খেলা ও ধুলা

‘হি ডাজ ইট এগেইন, লিও মেসি ইজ এ সুপার হিউম্যান’

“Messi is onside, and it’s an identical cheap from the young substitute’’.

“He does it again, Leo Messi is a super human’’.

দুটো লাইন,একটির সাথে আরেকটি গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই দুটো লাইন সাধারণ কোনো লাইন নয়। এই দুটো লাইনের মাঝে পেরিয়ে গেছে প্রায় ১২ বছর। রচিত হয়েছে ইতিহাসের পর ইতিহাস, তৈরি হয়েছে রেকর্ডের পর রেকর্ড। প্রথমটির প্রেক্ষাপট ১ মে ২০০৫ সাল, দ্বিতীয়টি ২৩ এপ্রিল ২০১৭ সালে।

Here he is again, here he is again, That’s astonishing, absolutely world class.

He is a miracle from god.

He is always going forwards. He never passes the ball backwards or sideways. He has only one idea, to run towards the goal. So as a football fan, just enjoy the show.

For the world of football, He is a treasure because he is a role model for children around the world… He will be the player to win the most Ballon d’Or in history. He will win five, six, seven. He is incomparable. He’s in a different league.

He does not need his right foot. He only uses the left and he’s still the best in the world. Imagine if he also used his right foot, Then we would have serious problems.

Don’t write about him, don’t try to describe him. Just watch him.

উপরের সবগুলো কথাই একটি মানুষকে নিয়ে, তাঁর অবিশ্বাস্য আর চোখ কপালে তুলে দেয়া সব কাণ্ড দেখে এভাবেই বলতে বাধ্য হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁর বাঁ পা টা যেন পিকাসোর তুলি কিংবা ডেভিড কপারফিল্ডের জাদুর কাঠি, যা দিয়ে তিনি পুরো পৃথিবীকে বুঁদ করে রেখেছেন কোনো এক আদিম নেশায়। তাঁর প্রতিটা পাসেই যেন ভিঞ্চির শৈল্পিক ছোঁয়া। তাঁর প্রতিটা গোলই যেন পাবলো পিকাসোর তুলির নিখুঁত আঁচড়। তাঁর পায়ে বল গেলেই মাঠে থাকা প্রতিটা দর্শক আর টিভি পর্দায় সেটে থাকা কোটি দর্শকের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় দারুন কিছু দেখার আশায়, আর প্রতিপক্ষ কাঁপতে থাকে এই বুঝি জাদুকর তাঁর জাদু শুরু করে দেবেন।

২০০৫ সালের ১ মে, বার্সেলোনার হয়ে আলবাকেতের বিপক্ষে সাবস্টিটিউট হিসেবে মাঠে নামলেন ১৭ বছর বয়সী লম্বা চুলের এক কিশোর। দলের সেরা খেলোয়াড় রোনালদিনহোর পাস থেকে গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে চকিতের সাথে বল ঠেলে দিলেন জালে। সেই থেকে শুরু এক পথচলার, যা থামার লক্ষণ নেই এখন পর্যন্ত। এই পথের বাহন একটাই, সেটি হল লিওনেল মেসির গোল রকেট। সেদিনের সেই কিশোরটিই ১২ বছর পর ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে তাঁদেরই মাঠ সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে করলেন ৫০০তম গোল!

হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন। এক যুগে সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার হয়ে ৫৭৭ ম্যাচ খেলে কাঁটায় কাঁটায় ৫০০ বার ডিফেন্ডার, গোলকিপার, প্রতিপক্ষ দলের কোচদের বিভীষিকা হয়ে দেখা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি। তাঁকে আটকাতে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বাঘা বাঘা সব কোচদের। স্যার এলেক্স ফার্গুসন, হোসে মরিনহো, আর্সেন ওয়েঙ্গার, কার্লো আনচেলোত্তি, রাফায়েল বেনিতেজ, রবার্তো মানচিনিদের মতো মাস্টারমাইন্ড ট্যাকটিশিয়ানরা চেষ্টা করে গেছেন প্রাণান্তর। বারবার দুঃস্বপ্নে হানা দিয়েছেন সার্জিও রামোস, পেপে, জেরোম বোয়েটাং, থিয়াগো সিলভা, ডেভিড লুইজ, ভিনসেন্ট কোম্পানি, আলেসান্দ্রো নেস্তা, পাওলো ক্যানাভারো, রবার্তো কার্লোসদের কোয়ালিটির ডিফেন্ডারদের। তাঁর উদ্ধত দেহের সামনে বারবার মাথা নত করেছেন ইকার ক্যাসিয়াস, ম্যানুয়েলনয়্যার, এডুইন ফন ডার স্যার, পিটার চেক, থিবোকর্তোয়া’র মানের বিশ্বসেরাগোলকিপাররা। তাঁদের কেউ পারেননি লিওনেল মেসি নামক সমস্যার সমাধান বের করতে। কারণ লিওনেল মেসি যেকোনো বাঁধাতেই আটকানোর নন!

