সিনেমা হলের গলি

যে কারণে নির্বাচন কমিশন আটকে দিলো মোদীর বায়োপিক রিলিজ…

ভারতে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ক্ষমতাসীন বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে বেশ কিছু কৌশল হাতে নিয়েছে৷ তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছিল নরেন্দ্র মোদীর বায়োপিক রিলিজের ব্যাপারটি। এইবছরের শুরুতে ‘পিএম নরেন্দ্র মোদী’ নামক মোদীর আত্মজীবনীর পোস্টার রিলিজ হয়। সম্ভাব্য মুক্তির তারিখও নির্ধারিত হয়েছিলো। সব কিছু ঠিক থাকলে হয়ত আজকেই ভারতে সিনেমাটি মুক্তি পেত। তবে সব কিছু যে ঠিকঠাক নেই। নির্বাচন কমিশন আটকে দিয়েছে এই সিনেমার মুক্তি।

পরিচালক উমঙ্গ কুমার এই সিনেমাটি নির্মাণ করছেন যেখানে মোদীর ভুমিকায় অভিনয় করেছেন বলিউডের অভিনেতা বিবেক ওয়েরয়। ছবিটায় মোদীর স্ট্রাগল করে এই পর্যায়ে আসার ঘটনা দেখানোর কথা। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করে, একজন চা বিক্রেতা থেকে মোদী কীভাবে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হলেন এবং ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে জয়লাভ করলেন, তা নিয়েই নির্মিত হয়েছে ওই ছবি। তবে, কংগ্রেস এই ছবির ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে অবজেকশন জানিয়েছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের সময় পরিকল্পিতভাবে এই ছবি মুক্তি দিয়ে বিজেপি ভোটারদের প্রভাবিত করতে চাইছে৷

কংগ্রেস অবশ্য সিনেমা নিয়ে এমনিতেও বিব্রত। গতবছর একটি সিনেমা রিলিজ হয়, “এক্সিডেন্টাল প্রাইমমিনিস্টার” নামে। ভারতর সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে সেই সিনেমা, যা নিয়ে বেশ বিব্রত ছিল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ এই সিনেমায় মনমোহন সিংকে সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর পুতুল হিসেবে দেখানো হয়েছে, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফলে এবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর বায়োপিক রিলিজ হলে ভোটের বাজারে এই সিনেমা বড় প্রভাব রাখতে পারে, এই চিন্তা থেকেই সিনেমা আটকাতে বেশ সরব ছিল কংগ্রেস।

তারা দিল্লীতে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে এসেছিল প্রতিনিধি দল নিয়ে। নেতৃত্বে ছিলেন কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল। তাদের বক্তব্য ছিল, “সিনেমার উদ্দেশ্য পুরোপুরি রাজনৈতিক। তিন প্রযোজক এবং অভিনেতা ভারতীয় জনতা পার্টির। আর ছবির পরিচালক ভাইব্র্যান্ট গুজরাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এই ফিল্ম রিলিজ করলে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হবে।” কংগ্রেস দাবি জানিয়েছিল, লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফা ভোট গ্রহণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত এই ছবির মুক্তি যেন পিছিয়ে দেয়া হয়। উল্লেখ্য, ভারতে লোকসভা নির্বাচন একটা বিশাল জজ্ঞ।

আজই ভারতে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট গ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। এই ভোট গ্রহণ বিভিন্ন দফায় গ্রহণের পর শেষ হবে মে মাসের ১৯ তারিখ। এত বিশাল সময়ের ব্যপ্তি নিয়ে নির্বাচন বলেই ভোটারদের প্রভাবিত হবার সুযোগ বেশি থাকে। তাই কেউ কাউকে বাড়তি সুবিধা নিতে দেবে না নির্বাচনকে ঘিরে, এটাই স্বাভাবিক। কংগ্রেসের মতে, এমনকি বিজেপি শিবিরও বিশ্বাস করেছিল, মোদীর বায়োপিক ইমোশনালি টাচ করতে পারে ভোটারদের, যা বড় প্রভাবক হলেও হতে পারে। একারণে এই সিনেমাটি এত আলোচনায় ছিল।

নির্বাচন কমিশন শুধু নয়, এই ছবির মুক্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা গড়ায় আদালতেও। আদালত থেকে অবশ্য শেষমেষ বলা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিবে এই সিনেমা মুক্তি পাবে কিনা। অবশেষে, নির্বাচন কমিশন মোদীর বায়োপিক তো বটেই সকল ধরণের রাজনৈতিক বায়োপিক ভোটের সময় মুক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য অনেকটা এরকম যে, কারও জীবনী অবলম্বনে ছবি দেখানো হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক সংগঠন লাভবান হতে পারে। ভোটে কোনও এক পক্ষ বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী ওই ধরনের ছবি এখন দেখানো ঠিক নয়।

ভারতে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করার চেষ্টা করে বলেই সুনাম প্রচলিত রয়েছে। তবে, ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং মোদীর জন্য কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই বিব্রতকর। ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত দেখে মনে পড়ে যায় আমাদের দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার মুখ। মোদী যদি তার মতো কাউকে পেতেন নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকায়, তাহলে হয়ত ঘটনাপ্রবাহ অন্যরকম হলেও হতে পারত..

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button