সিনেমা হলের গলি

মধুবালা- দ্য বিউটি উইথ ট্র্যাজেডি!

তাকে ডাকা হতো বেবি মমতাজ নামে। যদিও ফিল্মি নাম ছিল অন্য আরেকটা, তবে উপাধির অভাব কোনকালেই হয়নি। মধু, দ্য বিউটি উইথ ট্র‍্যাজেডি, আনারকলি অফ হিন্দি সিনেমা, দ্য ভেনাস কুইন অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা- কত যে নামে লোকে তাকে সম্ভোধন করতো! আরেকটা নাম দিয়েছিল অনেকে- ‘মেরিলিন মনেরো অফ বলিউড’, যদিও পাশাপাশি দাঁড়ালে মনেরোকেও বোধহয় ফিকে লাগতো তার সৌন্দর্য্য আর ব্যক্তিত্বের সামনে। বলছি ভারতীয় সিনেমা জগতের সর্বকালের সেরা হার্টথ্রব নায়িকা মধুবালার কথা। যার প্রেমে মাতোয়ারা ছিল আট থেকে আশি বছর বয়সের সবাই! এমনকি এখনও যদি শাহরুখ খানকে প্রশ্ন করা হয়, ভারতবর্ষে আপনার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী নারী কে, তার উত্তর একটাই হবে- মধুবালা, ওরফে মমতাজ!

ভালো নাম ছিল মমতাজ জাহান বেগম দেহলভী। তিনি যখন অভিনয় করেছেন, তখন বলিউডে সমসাময়িকদের মধ্যে ছিলেন মীনা কুমারী, নার্গিস, নূতন, ওয়াহেদা রেহমান, সুরাইয়া, বিজয়ন্তীমালার মতো নায়িকারা। অথচ সৌন্দর্য্য বা ব্যক্তিস্বত্বার দিক থেকে বাকি সবাইকে ছাপিয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন মধুবালা। ক্যারিয়ারে অভিনয়ের জন্যে বড় কোন পুরস্কার পাননি, মুঘল-ই-আজম সিনেমার জন্যে ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন, শেষমেশ সেটাও হাতে ওঠেনি। অথচ লোকে কিন্ত তাকে ভোলেনি!

বলিউডে কতশত নায়িকা এসেছেন, অভিনয় করেছেন, গ্ল্যামার দিয়ে আলো ছড়িয়েছেন, দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে হৃদয় জয় করার ব্যাপারে যদি আলোচনা হয়, সেখানে সবার আগে উচ্চারিত হবে মধুবালার কথা, সবার ওপরে থাকবে তার নামটাই। এই ২০১৯ সালে এসে আমরা হয়তো ক্যাটরিনা-দীপিকাদের ওপর ‘ক্রাশ’ খাই, কিন্ত আজ থেকে সত্তর আগে তোলা মধুবালার ছবির দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতরে যে চিনচিনে অনুভূতিটা হয়, সেটার সঙ্গে ক্রাশের অনুভূতিকে মেলানো যাবে না কোনভাবেই। মধুবালা নামটাই যে আস্ত একটা অনুভূতি!

১৯৫১ সালে লাইফ ম্যাগাজিনের ফটোগ্রাফার জেমস বার্ক মধুবালার বাড়িতে তার বেশকিছু ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবিগুলো লাইফ ম্যাগাজিনে প্রকাশিতও হয়েছিল তখন। প্রায় আটষট্টি বছর পরে এই সময়ে বসে সেই ছবিগুলো দেখতে বসলেও গায়ে কেমন যেন কাঁপুনি আসে। একটা মানুষ কি করে এত সুন্দর হতে পারে? কিভাবে সাদাকালো ছবির মধ্যেই মানুষের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব চুইয়ে পড়তে পারে, সেটা মধুবালাকে না দেখলে বোঝা যেতো না কখনও! এগিয়ে চলো’র পাঠকদের জন্যে সেই ছবিগুলো নিয়েই একটা ফটো অ্যালবাম তৈরি করা হলো আজ। ছবিগুলো নেওয়া হয়েছে www.oldindianphotos.in থেকে।

হাসিতে তার মুক্তো ঝরে!
বোল্ড এন্ড বিউটি!
যদি বউ সাজো গো, আরো সুন্দর লাগবে গো!
যদি বউ সাজো গো, আরো সুন্দর লাগবে গো! (পার্ট-২)
হাজার কবিতা, বেকার সবই তা, তার কথা কেউ বলে না!
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা…
শাড়িতে নাকি বাঙালী নারীকেই সবচেয়ে সুন্দর লাগে। মধুবালাকে দেখে কেউ বিশ্বাস করবে সে কথা?
ভালোবাসা তারপর দিতে পারে গত বর্ষার সুবাস…
তোমার খোলা হাওয়া…
কূলের কাছাকাছি আমি ডুবতে রাজী আছি…
চাউনিতে তার ব্যক্তিত্ব ঝরে পড়ে…
আজ তোমার, মন খারাপ মেয়ে…
তুমি আনমনে, চেয়ে আছো…
এই ছবির কোন ক্যাপশন নেই!
একটা মানুষের হাসি এত সুন্দর কি করে হয়?
দূর দ্বীপবাসিনী…
তুমি সাত সাগরের ওপাড় হতে আমায় ডেকেছো…
আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন!
মায়াবন বিহারিণী হরিণী…
দূর হতে আমি তারে সাধিব…
কেন তারে ধরিবারে করি পন, অকারণ…
সখী, ভাবনা কাহারে বলে?
সখী, ভালোবাসা কারে কয়?
আমার মনের মোহের মাধুরী
মাখিয়া রাখিয়া দিয়ো– তোমার অঙ্গসৌরভে…
যে সৌন্দর্য্য ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য!
আজ বসন্তের এই মাতাল সমীরণে…
যে চাউনিতে খুন হয়েছিল কোটি পুরুষ…
আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে…
ঈষৎ বিরক্তি!
শতবর্ষ পরেও এই হাসি মলিন হবে না!
ঠিকরে পড়া ব্যক্তিত্বের ঔজ্বল্যতা!
Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button