ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

এরা শুধুই শ্রমিক, তেরোজন ‘ঘুমন্ত’ ইটের ভাটার শ্রমিক!

রইস ভাই। আমাদের এলাকার বড় ভাই। আমরা সবাই তাকে সম্মান করি। অতি মানব দরদী। আমি টুকটাক লেখালেখি করি বিধায় তিনি আমাকেও খুব সমীহ করেন। দেখা হল তার সাথে এলাকার চায়ের দোকানে। আমার মনটা খারাপ ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করতেই কারণ বললাম।

“কী কইলেন! তেরো জন মরসে? হায় হায়.. তার মধ্যে আবার কয়জন কিশোরও আছে! খুবি খারাপ খবর!” তিনিও আমার মতো মন খারাপ করলেন। পরক্ষণেই কী মনে পড়তেই প্রশ্ন করলেন- “তারা কেউ কি ভি আই পি? কী, ইটভাটার শ্রমিক! ওওওও.. তাই বলেন..

কয়জন ইটের ভাটার শ্রমিকের জন্য এতো দরদের কিছু দেখি না কবি। দ্যাখেন, তারা কেউ কিন্তু রাষ্ট্রের প্রথম সারির নাগরিক না। তারা মরসে ট্রাক এক্সিডেন্টে, এক লাখ টাকা কমপেনসেশন হিসাবে পাইসে। ল্যাঠা তো এখানেই চুকে যায়! ক্যান বোঝেন না আপনি এইসব?”

আমি নির্বাক তার দিকে তাকিয়ে থাকি। এটা হত্যা, নাকি দুর্ঘটনা, সেই বিবেচনা নিরর্থক বুঝে যাই। গত ৭০০ দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ১০৯ জন নিহত হয়েছেন, এই খবরও চেপে যাই। চায়ের দোকান থেকে চলে আসি। রইস ভাইয়ের কাছ থেকে চলে আসি। আর মনে আত্মজিজ্ঞাসার খেলা চক্রবাকের মতো ঘুরতে থাকে.. ‘তাদের জন্য কি রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষিত হবে না? একজন দুজন তো নয়, তেরটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। তাদের নামে সড়কের নামকরণ করার প্রস্তাব জানাই না, এক মিনিট নীরবতা পালন করাও কি যাবে না? এলিজির দাবী জানাচ্ছি না, বাহুতে কালো ব্যান্ড পরে খেলতে নামবেন না কোন মানবদরদী খেলোয়াড়? নাকি ঘটনার কিচ্ছুটি জানেন না কেউ! জানার চেষ্টা করেছেন কখনো?’

কেন জানবেন? জানলেই বা কী করতে পারবেন? এরা তো আপনার আমার মতো অভিজাত শ্রেণি না। প্রথম সারির নাগরিক না। বিশেষ দাবীদার কেউ না। এরা এলিজির অযোগ্য। এরা শোকের অযোগ্য। এদের জীবনের দাম এক লাখ টাকা।

এরা শুধুই শ্রমিক। তেরোজন ‘ঘুমন্ত’ ইটের ভাটার শ্রমিক..

ফুটনোট: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় একটি ইটভাটার মেসে কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে পড়লে ১৩ জন শ্রমিক নিহত হন। ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button