সিনেমা হলের গলি

এলআরবির জন্মদিনেই চমক, ভোকাল হিসেবে যুক্ত হলেন বালাম!

গতবছরের অক্টোবর। সেই মাসের ১৮ তারিখ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু৷ অকাল এই মৃত্যুতে বিশাল এক শুণ্যস্থান তৈরি হয় সঙ্গীতাঙ্গনে। আইয়ুব বাচ্চু শুধু তো একজন শিল্পীই ছিলেন না, তিনি তো ব্যান্ড মিউজিকের এক মহিরুহও বটে। তার একেকটা গান, কৈশোর আলোড়িত করে এখনো প্লেলিস্ট দখল করে আছে। আইয়ুব বাচ্চু আসলে হুট করে চলে যাওয়ার পর মনে হলো, তিনি এখন আরো বেশি করেই আছেন। তার গানগুলো এখন আরো বেশি জীবন্ত হয়ে উঠেছে, একান্ত হয়ে উঠেছে, অথচ তিনি এখন নেই।

আইয়ুব বাচ্চুর মহাপ্রয়াণের পর মনে হয়েছিল, বাংলা ব্যান্ড ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যান্ড এলআরবির পথচলা বুঝি এখানেই শেষ। কারণ, দীর্ঘ দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে চলা যে ব্যান্ডের লিগ্যাসি, আইয়ুব বাচ্চুবিহীন সেই এলআরবি ব্যান্ডকে কল্পনা করাও কঠিন। তবে, ভক্তরা চাইছিলেন এই ব্যান্ড টিকে থাকুক। গানের মধ্যেই টিকে থাকুন শিল্পী বাচ্চু।

এলআরবি ব্যান্ডটিও সেই চেষ্টাই করছে। ১৯৯১ সালের এই দিনে আইয়ুব বাচ্চু, স্বপন, জয় ও এস আই টুটুলকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এলআরবি। আইয়ুব বাচ্চু বিহীন এলআরবি পা দিয়েছে ২৯ বছরে। ২৮ বছরের পূর্ণতায় বাচ্চুহীনতাই সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা, যা আর কখনো পূরণ হবার নয়। তবু, ব্যান্ডটির যাত্রা চলমান রাখতে আজ বড় একটি ঘোষণা এসেছে ব্যান্ডের তরফ থেকে। ঐতিহ্যবাহী এই ব্যান্ডে যোগ দিয়েছেন পরিচিত মুখ, শিল্পী বালাম। এখন থেকে তিনিই সামলাবেন, ব্যান্ডের ভোকালিস্টের দায়িত্ব। সাথে নিজের গিটার স্কিলটাও চর্চা করবেন ভোকাল সামলানোর পাশাপাশি৷

এই খবরে মোটামুটি একটা স্বস্তির বাতাস বইছে এলআরবির ভক্তদের মনে। ব্যান্ডটি আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতিবাহী হয়ে টিকে থাকবে, বাচ্চুও থাকবেন ভক্তদের কাছেই, তার গান হয়ে, গানের কথা হয়ে। শারিরীক মৃত্যু হলেও ব্যান্ডের সোনালী ইতিহাস হয়ে থাকা গানগুলো বাচ্চুকে হয়ত ভক্তদের কাছে আরো নিবিড়ভাবে যুক্ত রাখবে। তবে কেউ কেউ হয়ত বাচ্চুর জায়গায় বালামকে গ্রহণ করতে একটু ইতস্তত করতেও পারেন। তবে, বালাম বাচ্চুর আসন গ্রহণ করতে আসেননি এই কথা তিনি জানিয়ে দিয়েছেন শুরুতেই। তিনি এলআরবিকে ভালবেসে, সহযোগী হতেই এসেছেন।

