ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

চামড়া ব্যবসায়ীরা চামারের মতো আচরণ করবেন না!

দেশের পাবলিক বিক্রেতা হিসেবে সবসময় ঠকবে সেটাই যেন নিয়তি। অদ্ভুত ঘটনা হলো, এই পাবলিকই আবার যখন কোন কিছু বিক্রি করতে যায়, হোক সেটা ধান কিংবা কোরবানির চামড়া, তখনোও তাদের ঠকতে হয়। কারণ সেই মুনফা। সে ফড়িয়াবাজ। সেই সিন্ডিকেট। আমি বলবো, কোরবানির চামড়ার দাম নিয়ে যা হচ্ছে সেটা রীতিমত ঘৃণার।

আমার মনে আছে, দুই যুগ আগে আগে চট্টগ্রামে আমাদের সরকারি কোয়ার্টারে সবচেয়ে বড় কোরবানি গরুটার দাম হতো বড়জোর ১৫ হাজার টাকা। সেই গরুর চামড়া তখন বিক্রি হতো ১৫০০ টাকায়। একজোড়া জুতার দাম তখন ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

২০ বছর পর আজকে চামড়ার একজোড়া জুতার দাম দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু লাখ টাকার গরুটার চামড়াও আজ তিনশ টাকায় বিক্রি হয় না! রাগ করে, লোকজন অনেকে বিনামূল্যে দেখছি এতিমখানায় চামড়া দিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু এতিমখানার লোকজনও ‌তো দাম পাবে না। অনেকে দেখলাম রাগ করে মাটির নিচে চামড়া পুতে ফেলার ঘোষণা দিচ্ছেন।

চামড়া সিন্ডিকেট, চামড়া ব্যবসায়ী,

আমাদের চামড়া ব্যবসায়ীরা নিশ্চয় জানেন, আসলেই যদি জনগণ চামড়া ফেলে দেয়া বা চামড়া নষ্ট করতে শুরু করে কী ভয়ানক বিপর্য়য় আসবে! কারণ দেশের চামড়ার সবচেয়ে বড় সরবরাহ আসে এই কোরবানি থেকে। যদি আসলে মানুষজন মুখ ফিরিয়ে নেয় পরিনতি কী হবে আপনারা ব্যবসায়িরা কী ভেবে দেখেছেন?

অন্যদের মতো আমিও বলবো, চামড়া খাতে যা ঘটছে সেটা শুধু দুষ্টলোকের সিন্ডিকেট নয়, বরং ভয়াবহ অনাচার। এই চামড়া শিল্পের কারণে পুরো বুড়িগঙ্গা মরেছে।

তারপরেও রপ্তানি আয়ের কথা ভেবে, সরকার ট্যানারি শিল্পের জন্য সাভারে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করে ট্যানারি পল্লি করেছে। ক্ষতিপূরণ, অনুদান,ঋণ সহযোগিতা, প্রণোদনা কতো কী দিচ্ছে তাদের!

চামড়া ব্যবসায়ীদের গত কয়েক বছরে বলতে দেখেছি, কাঁচা চামড়া রপ্তানি করা যাবে না। সব বাহিনী দিয়ে সীমান্ত বন্ধ করে দিতে হবে যাতে পাচার না হয়, এমন আরও কতো দাবি তারা করেছেন। অথচ সব যখন নিশ্চিত জণগনের সাথে তখন চলছে প্রতারণা।

চামড়া ব্যবসায়ীদের বলবো, জণগণ যদি ক্ষেপে গিয়ে চামড়া ফেলে দেয় বা নষ্ট করে সর্বনাশ কিন্তু আপনাদেরই হবে। আরেকটা কথা, দিনশেষে চামড়া বিক্রির টাকা লোকজন গরিব বা এতিমদের দেয়। সেটাও যদি আপনাদের সহ্য না হয়, দয়া করে জনগণকে বলেন, আপনারা চামড়া ব্যবসায়ীরা এতিম! জণগণ ভিক্ষা হিসেবে আপনাদের তা দিয়ে দেয়।

আমি নিশ্চিত, জনগণ ভিক্ষে হিসেবে এতিম মনে করে দিয়ে দেবে। কিন্তু দয়া করে চামারের মতো আচরণ করবেন না। জণসাধারণকে ক্ষেপাবেন না। তাদের অভিশাপ নেবেন না। তাহলে কিন্তু ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। আশা করছি আপনারা ভাববেন। আপনাদের বোধোদয় হবে।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button