খেলা ও ধুলা

একজন রোনালদো-কোহলি কিংবা নাসিরের গল্প

একবার ব্রিটিশ এক রেডিও চ্যানেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এক এক্স গার্লফ্রেন্ড এসেছিল (নাম ভুলে গেছি)। যেহেতু ক্রিশ্চিয়ানোর গার্লফ্রেন্ড ছিল, তাই ইন্টারভিউর অনেকটা অংশই ছিল ক্রিশ্চিয়ানো সংক্রান্ত৷ সেখানে তিনি বলছিলেন, 

ক্রিশ্চিয়ানোকে ডেট করাটা কিঞ্চিৎ বোরিং। তাদের ফার্স্ট ডেট ছিল ক্রিশ্চিয়ানোর বাসায়। সেরাতে ক্রিশ্চিয়ানো তাকে চা অফার করেছে আর কিছুক্ষণ নেটফ্লিক্স দেখেছে। রাত ১১ টার মধ্যে সে ঘুমাতেও চলে গেছে। কারণ নেক্সট ডে ট্রেনিং আছে। আর সে কোনভাবেই ট্রেনিং এ লেট হবে না।

ক্রিশ্চিয়ানোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবমেট এভরা কিছুদিন আগে এক ইন্টার্ভিউতে বলেছিলেন, 

“ক্রিশ্চিয়ানো কাউকে বাসায় দাওয়াত দিলে সেখানে না যাওয়াটাই ভালো। একবার আমাদের ট্রেনিং শেষে আমাদের তার বাসায় নিয়ে গেছে খাবার জন্য৷ কিন্তু টেবিলের খাবার দেখে আমি হতাশ ছিলাম। সেখানে সেরকম কোন মিট আইটেমও ছিল না। আমার প্রচন্ড ক্ষুধা ছিল৷ আমি তখনো খাচ্ছিলাম কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো বললো তার খাওয়া শেষ। সে বললো চল আমরা সুইম করি , সুইম শেষে আবার বললো চলো আমরা টু টাচ প্রেক্টিস করি। আমার মনে হচ্ছিল যেন ট্রেনিং শেষে আবার ট্রেনিং করতে চলে আসছি।”

ডেডিকেশন, বিরাট কোহলি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নাসির হোসেন

ভিরাট কোহলি একবার তার ইন্টার্ভিউতে বলেছেন তাকে কোনভাবেই রাত ১০টার পর জাগিয়ে রাখা যায় না। ১০টার মধ্যে তিনি বিছানায় চলে যান। তার মতে লাইফ এরকম রুটিনে না আসলে ফিট থাকবে কি করে। সেখানে সোশাল মিডিয়া নিয়ে বলছিলেন, তিনি সোশাল মিডিয়াতে এত এক্টিভ না। আর সোশাল মিডিয়ার কমেন্টস চেক করার তো প্রশ্নই আসে না। উদাহরণ হিসেবে বলছিলেন, 

“ধরেন একদিন আমি হান্ড্রেড করলাম সোশাল মিডিয়ায় এসে দেখলাম সবাই আমার প্রশংসা করছে। নেক্সট ম্যাচেই আবার দেখা যাবে আমি শূন্য রানে আউট হলাম৷ এবার দেখলাম আগেরদিন যারা ভিরাট অসাধারণ বলছিল সেই আজ গালি দিচ্ছে। আমার মন তখন ঐ একজনের পিছনে চলে যাবে। নেক্সট ম্যাচ থেকে দেখা যাবে যে আমাকে গালি দিয়েছে তার কাছে নিজেকে প্রুভ করতে তার প্রশংসার জন্য খেলতে নেমে যাবো। যেটা আমার ন্যাচারাল গেমকে ডিস্ট্রাক্ট করবে।”

এই দুজন আমাদের দেশের সবচেয়ে হেটেড স্পোর্টস সুপারস্টারের গল্প। এগুলো গেমটার প্রতি এদের ডেডিকেশনের গল্প। তাদের সেক্রিফাইসের গল্প। এদের আপনি যতই হেট করেন তাতে তাদের কিছুই যায় আসে না। তারা গেমটা ভালবাসে সেখানেই কমিটেড৷ এদের মাঠের ব্যবহার সংবাদ শিরোনাম হতে পারে, সমালোচনা হতে পারে কিন্তু কখনো এরকম কোন শিরোনাম হবে না যে কেউ লেট ট্রেনিং এসেছে, সুপারস্টার হয়ে গেছে বলে সবকিছু গ্রান্টেড নিয়ে নিয়েছে- এরকমটাও শোনা যাবে না কখনো। তাই এখনো ট্রেনিংয়ে সবার আগে আসা প্লেয়ারটার নাম ক্রিশ্চিয়ানো আর ইন্ডিয়ান টিমে ফিটনেস টেস্টে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট তোলা প্লেয়ারটার নাম বিরাট কোহলি। আর আপনি আমি তাদের অতিমানবীয় পারফর্মেন্সে হিংসা করেই যাবো। 

ডেডিকেশন, বিরাট কোহলি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নাসির হোসেন

এবার আমাদের প্লেয়ারদের কথা চিন্তা করুন তো তাদের এরকম ডেডিকেশনের এরকম গল্প পাবেন না। এজ লেভেলে আমাদের টিম প্রায় সময় সবচেয়ে ট্যালেন্টেড থাকে, কিন্তু সিনিয়র টিমে এরা সবাই হারিয়ে যায়। এরা কিছুদিনের মধ্যে স্টার স্ট্যাটাস পেয়েই গেমটা ভুলে গিয়ে বাকি সবকিছু শুরু করে দেয়৷ একেকজন পার্টি এনিমেল হয়ে যায়। ২০১১ সালে বিশ্বকাপের পর নাসির হোসেন জাতীয় দলের রাডারে ছিল৷ জাতীয় দলে আসি আসি করছিল৷ তখন এক ইন্টার্ভিউতে বলেছিল, “এখনই ন্যাশনালে আসতে হবে তা না। প্রয়োজনে আর দুই বছর পর আসি। কিন্তু যখনই আসি এক টানা যেন ১০ বছর খেলতে পারি এমনভাবেই আসতে চাই…” 

ডেডিকেশন, বিরাট কোহলি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নাসির হোসেন

কিন্তু সেই নাসির হোসেন তার নিজের দোষেই জাতীয় দলে আসার তিন বছর পর থেকেই জাতীয় দলে অনিয়মিত। নাসির, আপনার মানসিকতা যখন অস্ট্রেলিয়ায় আপনার গেমপ্ল্যান থেকেও আপনার গার্লফ্রেন্ডের জন্য ডিলডো (না জানলে গুগল করে নিয়েন) আনা ইনপোর্টেন্ট হয় বেশি, তখন আপনি কেন জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। কি বলেছিলেন টিভি ইন্টার্ভিউতে এসে? “পার্সোনালি ভিরাটকে আমি পছন্দ করি না”।

আপনি যখন দলের বাহিরে, ভিরাট তখন তার দল নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০১৯ বিশ্বকাপ ভিরাট জিততে যাবে, আর আপনি নিজেও জানেন না দলে থাকবেন কিনা। আশা করি পার্থক্যটা বুঝতে পেরেছেন।

Facebook Comments

Tags

Related Articles

Back to top button