তারুণ্যপিংক এন্ড ব্লু

একটু বলেই দেখুন না!

প্রশংসা শুনতে কে না চায় বলুন? আপনি আমি সবাই প্রশংসা শুনতে চাই৷ আমরা সরাসরি না চাইলেও আমাদের অবচেতন মন ঠিকই চায়। কারণ, একদম আনএক্সপেক্টেড ছোট ছোট কিছু কথাও আমাদের মন ভাল করে দিতে পারে, সারাটা দিন একটা পজেটিভ ভাইব তৈরি করতে পারে মনের মধ্যে। কিন্তু, আমরা কথা শোনাতে যতটা ওস্তাদ, যতটা দোষ ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারি, ততটা পারি না হয়ত মন খুলে প্রশংসা করতে। মন খুলে গালি দেয়ার অভ্যাস অনেকের আছে, কিন্তু প্রশংসা করতে গেলেই মুখ দিয়ে কথা বেরোয় না। এটা আসলে আমাদের দোষ না। অভ্যাসের ব্যাপার। কয়েকটা প্রশংসাসূচক বাক্য বলি, এগুলো দিয়েই হোক না শুরু।

অপরিচিতদের জন্য

১। আপনার হ্যান্ডব্যাগটা খুব সুন্দর তো। (অপরিচিতদের শরীর নিয়ে সেটা যা-ই হোক উচ্চতা থেকে ওজন এগুলো নিয়ে কমেন্ট করা সভ্য লোকের কাজ না। তারচেয়ে বরং ওই মানুষগুলোর পছন্দের জিনিস যেমন জুতা, জুয়েলারি, হ্যান্ডব্যাগ ইত্যাদি নিয়ে প্রশংসা করতে পারেন।)

২। আপনার হাসিটা একদম নির্মল, এমনটা দেখা যায় না সচরাচর। (কাউকে শারীরিক কোনো ফিচার নিয়ে কথা বলতে হলে একমাত্র হাসি নিয়ে বলা যেতে পারে৷ কারণ, এটা তাদের মুখের তৃপ্তির হাসিকে আরো চওড়া করবে।)

৩। আপনি এই কাজটা এত ভাল পারেন কিভাবে? ( প্রতিদিন আমরা কত অপরিচিত লোকের সাথে দেখা করি। সেলুনের নাপিত থেকে রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি। একদিন এদের কাজকে প্রশংসা করেই দেখুন না এভাবে, যে হাসিটা দেখবেন সেটা একেবারে অমূল্য।)

৪। আজকের দিনে আমার শোনা সেরা কথাটা বললেন মাত্র আপনি! (কোনো বাচ্চা আপনাকে মজার কিছু বলেছে, বাসে / চায়ের দোকানে কেউ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শেয়ার করেছে আপনার সাথে, বন্ধু/কলিগ কিছু একটা বলেছে- তাদেরকে রিপ্লাইয়ে এই কথাটা বলে দেখুন। সম্পর্ক অন্যরকম সুন্দর হয়ে যাবে অল্পতেই।)

৫। আমার কি যে ভাল লাগছে আপনার সাথে পরিচিত হয়ে। (কারো সাথে মাত্র পরিচয় হলো? তাকে একটু গুরুত্ব দিয়ে যদি এই কথাটা বলে ফেলতে পারেন, এরপর থেকে আপনিই বেশি গুরুত্ব পাবেন তার তরফ থেকে!)

কর্মক্ষেত্রে পরিচিতজনদের জন্য

আমাদের কাজের জায়গাগুলোতে প্রতিযোগিতা থাকেই। কখনো কখনো ভেতরের ইগো প্রকাশ হয়ে যায়। কিন্তু কাজের জায়গায় আপনি যদি আপনার কলিগ, অধস্তন থেকে শুরু করে পরিচিতদের একটু প্রশংসা করেন, আপনার জন্য সেই কর্মক্ষেত্র মোটামুটি স্বর্গ হয়ে যাবে। যেমন-

১। লাস্ট মিটিংয়ে আপনার কথাগুলো দারুণ ছিল!

২। এত দারুণ দারুণ আইডিয়া আপনি পান কিভাবে বলেন তো!

৩। আপনি থাকলে কাজকর্মগুলো এত সুন্দর এগোয়!

৪। আপনি প্রজেক্টটা খুব সুন্দরভাবে শেষ করেছেন!

৫। যেভাবে পরিশ্রম করে কাজ করছেন, এবার প্রমোশনটা আপনিই বেশি ডিজার্ভ করেন!

৬। আপনার লিডারশিপ স্কিলের তুলনা নেই! এমন নেতৃত্বগুণ অনেকদিন দেখিনি..

বাবা-মা’কে

বাবা-মা’কে সরাসরি কখনো প্রশংসা করেছি, কারণ ছাড়া? আমি জানি মধ্যবিত্ত জড়তা অনেকসময় বোবা করে রাখে অনুভূতিগুলো। তবুও মুখে বলতে না পারলেও টেক্সট দিয়ে বাবা মা’কে এই কথাগুলো কিন্তু বলে ফেলাই যায়-

১। আমাকে জন্ম দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ মা।

২। বাবা আমি দেখেছি তুমি কতটা পরিশ্রম করেছো আমাদের জন্য, ধন্যবাদ তোমাকে।

৩। তুমি আমার জীবনে কত বড় রোলমডেল, বলতে পারিনি কখনো!

