সিনেমা হলের গলি

শিশু কিশোরদের জন্যে ভিনদেশী সেরা ৫ সিনেমা

শিশু কিশোরদের টিভি কিংবা কম্পিউটারে আসক্তি খুবই চিন্তার বিষয়। প্রায় প্রত্যেক বাবা মা তার শিশুর এই আসক্তি নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু বর্তমান যুগে আপনি চাইলেও এই ধরনের প্রযুক্তি থেকে সন্তান কে দূরে রাখতে পারবেন না। তাই টিভি কিংবা কম্পিউটারকে কিভাবে শিশুর জন্য কার্যকরী করা যায় সেটা নিয়ে ভাবা যেতে পারে। যেমন হতে পারে ভালো কোন শিশুতোষ সিনেমা যেটা দেখে শিশু ভাবতে শিখে এবং নষ্ট সময়কে কাজে লাগাতে পারে। তাই আজকে আমরা আন্তর্জাতিক ৫ টি বিখ্যাত শিশুদের জনপ্রিয় সিনেমা নিয়ে আলোচনা করব। এই ধরনের সিনেমা শুধু আপনার শিশুর জন্যই না, চাইলে আপনিও দেখতে পারেন এবং নষ্ট সময় কাজে লাগাতে পারেন।

১। ই.টি: ই.টি দি এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল একটি আমেরিকান সায়েন্স ফিকশন ফ্যান্টাসি ছবি। ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি নির্মাণ করেন জনপ্রিয় পরিচালক স্টিভেন স্পিলবাগ। গল্পটি এলিয়ট নামের এক ছেলেকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায়। একদিন এলিয়টের সাথে দেখা হয় ভিনগ্রহের এক এলিয়নের। এলিয়ট ও এলিয়নের মধ্যে একটা বন্ধুত্তপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। এদিকে সরকার এলিয়ন কে খুঁজতে থাকে কিন্তু এলিয়ট তাকে খুব গোপনে লুকিয়ে রাখে। এলিয়ন তার গ্রহে ফিরে যেতে চায় তাই এলিয়ট তাকে তার গ্রহে পৌঁছে দিতে সর্বোত্তম চেষ্টা করতে থাকে। এরি মধ্যে এলিয়ট ও এলিয়ন কে পড়তে হয় নানা রকম ঝামেলায়। এলিয়নকে কি শেষ পর্যন্ত তার গ্রহে পৌঁছে দিতে পারে এলিয়ট? ছবিটি সম্পূর্ণ দেখলেই বুঝা যাবে। 

২। হোম এলোন: হোম এলোন ১৯৯০ সালের আমেরিকান কমেডি ছবি, যেটি লিখেছেন জন হিউজেস ও পরিচালনা করেছেন ক্রিস কলম্বাস। ছবির গল্প কেভিন নামের এক বালক কে ঘিরে এগিয়ে যায়। গল্পে কেভিনের পরিবার খ্রিস্টমাসের ছুটিতে প্যারিস যায় কিন্তু ঘটনাচক্রে কেভিন বাড়িতে একা থেকে যায়। একপর্যায় বাড়িতে ঢুকে পরে দুই সিঁধেল চোর। কেভিন চোরের প্রবেশ টের পেয়ে মাথায় বুদ্ধি আটে কিভাবে এদের শায়েস্তা করা যায়। কেভিন ও সিঁধেল চোর মুখোমুখি। ঘটতে থাকে মজার মজার সব ঘটনা। চোর হয়ে উঠে প্রতিশোধ প্রবণ। যেভাবেই হোক কেভিন কে ধরতে চায় তারা। তারপর কি হয়..? দেখতে হবে পুরো ছবিটা।

৩। ওয়াল-ই: ওয়াল-ই ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া আমেরিকান সায়েন্স ফিকশন এনিমেশন চলচ্চিত্র যেটি পরিচালনা করেছেন এন্ড্রু স্টানটন। মূলত চলচ্চিত্রটি ওয়াল-ই নামক এক রোবটকে নিয়ে যার কাজ ময়লা পরিষ্কার করা। একসময় ওয়াল-ই প্রেমে পরে যায় ইভ নামের আরেক রোবটের। ইভ মহাকাশ থেকে এসেছে পৃথিবীতে প্রানের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে। এই কার্যক্রম চলার মধ্যেই ওয়াল-ই ও ইভ্‌ রোমাঞ্চকর অভিযানে জড়িয়ে পরে। অভিযানে কি তারা ব্যর্থ হয় নাকি সফল? জানতে হলে দেখতে হবে মজার ও অদ্ভুত এই ছবিটি।

৪। হুগো: বিখ্যাত আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক মারটিন স্করসিস ২০১১ সালে ঐতিহাসিক এডভেঞ্চার ড্রামা নির্ভর চলচ্চিত্র হুগো নির্মাণ করেন। গল্পটি ১২ বছরের এক বালক হুগো কে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায়। হুগো ও তার বাবা প্যারিসে এক রেলস্টেশনে থাকে। একদিন হুগোর বাবা একটা ভাঙা মেশিন খুঁজে পায়। হুগো ও তার বাবা মেশিনটি মেরামত করতে চেষ্টা করে। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত হুগোর বাবা মারা যায়। একপর্যায়ে হুগো বাবাকে ছাড়া নানা রকম বিপদের সম্মুখীন হয়। কিন্তু শত বাধা থাকলেও হুগো লোকচক্ষুর আড়ালে গিয়ে ঠিকই ভাঙা মেশিনটি ঠিক করতে চেষ্টা করে। হুগো কি পারে শত বাধা সত্তেও মেশিনটা ঠিক করতে? জানতে হলে শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রটি দেখতে হবে।

৫। দি জঙ্গল বুক: জন ফেভ্রু পরিচালিত ফ্যান্টাসি এডভেঞ্চার ধরনের চলচ্চিত্র দি জঙ্গল বুক ২০১৬ সালে মুক্তি পায়। ছবির গল্প এক এতিম মানব শিশু মোগলি কে নিয়ে এগিয়ে যায় যার বেড়ে উঠা জঙ্গলে।    বলতে গেলে জঙ্গলে নেকড়ে সমাজ মোগলিকে তাদের নিজের শিশুর মত কোলে পিঠে মানুষ করে। মোগলি নিজেকে জঙ্গলের সাথে দারুনভাবে মানিয়ে নেয়। কিন্তু এর মাঝেই বাধা হয়ে দাঁড়ালো দুষ্ট বাঘ। দুষ্ট বাঘের নজরে পরে মোগলি। দুষ্ট বাঘ নেকড়েদের জানিয়ে দেয় মোগলিকে তার কাছে খেতে না দিলে সে কাওকে শান্তিতে থাকতে দিবে না। তাই নেকড়ে সমাজ সিদ্ধান্ত নিলো যেভাবেই হোক মোগলিকে মানুষের সমাজে ফিরিয়ে দিতে হবে। মোগলি ও নেকড়ে মিলে নেমে পরে মানুষের সমাজে ফিরে যাবার অভিযানে। কিন্তু দুষ্ট বাঘ পিছু ছাড়ে না কোন ভাবে। মোগলিকে পড়তে হয় নানা রকম বিপদের মুখে। শেষ পর্যন্ত কি মোগলি ফিরে যেতে পারে মানুষের কাছে? জানতে হলে দেখতে হবে জঙ্গল বুক ছবিটি।

_

আপনার শিশুর সুন্দর শৈশব নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র সায়েন্স কিট অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স। বিস্তারিত জানতে কল করুন 01847103102 নাম্বারে, অথবা ভিজিট করুন এই লিংকে। 

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button