রিডিং রুমলেখালেখি

গালভরা নিক নেম দিয়ে মাকাল ফলের চাষ আর কত দিন?

বুয়েটে ১৬ দফা দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো, শিক্ষক মূল্যায়ণ প্রোগ্রাম, অফিসিয়াল মেইল আইডি প্রদান, পরীক্ষার খাতায় রোলের বদলে কোড, যাবতীয় লেনদেনে ডিজিটাল পদ্ধতি, হলের অবকাঠামো উন্নয়ন- এই দাবিগুলো খুবই যৌক্তিক। সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই এই দাবিগুলো একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

এসব দাবি শিক্ষার্থীদের তুলতে হয় এটাই সবচেয়ে বড় ট্র‍্যাজেডি। প্রত্যেকটা দাবি মৌলিক এবং এগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবারই কথা ছিলো না। কিন্তু তাদের ভাবতে হয় এবং আন্দোলন করতে হয় এসব বিষয়ে- এটা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের জন্য লজ্জার। আবার আশা করা হয়, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে ভাল অবস্থায় থাকবে! এখন তো আরো দুর্দশা, আগে ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিংয়ে কেন নেই সেটা নিয়ে কথা হতো, এখন স্ট্যান্ডার্ড আরো নিচে নেমে গেছে। এখন এশিয়ার র‍্যাংকিংয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। 

এই বুয়েট, ঢাবি কিংবা দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইউরোপের সেরা সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ গেলে আমরা ক্রেডিট নেয়ার জন্য হামলে পড়ি। কেউ গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফটে চাকরি পেলে আমরা পাতায় লতায় সম্পর্ক খুঁজে অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন জানাতে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু যখন ওই এক দুইজনের নিজের যোগ্যতার কষ্টার্জিত অর্জনের ক্রেডিট নিয়ে আমরা বুঝাতে চাই- বাংলাদেশ ইজ ল্যান্ড অফ ট্যালেন্টস, ঢাবি বুয়েট কি দারুণ প্রতিষ্ঠান, তখনই সমস্যা!

জেনারালাইজ করা হয়ে যায়, কিন্তু বড় দাগে বলতে গেলে বলতে হয়, বাংলাদেশ ট্যালেন্ট ডেস্ট্রয়ার কান্ট্রি। সামাজিক কালচারটাই এখানে এমন যে এভারেজ গোল অর্জন করা সবচেয়ে চেরিশড বিষয় এবং এভারেজ জিনিস সেলিব্রেট করা সবচেয়ে প্রিয় কাজ মানুষের। আর দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু লোকের রাজনীতি আর গুটিবাজি করার জায়গা। 

আবার একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের গালভরা নিক নেম। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড, প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ, প্রাচ্যের মফিজ বাপরে বাপ! অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ছাত্রসংগঠন কি এমন আছে যাদের গড় বয়স ৪০ বছর? কোনো ছাত্রসংগঠন আছে যারা বলে, যুক্তি দিয়ে মুক্তি মিলে না? অক্সফোর্ডজুড়ে কি তিনশো প্রজাতির একশ একটা অকেজো বাম দল বিচরণ করে?

আসল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকদের গ্রুপ কি তিনবছর আগে থেকে টার্গেট করে কাকে তারা টিচার বানাবে, কাকে আচার বানাবে? অক্সফোর্ডের ছাত্র সংসদের নেতা কি অক্সফোর্ড থুইয়া সারা ইংল্যান্ড ঘুরে বেড়ায়? আসল অক্সফোর্ডে ম্যানার শেখানোর দায়িত্ব কি গেস্ট রুম নামক কোনো রুম নেয়? ওখানে কি ফার্স্ট ইয়ারের ছেলেরা আন্ধা কানার মতো রাস্তা দিয়ে যারে দেখে তারেই হাত দুইটা পিছমুড়া নিয়া স্লামালিকুম, স্লামালিকুম করে? অক্সফোর্ডে কি প্রশ্ন ফাঁস হয়? সেখানে কি রেজিস্টার ভবনে জমিদার প্রথা চলে? অক্সফোর্ড কি তথ্য উপাত্ত জনিত সমস্যার কারণে র‍্যাংকিং থেকে দিন দিন পিছায় পড়ে?

লজ্জা করে না কারো?

Facebook Comments

Tags

ডি সাইফ

একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব....

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button