৪। সফলতার উদাহরণ, ধৈর্যের উদাহরণ খুঁজতে গেলে তোমার কথাই প্রথমে মনে আসে।

৫। আমার সন্তানের নামটা আমি তোমার নামে রাখতে চাই বাবা, তোমার মতোই সেরা হোক সে..

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে

বাচ্চাদেরকে কথা বলার ধরণটা সবসময়ই বিশেষভাবে ভাবতে হবে। আপনি কল্পনাও করতে পারেন না আপনার একটা কথা একটা ছোট বাচ্চার জীবনে কত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে৷ হয়ত আপনার একটা কথাই তার জীবনকে অনুপ্রাণিত করবে আবার সেই আপনারই একটা বদ কথায় তার মনে গভীর ক্ষত তৈরী হবে। ভেবে দেখবেন আর এই কথাগুলো বলবেন, ছোটদের।

১। তুমি বেশ ভালো… (বাচ্চারা সবসময়ই নতুন কিছু করতে চায় এবং সেটার ফিডব্যাক আশা করে। তাকে কখনো ডিমোটিভেট না করে বলতে হবে, ভালো হয়েছে, যথেষ্ট ভালো।) 

২। তুমি তো আমার চাইতেও ভাল পড়তে শিখে গেছো! বাহ! (যখন নতুন কিছু পড়তে শেখাবেন, তখন সে পারলে এই প্রশংসা করে দেখুন, টাইমিং ঠিক হলে নিজ থেকে আরো ভাল পড়ার চেষ্টা করবে নিশ্চিত।)

৩। তোমাকে আমার ফোনের ওয়ালপেলারে রেখেছি, দেখো! ( এটা তাকে স্পেশাল ভাবতে সাহায্য করবে, যেটা বেড়ে ওঠার জন্য জরুরি।)

৪। বাহ, এই কাজটা কিভাবে করলে তুমি! খুব সুন্দর হয়েছে। ( যে কাজই করুক, সেটার পজিটিভ দিকটা ভেবে এই কথাটা বলতে পারেন।)

৫। জামাটা তোমাকে খুব মানিয়েছে তো। (পোশাকের প্রশংসা করলে বোধহয় সবাই খুশি হয়, শিশুরাও এর বাইরে নয়।)

বন্ধুরা বাদ যাবে কেন?

যেসব বন্ধুরা সবসময় আপনার পাশে ছিল, আছে তাদের জন্য প্রশংসা আলাদা করতে হয় না বলে আমরা ভাবি। কিন্তু, মাঝে মধ্যে একদম আউট অব নো হোয়ার একটু প্রশংসা ঝেড়ে দিতে পারেন। অপ্রত্যাশিতভাবে খুশি হয়ে যাবে।

১। তুই এই পৃথিবীর জন্য উপহার..

২। যতবার তুই আমার খারাপ সময়ে পাশে ছিলি, প্রত্যেকবারের কথাই আমার বিশেষভাবে মনে আছে..

৩। আমার বন্ধু হবার জন্য ধন্যবাদ দিব না, ভালোবাসা জানিস সবসময়।

৪। তোর সাথে আড্ডা দেয়াটা জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে সবসময়..

৫। তুই না থাকলে জীবনটা চিরতার মতো বিষাদ হয়ে থাকত আমার…

৬। তুই একমাত্র যে আমাকে এতটা ভাল বুঝিস..

…আর ভালোবাসার মানুষ

প্রিয় মানুষ যাকে আপনি বিশেষ নজরে দেখেন তার জন্য তো সারাদিন কী প্রশংসা করবেন, সেটা মাথায় ঘুরতে থাকেই! তবে সব প্রশংসা কি সব সময় করে উঠতে পারেন? না পারলেও কিছু প্রশংসা কিন্তু করতেই পারেন.. 

১। আমার প্রিয় কালার কী, ঠিক বুঝি না। কাল তুমি হলুদ পড়লে বলে হলুদটাই ভাল লাগলো, আজ নীল রঙটা খুব লাগছে, নীল শাড়ি এত সুন্দর কেন!

২। তোমার হাসি দেখলে ঝকঝকে মুক্তার কথা মনে হয়…

৩। পিচ্চিগুলো তোমাকে যেমন ভালোবাসে, আমিও ঠিক ওরকমভাবে ভালোবাসি তোমায়…

৪। তুমি ঘরে প্রবেশ করলে ঘরটার আলো যেন একটু বেড়ে যায়, খেয়াল করেছো?

৫। ভাগ্যিস, তোমার সাথে দেখা হয়েছে! তা নাহলে কিছু একটা মিসিং মনে হতো সারাদিন…

এই বাক্যগুলো খুব সহজ, সিম্পল। এগুলোর অনেকগুলোই হয়তো মনে মনে বলি আমরা, মুখে ঠিক বলা হয়ে ওঠে না। কিন্তু মাঝেমধ্যে কিছু কিছু বলে ফেললে দেখা যাবে ফলাফল খারাপ আসে না, বরং অন্যের মুখে হাসি দেখলে নিজের মুডটাও ভাল হয়ে যায়। কারণ, যে কারোই হাসির কারণ হতে পারা খুব দারুণ ব্যাপার! তবে আর কী, আজ থেকে শুরু হয়ে যাক অল্প করে, প্রশংসা করার প্র‍্যাকটিস… 

 

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Back to top button