। তাজা ঘ্রাণ। মনশ্চক্ষুর দ্বার উন্মুক্ত থাকলে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ কিংবা হাড়-মজ্জাও দেখতে পাবেন। শুনতে পাবেন বাতাসে প্রতিধ্বনিত হওয়া বাংলার মানুষের তথা বাঙ্গালীর আর্তচিৎকার, কোনো মুসলমানের না। কারণ লাল-সবুজ রঙা ঐ বিজয় নিশান অর্জন করার পেছনে যতটা অবদান ছিলো মুসলমানের, ঠিক ততটাই অবদান ছিলো হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের। তাহলে কোন সাহসে বা স্পর্ধায় জন্ম ইতিহাস ভুলে গিয়ে আপনারা জাতীয় পতাকার ওপর সসম্মানে বা অসম্মানে দাঁড়ান যা কিনা আপনার পূর্বপুরুষদের রক্তের প্রতিনিধিত্ব করছে? দয়া করে একটু ভেবে দেখবেন কি?

সর্বোপরি, ঐ কতিপয় নির্বোধ দোপেয়ে জীব জাতীয় পতাকাকে জায়নামাজ বানিয়ে তার ওপর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছে এবং সেই দৃশ্যকে আপনারা যারা আজ নিরলসভাবে ‘সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়েছে’ মর্মে সমর্থন করে যাচ্ছেন, বৈধতা দিতে ব্যাকুলতা প্রকাশ করছেন; এমনকি যারা জাতীয় পতাকার সম্মানার্থে ঐ কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছেন তাদেরকেও আপনারা দুচ্ছাই করছেন, বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছেন; তাদেরকে বলছি- কাল যদি ঠিক একইভাবে কোনো হিন্দু ‘সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে’ জাতীয় পতাকার ওপর বসে তার ঠাকুর-দেবতাকে অর্ঘ্য নিবেদন করেন, তবে পারবেন তো সেটাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে? আমি হলফ করে বলতে পারি যে ৯০% মুসলমানের দেশে তখন গেলো গেলো রব পড়ে যাবে।

তথ্যসূত্র: “PEOPLE’S REPUBLIC OF BANGLADESH FLAG RULES, 1972 (Revised up to May, 2010) এর অনূদিত বাংলা পাঠ”

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button