একেকটা মৌসুম গেছে আর লিওনেল মেসি নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য এক ক্লাসে, যে ক্লাসের নামই দেয়া হয়েছে লিওনেল মেসি ক্লাস। বার্সেলোনার হয়ে তাঁর সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু ২০০৪-২০০৫ মৌসুমে। সেবার ৯ ম্যাচে করেন ১ গোল, ২০০৫-২০০৬ মৌসুমে ২৫ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে করেন ৮ গোল, ২০০৬-২০০৭ মৌসুমে ৩৬ ম্যাচে ১৭ গোল, ২০০৭-২০০৮ মৌসুমে ৪০ ম্যাচে ১৬ গোল, ২০০৮-২০০৯ মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৩৮ গোল, ২০০৯-২০১০ মৌসুমে ৫৩ ম্যাচে ৪৭ গোল, ২০১০-২০১১ মৌসুমে ৫৫ ম্যাচে ৫৩ গোল, ২০১১-২০১২ মৌসুমে নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেখিয়েছেন ফুটবলের এই গ্রেট, সব রেকর্ড তছনছ করে ৬০ ম্যাচে ৭৩ গোল করেন মেসি, যা যেকোনো পর্যায়ের যেকোনো দেশের ক্ষেত্রেই এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ২০১২ সালে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে করেন ৯১ গোল। বলার অপেক্ষা রাখেনা এটিও বিশ্বরেকর্ড। ২০১২-২০১৩ মৌসুমে মেসির পা থেকে আসে ৫৫  ম্যাচে ৬০ গোল। ২০১৩-২০১৪ মৌসুমে ইঞ্জুরিতে পড়ে ম্যাচ খেলার সুযোগ পান ৪৬টি, আর তাতেই ৪১ গোল। ২০১৪-২০১৫ মৌসুমে আবারও পুরোনোমেসি, ৫৭ ম্যাচে গোল ৫৮টি। ২০১৫-২০১৬ মৌসুমটাও ইঞ্জুরির কবলে পড়ে মেসিসুলভ হয়নি। ৪৯ ম্যাচে এবার মেসির গোল ৪১টি। এই মৌসুমে মেসি আবারও মেসি। ৪৬ ম্যাচ খেলে করে ফেলেছেন ৪৭ গোল। মৌসুমে ম্যাচ বাকি আরো ৬টি। গোল যে বেশ কয়েকটি আসবে তা নিয়ে সবাই নিঃসন্দেহ।             

  

তাঁর জাদুকরি বাঁ পা, তুলনামূলক দুর্বল ডান পা, মাথা, বুক এমনকি হাতও ব্যবহার করেছেন প্রতিপক্ষের উপর স্টিম রোলার চালাতে। মেসির ৫০০ গোলের সবচেয়ে বেশি এসেছে লা লিগায়। ৩৭৭ ম্যাচ খেলে ৩৪৩ গোল করেছেন এখানে, যা অনেক আগেই তাঁকে করেছে লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও স্বমহিমায় উজ্জ্বল মেসি, ১১৫ ম্যাচে করেছেন ৯৪ গোল। স্প্যানিশ কোপা দেল রেতে ৬১ ম্যাচে ৪৩ গোল মেসির। এছাড়া ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, উয়েফা সুপার কাপ, স্প্যানিশ সুপার কাপ মিলিয়ে ২৪ ম্যাচে মেসির গোল ২০টি।

