ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

স্কুলের শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা কোন প্ল্যানের মধ্যে পড়ে, মাহী বি চৌধুরী?

গত নির্বাচনের আগে প্ল্যান বি নিয়ে কিছুদিন আলোচিত ছিলেন মাহী বি চৌধুরী। বিকল্পধারার এই নেতার একটি ভিডিও বেশ ভাল ভাইরাল হয়েছিল। প্রশংসিত হওয়ার মতো বেশ কিছু পিকআপ লাইন তিনি বলেছিলেন সেই ভিডিওতে। বলেছিলেন, লড়াইয়ের দিন শেষ, শান্তি সুখের বাংলাদেশ- এটার নামই প্ল্যান বি। তিনি হাইপোথিসিস দিয়েছিলেন, কেন বড় দুই দলের হয়ে ২৫ লক্ষ লোক ফুল টাইম রাজনীতি করে। কিভাবে তারা পারে এসব বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, বড় দুই দলের চাইল্ড সংগঠনগুলোই বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড লঞ্চঘাট থেকে শুরু করে বাজার ঘাট সব কিছু ইজারা নিয়ে নেয়। ব্রিজ, রাস্তাঘাট থেকে টোলও উঠায় তারা। এই কারণে বড় দলগুলো এত কর্মী পায়, এত লোক রাজনৈতিক সুবিধা নেয় এমনটাই তার সেই বক্তব্যের সারমর্ম।

এত নীতিবাক্য শুনানো মাহী বি চৌধুরীকে প্রশ্ন করতে হয়, তিনি কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইজারা নিয়েছেন কিনা? কেন তিনি আসবেন বলে একটা স্কুলের শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখা হবে? তার দল বিকল্পধারার তেমন কর্মী সমর্থক নেই। তাই তিনি কোথাও গেলে জমায়েত দেখানোর মতো যথেষ্ট লোক হয়ত জোগাড় করা কিছুটা কঠিন। তাই বলে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের জমায়েত করে রাখা হবে? এটা কোন প্ল্যানের আন্ডারে পড়ে?

গতকাল ৪টায় উপজেলার সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিতব্য চার তলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা ছিল নৌকায় চড়ে এমপি হওয়া প্ল্যান বির জনক মাহী বি চৌধুরীর। এমপি সাব আসবেন বলে এই বিদ্যালয়ের মাহী বি চৌধুরী শিক্ষক স্কুলের শিক্ষার্থীদের আটকে রাখেন। বিকেল চারটায় স্কুলের ছুটি হলেও শিক্ষার্থীদের অপেক্ষায় রাখা হয় সন্ধ্যা পর্যন্ত। কারণ, মাহী বি চৌধুরীর আসতে দেরি হচ্ছিলো।

স্কুলের শিক্ষার্থীদের দেরি হওয়ার ঘটনা জানেন না অভিভাবকরাও। তারা স্কুলে পাঠান ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার জন্য, কোনো নেতার প্রটোকল দেয়ার জন্য না। তাদের অনুমতি ছাড়া এভাবে তাদের সন্তানদের গিনিপিগ করা হয়েছে, এই দায় এমপি মাহী এড়াতে পারেন না। স্কুলের শিক্ষার্থীরাও ক্ষুব্ধ। শিক্ষার্থীর বক্তব্য, “সকাল থেকে ক্লাস করেছি। দুপুরে ঠিক ভাবে খেতে পারি নাই। এখন সন্ধ্যা হয়ে আসছে কিন্তু যেতে দিচ্ছে না। এমপি স্যারকে নাকি বরণ করতে হবে। হেড স্যার যেতে দেয় না। রাত হয়ে গেলে আমরা বাড়ি যাব কিভাবে?”

এইসব প্রধান শিক্ষক শিক্ষকতা পেশায় না এসে রাজনীতি করলেই পারেন। এমপিকে খুশি করতে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখার অধিকার তাকে কে দিয়েছে? শিক্ষার্থীরা কি স্কুলে এইজন্য বেতন দেয়? ওইদিকে এমপি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন এই ঘটনা। মাহি বি চৌধুরী বলেন, “এটা আমার পূর্ব ঘোষিত কোনো প্রোগ্রাম ছিল না। আসার পথে উদ্বোধন করে আসলাম। আমি কোনো শিক্ষার্থীকে বসিয়ে রাখতে বলিনি। প্রধান শিক্ষক কৌতূহলবশতঃ বসিয়ে রেখেছে।”

প্রধান শিক্ষকের এত কৌতুহল কেন? মাহীর মতো নীতিবাগীশ লোকও কেন এভাবে দায় এড়িয়ে গেলেন? এটা কি তার প্ল্যান বির বর্ধিত অংশ? বড় দুই দল সব ইজারা নিয়েছে, তিনি স্কুলটাও পার্মানেন্ট ইজারা নিয়ে নেন। তাও অভিভাবকদের অগোচরে এমন কাজ যেন আর না ঘটে…

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button