ইনসাইড বাংলাদেশরাজনীতি নাকি জননীতি

একজন এমপির মানসিকতা এমন হলে বদলে যাবে দেশ!

জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর-কালাই-ক্ষেতলাল) আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন তার আসনে ভীষণ জনপ্রিয়। এই আসনে টানা দ্বিতীয়বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদেও রয়েছেন তিনি। গুঞ্জন রয়েছে এবার মন্ত্রী হিসেবেও দেখা যেতে পারে তাকে। তিনি আজ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেটি নিমিষেই ভাইরাল হয়ে যায়। এই স্ট্যাটাসে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা জানিয়েছে সবাই। এগিয়ে চলোর পাঠকদের জন্য লেখাটি সরাসরি তুলে ধরা হলো।  

প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমার নির্বাচনী এলাকায় আমাকে ক্রেস্ট, বাঁধাই করা মানপত্র, যেকোনো ধরণের উপঢৌকন প্রদান করা বন্ধ করেছি। আমার জন্য রাস্তায় শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা বন্ধ করেছি। কিন্তু এরপরও কতিপয় অতি চামচা প্রকৃতির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও স্থানীয় নেতা বাচ্চাদের রোদে দাঁড় করিয়ে কষ্ট দেন। শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘স্যার এই মাত্র দাঁড়িয়েছে, ওরা আপনাকে খুব ভালবাসে এই জন্য আমাদের নিষেধ সত্বেও দাঁড়িয়েছে।’

সমাজের শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকদের মুখে এই জাতীয় ঢাহা মিথ্যা কথা শুনতে ভাল লাগে না। অনেক সময় চামচামির মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে মেজাজ সংযত করা সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক বা স্থানীয় নেতাকে বকাঝকা করাও দুস্কর। সবার মাঝে আমার ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

সার্বিক বিবেচনায় এবং প্রতিষ্ঠান, সমিতি বা জনগণের টাকার অপচয় রোধকল্পে আমি নিম্নোক্ত অনুরোধ করছি :

এক.

অনূগ্রহপূর্বক আমাকে কোন ক্রেস্ট, ক্রয়কৃত ফুলের তোড়া, কোন মানপত্র বা উপঢৌকন প্রদান করবেন না। মানপত্রে অতিথিকে উদ্দেশ্য করে যে সব তোষামোদ বাক্য লিখা থাকে তার ৯৫ ভাগ মিথ্যা। কোন প্রতিষ্ঠানের দাবী থাকলে কেবলমাত্র দাবীসমূহ হাতে লেখা কাগজে আমাকে হস্তান্তর করবেন। সেখানে হে মহান অতিথি, তোমার আগমনে ফুল, লতাপাতা, গুল্ম আজ আনন্দে আত্মহারা টাইপের মিথ্যা শব্দ চয়ন থাকলে আমি তা গ্রহণ করব না।

দুই.

অনূগ্রহপূর্বক কোন প্রতিষ্ঠান, সমিতি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পাবলিক মানি ব্যয় করে আমাকে স্বাগত জানিয়ে কোন গেট নির্মাণ করবেন না। কেবলমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন নিজেদের মধ্যে অর্থ ব্যবস্থা করে বা কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিজের পকেটের টাকা দিয়ে গেট করতে পারেন। তাও সীমিত আকারে। এই জন্য জনগণের নিকট কোন টাকা নেওয়া যাবে না।

তিন.

কোথাও কোন শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখলে আমি সেই অনুষ্ঠান বয়কট করব এবং সেই প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

চার.

অনূগ্রহপূর্বক কোন অনুষ্ঠানে আমার জন্য কোন বোতলজাত পানি, চা আপ্যায়নের নামে বাচ্চাদের বা জনগণের টাকায় রকমারি খাবারের আয়োজন করবেন না।

পাঁচ.

কোন প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে অযথা বিপুল অর্থ ব্যয় করে স্টেজ বানাবেন না। অনূগ্রহপূর্বক কৃচ্ছতা সাধন করবেন।

ছয়.

অনূগ্রহপূর্বক কোন শিক্ষার্থীদের দিয়ে দাবী উপস্থাপনের নামে তাকে ভিক্ষাবৃত্তি শেখাবেন না। কোন সমস্যা থাকলে বয়স্কগণ দয়া করে বলবেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভিক্ষাবৃত্তি শেখানো একটি সামাজিক অপরাধ।

সাত.

অনূগ্রহপূর্বক আমার কোন অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক কাউকে উপস্থিত থাকতে বলবেন না।

আট.

অনূগ্রহপূর্বক সরকারী কর্মচারী ব্যতীত কেউ আমাকে স্যার সম্বোধন করবেন না। সরকারী কর্মচারীগণ তাদের নিজস্ব রীতি মেনে চলেন বিধায় তারা কি বলে সম্বোধন করবেন সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়।

উপরোক্ত বিষয়গুলি আমার নির্বাচনী এলাকার জন্য প্রযোজ্য, আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজনৈতিক বিভাগের জন্যও প্রযোজ্য। আমাকে কোথাও আমন্ত্রণ জানালে আমি উপস্থিত থাকতে সম্মত হলে সেই আয়োজকগণের জন্যও প্রযোজ্য।

আমি, প্রজাতন্ত্রের জনপ্রতিনিধি, জনগণের দয়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধি। দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে শপথ গ্রহণ করেছি। রাষ্ট্র আমাকে আইনানুগভাবে বেতন, ভাতা, সম্মানী ও সুবিধাদি প্রদান করে। আমি প্রভু বা জমিদার নই। 

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button