তাঁর ফুটবল প্রতিভার নিগ্রহের স্বীকার সবচেয়ে বেশিবার হতে হয়েছে সেভিয়াকে। তাঁদের বিপক্ষে ৩০ ম্যাচে ২৯ গোল করেছেন মেসি, তালিকায় এরপরের জায়গাগুলোতে রয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ- (৩৪ ম্যাচে ২৭ গোল), ভ্যালেন্সিয়া- (২৬ ম্যাচে ২৪ গোল), রিয়াল মাদ্রিদ- (৩৪ ম্যাচে ২৩ গোল)।

মেসির ৫০০ গোলের মাহাত্ম্য বোঝানোর জন্য কোনো শব্দই যথেষ্ট নয়, কিন্তু চেষ্টা করতে দোষ কি! ফুটবল মাঠে গোল করার সময়ের ক্ষেত্রেও রাজা মেসি। ম্যাচের কোন মূহুর্তে গোল করেননি তিনি! ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যে যখন গোল পেলে দলের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় ঠিক তখন মেসির গোল ৫২টি, ১৬ থেকে ৩০ মিনিট পেরোতে পেরোতে যখন ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ হবার গুরুত্বপূর্ণ সময়, তখন তাঁর কাছ থেকে এসেছে ৮০টি গোল। ৩১ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে যখন দুটো দল ব্যস্ত থাকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার, তখন মেসি করেছেন ৯০টি গোল। ৪৬ থেকে ৬০ মিনিটের সময় যেখানে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণের মূল সময় তখন মেসি করেছেন ৮১টি গোল, ৬১ থেকে ৭৫ মিনিটের মাথায় যখন দলগুলো জয় নিশ্চিত করার চেষ্টায় থাকে তখন মেসি গোল পেয়েছেন ৭৬টি, ৭৬ থেকে ৯০ মিনিটের মাঝে যে সময়টাতে ম্যাচের ফলাফল পুরোপুরি নির্ধারণ করার সময় সেখানেই মেসি করেছেন সবচেয়ে বেশি ১২০টি গোল! দলে একজন মেসি থাকলে কোনো দলকে গোল পেতে অতিরিক্ত সময়ে যেতে হয় না, যাও দুয়েকবার গেছে সেখানেও মেসির গোল আছে ১টি।

মেসির শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর করা গোলের সংখ্যায় নয়, বরং তাঁর গোলগুলো করার ধরণে। মেসির একেকটা ড্রিবলিংয়ে ৫-৬ জন ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে গোলকিপারকে নাস্তানাবুদ করে বল জালে জড়ানোর দৃশ্য দেখে মোহিত হননি এমন ফুটবল ফ্যান যে নেই তা গ্যারান্টি দিয়েই বলা যায়। তাঁর অজস্র ফ্রি-কিকই ধূম্রজালের মতো স্তব্ধ করে দিয়েছে সবাইকে, লিওর একেকটা চিপ গোলেই লেখা আছে ‘আমিই সেরা’, ডি-বক্সের বাইরে থেকে মিসাইলের গতিতে করা মেসির গোলগুলো নীরবে হুংকার জানায় ‘ফুটবল গোলের খেলা আর গোল দেয়ার চেয়ে সহজ আর কিছু নেই’।

তাঁর গোলগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে ধারাভাষ্যকাররাও বিপদে পড়ে গেছেন যে কি বলবেন।

১২ বছরেই ক্লাবের হয়ে ৫০০ গোল হয়ে গেছে, বয়স মাত্রই ২৯, সামনে আরও ৫ বছর নিজের সেরাটা দিতে পারলে কোথায় গিয়ে থামবেন ফুটবলের রাজা সেটা একমাত্র সময়ই জানে। তবে ভবিষ্যতের দিনগুলোতে মেসির কল্যাণে আরো অসংখ্যবার এই কথাগুলো নিশ্চিতভাবেই শুনতে পাবে বিশ্ব- ‘Here is Lionel Messi, he past 1,2,3,4,5… he is on the danger area, he past the goalkeeper and my word! What a goal! Lionel Messi added one more beauty on his collection. It’s just Messi things’’.

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button