এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ডবিবিধ

বাংলাদেশি তরুণের সততায় মুগ্ধ ইতালির রোম শহর!

ইতালির রোম শহর। ব্যস্ত এই শহরে কত রকমের মানুষের যে আনাগোনা তার হিসেব নেই। এই বিখ্যাত শহরে বাঙ্গালিদের পায়ের ছাপ পড়তে শুরু করেছে বহু বছর ধরেই। প্রবাসে বাংলাদেশিদের সম্পর্কে নাকি কোনো কোনো দেশে নেতিবাচক ধারণা আছে। তবে, বাংলাদেশি প্রবাসীরা যে ইতিবাচক কাজের মধ্যে দিয়েও বাংলাদেশ সম্পর্কে পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি করতে পারন, তারও উদাহরণ আছে।

এই যেমন ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি মুসান রাসেলের কথাই ধরা যাক। তিনি থাকেন রোম শহরে। রোমের এক সড়কে তার লেদার সামগ্রীর স্টল আছে। এই স্টল দিয়েই তার জীবিকা। ইতালি প্রবাসী এই তরুণ মুসান রাসেলই হঠাৎ বেশ আলোচিত হলেন রোম শহরে। গত শুক্রবারে ঘটেছিল ঘটনাটি। সেদিন তিনি রাস্তায় একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন।

মানিব্যাগটি হাতে নেয়ার পর আশ্চর্য হবার পালা। তার ভেতর অনেকগুলো ইউরো। রাসেল তখন গুনে দেখেননি। পরে অবশ্য জানা গিয়েছিল মানিব্যাগে ছিল প্রায় দুই হাজার ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দুই লক্ষ টাকার সমান। সাথে আছে ক্রেডিট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ আরো কিছু কাগজ।

যাহোক, এতোগুলো টাকা হাতে পেয়ে কে কি ভাবতো কে জানে, কিন্তু মুসান রাসেল প্রথম ভাবলেন মানিব্যাগের মালিকের কথা। রাসেল ভেবেছিলেন, যে মানুষটা এই মানিব্যাগ হারিয়েছে সে নিশ্চয়ই খুব কষ্টে আছে এখন। হয়ত তার বড় কোনো সমস্যাও চলছে জীবনে। আপদ বিপদের কথা কি আর বলা যায়..

মুসান রাসেল, ইতালি প্রবাসী

মুসান রাসেল মানিব্যাগটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে তার কাছে ফিরিয়ে দেবেন ঠিক করলেন। তাই সাহায্য নিলেন নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে গিয়ে। পুলিশ মানিব্যাগটি দেখে অবাক। তারা গুণে দেখে এর ভেতর দুই হাজার ইউরো। এই ছেলে কিনা এসেছে এই মানিব্যাগ ফেরত দিতে! পুলিশ ঘন্টাকয়েক বাদেই মালিককে হাজির করায়।

মালিক ভদ্রলোক বেশ অভিভূত হলেন। সত্যি বলতে উন্নত দেশগুলোর নাগরিকরা উন্নয়নশীল দেশ কিংবা বাংলাদেশের মতো দেশের নাগরিকদের প্রতি কতটা স্বচ্ছ এবং সুধারণা রাখেন তা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ আছে।

কিন্তু, যখন মানিব্যাগটির মালিক এভাবে তার হারিয়ে যাওয়া দুই হাজার ইউরো সহ মানিব্যাগ ফিরে পেলেন, তিনি স্বভাবতই মুগ্ধ হয়েছন বাংলাদেশি তরুণ প্রবাসী রাসেলের প্রতি। তাই খুশিতে মানিব্যাগটি ফিরে পেয়ে মালিক খুশি হয়ে রাসেলকে পুরষ্কৃত করতে চান। কিন্তু প্রবাসী মহৎপ্রাণ এই বাংলাদেশি তরুণ সবিনয়ে পুরষ্কার প্রত্যাখ্যান করেন।

এই ঘটনা রোম শহরে বেশ সাড়া ফেলে। মুসান রাসেলকে নিয়ে ইতালির ‘লা রিপাবলিকা’ পত্রিকা বিশেষ সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করে। রাসেল প্রথমে চাননি, তাকে নিয়ে কেউ কথা বলুক। কিন্তু ব্যাপারটা চাপা থাকেনি। যদিও রাসেলের কাছে ব্যাপারটা স্রেফ দায়িত্ব পালনের। তিনি এটাকে কর্তব্য বলেই মনে করেন। এমনকি এটাকে ব্যতিক্রম কিছু মনে করেন না। কিন্তু এই যুগে এসে যখন অসততার গল্পে সয়লাব সর্বত্র, তখন সততার গল্প বিরল হয়ে উঠছে বলেই ব্যতিক্রম ঠেকছে সবার কাছে।

রাসেল পুরষ্কার প্রত্যাখান করে বলেন, “এটি কোনো সন্মানের ব্যাপার হতো না। আমি বরং তাকে আমার স্টলে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমি খুশি হব যদি উনি আমার দোকানের কাস্টমার হন। আর আমি যে ওয়ালেটটি খুঁজে পেয়েছিলাম, সেটি ঘটনাচক্রে। এটির জন্য পুরস্কার নেয়া ঠিক নয়।”

প্রবাসী এই মানুষটির কথাবার্তা থেকেই বোঝা যায়, চিন্তাভাবনায় তিনি বেশ স্বচ্ছ। খুব সরল এবং সহজ ও সৎ ভাবে ভাবতে পারেন। এরকম মানুষদের গল্প এই সময়ে ছড়িয়ে পড়া উচিত। অস্থির সময়ে স্বস্তির সামান্য বাতাস হয়ে যেন আসেন মুসান রাসেলের মতো স্বচ্ছ চিন্তার মানুষেরা…

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button