বেইলি রোডের ক্যাফে থার্টি থ্রিতে এলআরবির জন্মদিনের একটি প্রোগ্রাম হয় আজ। ২৮ বছর পূর্ণ করে ২৯-এ পা দেয়া ব্যান্ড এই প্রথম আইয়ুব বাচ্চুকে ছাড়া কোনো জন্মদিন পালন করলো। বেদনাদায়ক অনুভূতি নিশ্চয়ই হয়েছে ব্যান্ডটির সদস্যদের, তবে দক্ষিণ এশিয়ার বিখ্যাত এই ব্যান্ডটিকে হারিয়ে যেতে দিতেও তারা চাইবেন না। আগলে রাখবেন বলেই এগিয়ে চলার পথে এই প্রয়াস। বালামের অন্তর্ভুক্ত হওয়াটাও একারণেই। বালাম বলেছেন, “এলআরবি একটা বড় নাম। সবাই মনে রাখবে এই ব্যান্ডটিকে। আমাদের লিজেন্ড বাচ্চু ভাই। আপনাদের কাছে অনুরোধ, কেউ আমাকে বাচ্চু ভাইয়ের রিপ্লেসমেন্ট ভাববেন না। বাচ্চু ভাইয়ের রিপ্লেসমেন্ট সম্ভব না। আমি বালাম কোনো দিনও বাচ্চু ভাইয়ের মতো হতে পারব না। আমি চেষ্টা করবো এলআরবিকে সাপোর্ট দিনে। আপনাদের ভালোবাসা চাই।”

উল্লেখ্য, বালাম আরেক বিখ্যাত ব্যান্ড ওয়ারফেজের ভোকাল ছিলেন একসময়। তিনি সলো এলবামগুলো দিয়ে অধিক পরিচিতি পেলেও তার মিউজিক ক্যারিয়ারের শুরুটা ব্যান্ডের হয়েই। ১৯৯৫ সালে তিনি এবং তার বন্ধুরা মিলে শুরু করেছিলেন রেইনিগেডস নামক একটি ব্যান্ড। ১৯৯৮ সালের শেষদিকে তিনি যুক্ত হন ওয়ারফেজের সাথে। শুরুতে অবশ্য তিনি লিড ভোকালিস্ট ছিলেন না। তবে, ২০০২ সালে ওয়ারফেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জয় ও বাবনা ব্যক্তিগত কারণে ওয়ারফেজ ত্যাগ করলে বালাম ওয়ারফেজের লিড ভোকালের দায়িত্ব পান।

তার ভয়েসে ওয়ারফেজের ‘মহারাজ’ এলবামটি মুক্তি পায় ২০০৩ সালে৷ ওয়ারফেজের আলো অ্যালবামেও বালাম উপহার দেন “যতোদূরে”, “নেই তুমি” ও “সময়” – এর মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় গান। অ্যালবাম প্রকাশের পর ওয়ারফেজ ত্যাগ করেন বালাম। এরপর তিনি সলো ক্যারিয়ারে মন দেন। একক এলবামের কাজে পুরোপুরি নিবিষ্ট হয়ে পড়েন। একটা সময় সিডি দোকান থেকে শুরু করে, বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে সারাক্ষণ বাজত বালামের একক এলবামের গানগুলো।

বালাম

এই বালামই, যার পুরো নাম কাজী মোহাম্মদ আলী জাহাঙ্গীর বালাম, তিনি এখন যোগ দিলেন এলআরবিতে। ব্যান্ড যার আশৈশব ভালবাসা, সেই ব্যান্ড জগত ছেড়ে দেয়ার পর আবার প্রত্যাবর্তন হলো এমন এক ব্যান্ডের সাথে, যেখানে প্রতিনিয়ত ভক্তদের প্রত্যাশার চাপ সামলাতে হবে তাকে। সেই চাপ সামলে ব্যান্ডটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও গুরুতর ভার তার কাঁধে। কাজটা তার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে নিঃসন্দেহে, তবে বালাম চ্যালেঞ্জ ভালবাসেন বলেই মনে হয়!

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button