অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

যে রেস্টুরেন্টে খেতে হলে উলঙ্গ হতে হয়!

প্যারিস অনেকের স্বপ্নের শহর। এই শহরের প্রকৃতি, আবহাওয়া থেকে শুরু করে সব কিছুতেই রোমান্টিকতার ছোঁয়া। শৈল্পিক এই নগরীতে কত বিচিত্রতা লুকিয়ে আছে এর অলিতে গলিতে তার কোনো হিসাব নেই। এমনই একটি বিচিত্র খাবারের দোকান আছে প্যারিসে। যেখানে খাবার খেতে হলে, মানুষকে জামা কাপড় ত্যাগ করে একদম আদিম স্বত্তায় যেতে হয়!

২০১৭ সালের নভেম্বরে শুরু হয় আলোচিত এই রেস্তোরাঁ। শুরুতেই বেশ হৈ চৈ পড়ে যায় এই রেস্টুরেন্ট ঘিরে। প্যারিসে এই ধরণের অদ্ভুত রেস্টুরেন্ট আগে কখনো ছিল না। ও’ন্যাচারাল নামক এই রেস্টুরেন্টই প্রথম। প্যারিসের এই রেস্টুরেন্টটিতে খাবার খেতে হলে গ্রাহকদের পোষাক খুলে রেখে আসতে হবে। নির্দিষ্ট লকার আছে যেখানে গ্রাহকদের পোষাক রাখা হয়। মোবাইল ফোনটাও জমা দিয়ে দিতে হয় যেন কেউ ব্যাক্তিগত ছবি তুলে অজান্তে বাইরে কোথাও প্রকাশ করতে না পারে।

এই রেস্টুরেন্টটির মালিক দুই জমজ ভাই বোন মাইক ও স্টেফানে। তারা এটিকে আখ্যা দেন প্রাকৃতিক রেস্তোরাঁ হিসেবে। এই রেস্তোরাঁ খোলার পেছনে তাদের থিম হলো, মানুষকে প্রাকৃতিক মূল্যবোধের ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দেয়া, প্রকৃতি যেভাবে মানুষকে তৈরি করেছে তাকে সেভাবেই গ্রহণ করা। সব ধরণের জাজমেন্টের উর্ধ্বে উঠে প্রকৃতিতে সবাই একসাথে বসবাস করবে এমন ধারণাই তারা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

GEOFFROY VAN DER HASSELT/AFP/Getty Images

 

স্বাভাবিকভাবে মনে হতে পারে, কে এমন পাগল যে পোষাক খুলে রেস্টুরেন্টে খাবার খাবে! কিন্তু, আশ্চর্য হলেও সত্য প্রথম দিকে এই রেস্টুরেন্টে মানুষ স্রোতের বেগে আসতে থাকে। এটাকে তারা একটা নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবেই নেয়। তার চেয়ে মজার ব্যাপার হলো, অনেকেই এই ধারণাটাকে পছন্দও করে ফেলেছে৷ যারা এসেছে তাদের সবার মুখে খাবারের প্রশংসা। রেস্তোরাঁর ফেসবুক পেজের রেটিংও বেশ ভাল, ৪.৮!

এই রেস্তোরাঁতে যারা খাবার খেতে আসেন, তারা পোষাক ছাড়া খেতে বসলেও যারা খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে থাকেন, তারা কিন্তু ঠিকই পোষাক পরিধান করেন। আর অদ্ভুত এই রেস্তোরাঁ পুরোটাই পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে। বাইরের কেউ যাতে গ্রাহকদের বিরক্ত না করতে পারে তার জন্য এই ব্যবস্থা।

অনেক আলোচনার জন্ম দিয়ে রেস্তোরাঁটি শুরু হলেও চালু হওয়ার মাত্র ১৫ মাসের মধ্যে বন্ধ হতে চলেছে এটি। এই বছর ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ হয়ে যাবে প্যারিসের এই ন্যাকেড রেস্টুরেন্ট। নাহ, কোনো দূর্ঘটনা কিংবা অপরাধের কারণে বন্ধ হচ্ছে না। এখানে সবাই নগ্ন হয়ে খাবার খেলেও, কেউ কাউকে বিরক্ত করছে এমন ঘটনা ঘটেনি। ঘটেনি কোনো ধর্ষণের ঘটনাও। যারা এখানে আসত, তারা শুধু কিছুক্ষণের জন্য খাবারের সাথে প্রকৃতিতে নিজের স্বত্তাটাকে অনুভব করত এই পরিবেশে। আর কিছু নয়।

GEOFFROY VAN DER HASSELT/AFP/Getty Image

তবে, এখন আগের মতো মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারছে না এই রেস্তোরাঁটি। গ্রাহক সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে রেস্তোরাঁর মালিক জমজ ভাইবোন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতেই ‘শাট ডাউন’ করে দেওয়া হবে রেস্তোরাঁটি। নিজেদের ফেসবুক পেজ থেকে তারা অবশ্য আহ্বান জানিয়েছে, যারা এখনো পোষাকের আবরণ ছেড়ে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়ার এই অভিজ্ঞতা নেননি, তারা যেন আসেন। সেখানে তারা লিখেছে, Don’t hesitate to book now to enjoy a last naked dinner in Paris. It’s now or never.”

কারো কাছে এই ধরণের আইডিয়া অসভ্যতা মনে হতে পারে, কারো কাছে অদ্ভুতুড়ে ঠেকতে পারে। তবে প্যারিসের মতো একটি শহরে এমন ঘটনা খুব আশ্চর্যজনকও না আসলে। প্যারিস এমন একটি জায়গা, যেখানে শিল্পীরা নগ্নতাকেও শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করেন। নগ্নতা নিয়ে প্যারিসের নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে অনেকে একমত হবেন না এটাই স্বাভাবিক। নগ্নদের রেস্তোরাঁও তাদের দৃষ্টিভঙ্গির অদ্ভুত বহিঃপ্রকাশের একটি উদাহরণই হয়ত। যাহোক, এই নগ্নদের এই রেস্তোরাঁ যতই অস্বাভাবিক মনে হোক, এটি আর থাকছে না, এটাই আপাতত স্বাভাবিক খবর!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button